ভিয়েনায় জাকজমক ও দর্শকবিহীন অবস্থায় অস্ট্রিয়ার জাতীয় দিবস পালিত !

আজ অস্ট্রিয়ায় নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ২,৪৫৬ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ১৩ জন

 অন লাইন ডেস্ক থেকে,কবির আহমেদঃ প্রতি বৎসর ২৬ অক্টোবর “অস্ট্রিয়ার জাতীয় দিবস” রাস্ট্রপতির প্রাসাদ হোফবুর্গের সামনে জাকজমক পরিবেশে শতাধিক ভিআইপি এবং হাজার হাজার সাধারণ দর্শকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল। কিন্ত করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধির জন্য এই বৎসর শুধুমাত্র ক্ষুদ্র আঙ্গিকে করা হয়েছে। আজকের এই অনুষ্ঠানে অস্ট্রিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভ্যান ডের বেলেন,চ্যান্সেলর সেবাস্তিয়ান কুর্জ,প্রতিরক্ষামন্ত্রী ক্লাউডিয়া ট্যানার,ভিয়েনার মেয়র মিখাইল লুডভিগ এবং কয়েকজন উচ্চ পদস্থ সামরিক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। প্রতি বৎসর জাতীয় দিবসে নতুন সৈনিকদের রিক্রুট করা হয় এবং নতুন সৈনিকরা প্রেসিডেন্টকে স্যালুট প্রদান করেন। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে কয়েকটি ইউরো ফাইটার হেলডেন স্কোয়ারের উপর দিয়ে উড়ে যায় কিন্ত কুয়াশা ও মেঘাচ্ছন্ন আকাশের কারনে কেহই দেখতে পান নি, শুধুমাত্র বিকট আওয়াজ শুনতে পেয়েছেন।

এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে অস্ট্রিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভ্যান ডের বেলেন, আমরা বর্তমানে এক সঙ্কটময় মুহুর্ত অতিক্রম করছি। “আগামী কয়েক মাস আমাদের সবার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। ফেডারেল রাষ্ট্রপতি সবাইকে একতাবদ্ধ হয়ে এক সাথে এক নৌকায় উঠে সমুদ্রের ঢেউয়ের মোকাবিলা করার আহবান জানিয়েছেন।

অস্ট্রিয়ার সরকার প্রধান চ্যান্সেলর সেবাস্তিয়ান কুর্জ তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন,বর্তমানে করোনা মহামারীর কারণে অস্ট্রিয়া দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছে। তিনি দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পর বিধ্বস্ত দেশকে পুনর্নির্মাণে দেশের পূর্ব পুরুষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

আমরা বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বড় সংকটের মধ্যে রয়েছি। এটি একটি “আসল চ্যালেঞ্জ”, কুর্জ বলছিলেন। করোনার জন্য আমরা গত ৮ মাস যাবৎ এক অস্থির পরিবেশের মধ্যে বসবাস করে আসছি। প্রায় দুই মাসের লকডাউন থেকে উঠে আমরা পুনরায় পুনর্গঠন শুরুর সাথে সাথেই করোনার এই দ্বিতীয় তরঙ্গে ফলে আমাদের অর্থনীতিকে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ করছে। আমাদের ব্যক্তিগত জীবনকেও ব্যপকভাবে সীমাবদ্ধ করে তুলেছে।

করোনার প্রথম প্রাদুর্ভাবে আমরা সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে অনেকটাই সাফল্যের সাথে বেড়িয়ে আসতে পেরেছিলাম। এখন আমাদের সামনে পুনরায় কঠিন সময় সমাগত। ৩৩ বৎসর বয়সী অস্ট্রিয়ার সরকার প্রধান পুনরায় জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার অনুরোধ করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সবাই যদি যথাযথভাবে করোনার নতুন বিধিনিষেধ মেনে চলে তাহলে অস্ট্রিয়ায় দ্বিতীয়বারের মত লকডাউন প্রতিরোধ করে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। পরে তিনি অবশ্য বলেন,করোনার কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের পরও যদি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বিস্তার হ্রাস না পায়,তখন বাধ্য হয়ে আমাদের লকডাউনে যেতে হবে।

অস্ট্রিয়ায় এই পর্যন্ত করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৮৩ হাজার ২৬৭ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ৯৯২ জন। করোনার থেকে আরোগ্য লাভ করেছেন ৫৯,০৩৬ জন। বর্তমানে করোনার সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ২৩,২৩৯ জন। এর মধ্যে ক্রিটিক্যাল অবস্থার মধ্যে আছেন ১৮৮ জন এবং হাসপাতালে ভর্তি আছেন ১,৩৩০ জন। বাকীরা নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন।

 10,079 total views,  1 views today