লালমোহন সাতদরুন বিলের শতশত একর চাষকৃত আমন ধানের ধানের জমি জলাবদ্ধ হয়ে পঁচে যাচ্ছে, “কৃষকের মাথায় হাত”

 জাহিদুল ইসলাম দুলাল, লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধিঃ ভোলার লালমোহনের কৃষকদের প্রধান আয়ের উৎস ধান চাষ। কিন্তু এবছর দীর্ঘ বর্ষার কারনে আমনের বীজতলা পানিতে তলিয়ে বীজ নষ্ট হওয়ায় কৃষকরা দেরিতে তাদের জমিতে আমনের চারা রোপন করেছে , চারা রোপন করার পর থেকে একটানা ভাড়ী বর্ষনে আমনের জমিতে পানি জলাবদ্ধ হয়ে কৃষকের রোপনকৃত আমন ধানের চারা পঁচে যাচ্ছে এতে হতাশ হয়ে পড়েছে হাজারো কৃষক।

সরেজমিনে কৃষকের অভিযোগ সূত্রে জানাযায় , উপজেলার রমাগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী বৃহৎ সাতদরুন বিল এ বিলটি বেতুয়ার খাল সংলগ্ন (সাবেক বেতুয়া নদী ) হওয়ায় এখানকার চাষকৃত জমিনের বৃষ্টির পানি বেতুয়ার খালের মাধ্যমে অপসারিত হওয়ার কথা থাকলেও এ খালটিতে অবৈধ বিহন্দি জাল, বের জাল ও খুছি জাল বসিয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে রাখা হয়েছে এবং বসানো জালের কারনে ওই খালের জোয়ার ভাঁটা বন্ধের পথে, অপসারন হতে পারে না বেতুয়ার দু‘কূলের চাষকৃত জমির পানি । এ বেতুয়ার খালের রমাগঞ্জে , ধলীগৌরনগর ও লর্ডহাডিঞ্জ ইউনিয়নের মধ্যবর্তী রায়চাঁদ বাজার থেকে উত্তর দিকে আজাহার রোড ও চতলা বাজার ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় শতাধিক অবৈধ জাল দিয়ে দখল করে আছে এ খালটি।                     

দীর্ঘদিবছর ধরে অবৈধ দখলের কারনে কিছু অসাধু সার্থন্বেশী ব্যক্তি এ খালে মাছ শিকার করে তাদের অবৈধ ক্ষমতার দাম্ভিকতায় একক সার্থ হাসিল করে যাচ্ছে। আর বেতুয়ার জোয়ার ভাঁটায় প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হওয়ার কারনকে দায়ী করেছেন স্থানীয়রা , রমাগঞ্জের বৃহৎ সাতদরুন সহ একাধিক বিলের শতশত একর চাষকৃত আমনের চারা জলাবদ্ধ হয়ে পঁচে যাচ্ছে এতে বেস্তে যেতে বসেছে কৃষকের সোনালী স্বপ্ন। আবার শুষ্ক মৌসুমে ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর আবর্জনা মিশ্রিত পানির দুর্গন্ধকেও হার মানায় এ বেতুয়ার পানি। দু কুলের মানুষ ও পথচারীরা নাক বন্ধ করে হাটতে হয় এখানে দিয়ে। সরেজমিনে গিয়ে যানাযায় ,, এ খাল দিয়ে এক সময় লঞ্চ, স্টিমার, বোর্ট, ট্রলার ও গহনা যাতায়াত করত, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ব্যাবসায়ীরা তাদের সকল ধরনের মালামাল এ বেতুয়া খাল (সাবেক নদী) দিয়ে আনা নেওয়া করত কিন্তু দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে অবৈধ জালের কারনে জোয়ার ভাটার পানি চলাচলে বাঁধার সৃষ্টি হওয়ায় ভাসমান কচুরিপানাগুলো চলাচল না করতে পারায় এখন গজিয়ে ওঠে স্থায়ীভাবে আবাদ হয়ে উঠছে বেতুয়া খালে, কিছু স্থানে কচুরিপানা মারা গিয়ে পঁচে জলাবদ্ধকৃত পানি দুর্গন্ধময় হয়ে দু কুলের বসবাসরত জনসাধারণ বিভিন্ন রোগে ভূগতেছেন বাড়ছে বিভিন্ন প্রজাতির মশা।

বিশ্বব্যাপী মহামারী করোনা ভাইরাসের কারনে মানুষ আতংকে রয়েছে এমনকি বেতুয়ার খালের জলাবদ্ধতা সৃষ্টি, কচুরিপানা পঁচে মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ায় বিভিন্ন রোগবালাই নিয়ে সংঙ্কিত দু কুলের বসবাসরত বাসিন্দারা। এছাড়া প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও বর্ষা মৌসুমে বেতুয়ার দু’ কূলের শত শত একর ফসলী জমি, ধানের বীজতলা এবং বসতি বাড়ী,বাগান, মাছের ঘের, পুকুর পানির নিচে তলিয়ে থাকতে দেখা গিয়েছে । আষাঢ় মাস হলো কৃষকের আমন ধানের বীজ বপনের পুরো সময় কিন্তু দীর্ঘ দিন যদি ভারী বর্ষন হয় তাহলে ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়, এবং মস্য চাষীদের লক্ষ লক্ষ টাকার চাষকৃত মাছের ক্ষতি হয়ে থাকে। বেতুয়ার খালের অবৈধ জালের কারনে জোয়ার -ভাঁটায় পানি চলাচলের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীর।

সূত্রে জানায়, এ বেতুয়া খালের দু কুলে হাজারো কৃষক বিভিন্ন প্রকার ধান চাষ,সবজি চাষ, রবি শষ্য সহ হরেক রকমের চাষাবাদ করে আসছে। এবং সরকার এ খালে প্রতি বছর উপজেলা মৎস্য অফিস কর্তৃক বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করে থাকেন , কিন্তু কিছু অসাধু ব্যক্তি কর্তৃপক্ষের চোখে বৃদ্ধাঙ্গলী দেখিয়ে এ খালে অবৈধ জাল বসিয়ে ওই অবমুক্ত করা মাছের পোনা অবাধে নিধন করে যাচ্ছেন যা সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করছেন এবং কৃষক সহ বসবাসরত শত শত পরিবারের দাবী এ খালের জোয়ার ভাটার পানি অবৈধ জাল থাকার কারনে চলাচল করতে পারেনা এবং জমিনের পানি সরতে পারছে না । স্থানীয় সচেতন মহল ও কৃষকরা বিভিন্ন দপ্তরে গণস্বাক্ষর যুক্ত আবেদন করবেন বলে জানিয়েছেন।                      

এলাকাবাসীর দাবী কর্তৃপক্ষ যেন বেতুয়া খালের সকল প্রকার অবৈধ শত শত জাল অপসারনের ব্যাপারে যথাযথ ব্যাবস্থা গ্রহন করেন। রমাগঞ্জ ইউনিয়নের দায়িত্বি থাকা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মেহেদী হাসান সুমন বলেন ,সাতদরুন বিল ও আন্ধাখালী বিল সহ আরও অনেক বিল জলাবদ্ধ হয়ে আমন ধান সহ বিভিন্ন প্রকার সষ্য নষ্ঠ হচ্ছে আমি শুনেছি এ বিষয়ে আমি লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি কৃষকদেরকে । এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস এম শাহাবুদ্দিন বলেন, উপজেলার অনেক বিল রয়েছে জলাবদ্ধ হয়ে আছে জমিনের পানি নামার বা যাতায়াতের স্লুইসগেটগুলো ও বক্সকালভার্ট গুলো প্রায় বন্ধ রয়েছে সে কারনেই এ জলাবদ্ধতা। তবে উপরিউক্ত বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার বা উপজেলা চেয়ারম্যান কে লিখিত ভাবে জানালে এবং আমাকে লিখিত কপি দিলে আমি তাদের সাথে পরামর্শ করে যথাযত ব্যাবস্থা নিব। 

 9,000 total views,  1 views today