অস্ট্রিয়ায় ৩০ অক্টোবর থেকে শীতকালীন সময়

শনিবার ২৯ অক্টোবর দিবাগত রাত ৩ টায় ঘড়ির কাঁটা ঘুরিয়ে ২ টা করে হবে

 কবির আহমেদ,  অস্ট্রিয়াঃ আজ রাতে অর্থাৎ রবিবার (৩০ অক্টোবর) নিয়মমাফিক পরিবর্তন করা হবে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ঘড়ির সময়। রাত ৩টা থেকে এক ঘণ্টা পিছিয়ে আনা হবে ঘড়ির কাঁটা। অর্থাৎ রাত ৩টায় ঘড়ির কাঁটা ২টায় ফিরিয়ে নিয়ে আনা হবে।

সেন্ট্রাল ইউরোপিয়ান টাইম জোন অনুসরণ করে অস্ট্রিয়া,ইতালি, জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেন, হাঙ্গেরি, স্লোভেনিয়া, পোল্যান্ড,বেলজিয়াম, নরওয়ে, সুইডেন, ডেনমার্কসহ ইউরোপের বেশির ভাগ দেশে আসবে এই পরিবর্তন। এক ঘণ্টা সময় পরিবর্তন করার ফলে বাংলাদেশের সঙ্গে দেশগুলোর সময়ের ব্যবধান হবে পাঁচ ঘণ্টা, যা এত দিন ছিল চার ঘণ্টা।

এ ছাড়া সারা পৃথিবীতে সময় নির্ণয়ের জন্য প্যারামিটার হিসেবে পরিচিত “গ্রিনউইচ মিন টাইম” বা জিএমটির সঙ্গে ইউরোপের সেন্ট্রাল দেশগুলোর সময়ের ব্যবধান এক ঘণ্টায় এসে পৌঁছাবে, যা সবসময় এক ঘণ্টায় হয়।

অন্যদিকে রোমানিয়া, বুলগেরিয়া, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, বেলারুশ, ইউক্রেন, গ্রিস অর্থাৎ পূর্ব ইউরোপিয়ান টাইম জোনে থাকা দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সময়ের পার্থক্য হবে চার ঘণ্টা। গ্রিনউইচ মিন টাইম বা জিএমটির সঙ্গে এখন থেকে পূর্ব ইউরোপিয়ান টাইম জোনে থাকা দেশগুলোর সময়ের পার্থক্য দুই ঘণ্টা হবে। আর এখন থেকে যুক্তরাজ্য ও পর্তুগালের সঙ্গে বাংলাদেশের সময়ের পার্থক্য হবে ছয় ঘণ্টা যা এত দিন ছিল পাঁচ ঘণ্টা।

১৯১৬ সালে জার্মানি প্রথম সময় পরিবর্তন শুরু করে। ১৯৭৬ সালে ফ্রান্স প্রথম ইউরোপীয় দেশ হিসেবে তা চালু করে। ১৯৭০ এর দশকের শেষ দিকে অধিকাংশ ইউরোপীয় দেশে তা চালু হয়। ১৯৯৬ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো তা আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করে।

উল্লেখ্য, প্রত্যেক বছরের মার্চ মাসের শেষ রোববার ও অক্টোবর মাসের শেষ রোববার (শনিবার রাতে) দুবার ইউরোপের দেশগুলো তাদের সময়ের পরিবর্তন ঘটায়। ১৯৯৬ সাল থেকে ইউরোপের দেশগুলোতে সময় পরিবর্তনের বিষয়টি শুরু হয়। তখনকার সময় ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের এক অধিবেশনে সদস্য রাষ্ট্রগুলো সম্মিলিতভাবে ঘড়ির কাঁটার পরিবর্তনের বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করে।

এ কারণে প্রত্যেক বছরের মার্চ মাসের শেষ রোববার ঘড়ির কাঁটাকে এক ঘণ্টা এগিয়ে নেওয়া হয়, যাকে ‘সামার টাইম’ বলা হয়। আবার অক্টোবর মাসের শেষ রোববার ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পিছিয়ে আবার মূল সময় ধারায় ফিরিয়ে আনা হয়, যা ‘উইন্টার টাইম’ হিসেবে পরিচিত। ইতালিয়ানরা এই প্রক্রিয়াকে লিগালো অরা (উপহার ঘন্টা) বলে ডেকে থাকে।

 28,356 total views,  1 views today