রাজনৈতিক দলের কমিটিতে এক-তৃতীয়াংশ নারীকে সম্পৃক্তকরণের সময় সীমা বেঁধে দেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান

 বাধন রায়,ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ ঝালকাঠির নলছিটিতে রাজনৈতিক দলের কমিটিতে এক-তৃতীয়াংশ নারীকে সম্পৃক্তকরণের সময় সীমা বেঁধে দেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান। সকাল ১১টায় উপজেলা চত্ত্বরে নারী উন্নয়ন ফোরাম ও অপরাজিতা নেটওয়ার্কের যৌথ উদ্যোগে ‘রাজনৈতিক দল নিবন্ধন আইন-২০২০’-এ রাজনৈতিক দলের কমিটিতে এক-তৃতীয়াংশ নারীকে সম্পৃক্তকরণের সময় সীমা বেঁধে দেওয়া এবং জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিটিতে নারীর অংশগ্রহণ এবং অগ্রগতি কতটুকু হলো তার হালনাগাদ প্রতিবেদন নির্বাচন কমিশনকে প্রদান বিষয়গুলি অন্তভুক্তির জন্য মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।মানববন্ধন শেষে নলছিটি উপজেলা নারী উন্নয়ন ফোরাম ও অপরাজিতা নেটওয়ার্কের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

মানববন্ধন শেষে নারীদের একটি দল নলছিটি উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব সাখাওয়াৎ হোসেন এবং জনাব শারমিন আফরোজ, উপজেলা নির্বাচন অফিসার এর নিকট স্মারকলিপি পেশ করেন। 

পরবর্তীতে উপজেলা আওয়ামীলীগ’র সভাপতি জনাব মো: তসনিম উদ্দিন চৌধুরী, বিএনপি’র সভাপতি জনাব মো: হেলাল খান,জাতীয় পার্টি’র সভাপতি জনাব আ: জলিল গাজী নিকট স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

মানববন্ধনে নলছিটি উপজেলা নারী উন্নয়ন ফোরামের সভাপতি ও উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান মোর্শেদা লস্কর-এর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তৃতা করেন নলছিটি উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ সিদ্দিকুর রহমান,নাজনীন আক্তার, সামীমা বেগম, কাজল বেগমসহ অপারাজিতারা। মুল প্রবন্ধ পাঠ করেন দিলরুবা বেগম। 

বক্তরা বলেন, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২ (সংশোধন-২০০৯) অনুচ্ছেদ ৯০বি অনুযায়ী রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটিসহ সকল কমিটিতে ৩৩% নারীর প্রতিনিধিত্ব ২০২০ সালের মধ্যে নিশ্চিত করার কথা ছিলো। কিন্তু অত্যান্ত দুঃখের বিষয় যে ১০ বছর পার করেও আশাপ্রদ অগ্রগতি না হওয়ায় গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের বাধ্যবাধকতার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিতে নিবন্ধিত ৪৪ টি রাজনৈতিক দলের কাছে চিঠি দেয় এবং ‘রাজনৈতিক দল নিবন্ধন আইন-২০২০’ নামে পৃথক আইন নির্বাচন কমিশন অনুমোদন দিয়েছে যেখানে রাজনৈতিক দলের সকল কমিটিতে ৩৩% নারী থাকার কথা থাকলেও তা কবে নাগাদ পূরণ হবে তা সুর্নিদষ্ট করা হয়নি। নির্বাচন কমিশন এই আইনটি সম্প্রতি মন্ত্রীপরিষদের সুপারিশর জন্যপাঠিয়েছে। বাংলাদেশে নারীরা যখন এগিয়ে যাচ্ছে, তখন এই ধরনের সিদ্ধান্ত নারীদের আবার পিছিয়ে দেওয়ার সামিল। যেখানে নারীর সরাসরিভোটে অংশ নেওয়ার সুয়োগ হয়েছে, সেখানে নারীরা ভালো করেছেন। আরপিও’র বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়া হলে সব জায়গায় নারীদের অংশগ্রহণ আরো কমে যাবে। দেশে ৫১শতাংশ ভোটার নারী, তাদের প্রতিনিধিত্ব ছাড়া দেশের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব হবে না।

প্রসঙ্গত রূপান্তর ঝালকাঠি জেলার ০৩ টি উপজেলার ২৬ টি ইউনিয়নে সুইস এজেন্সী ফর ডেভেলপমেন্ট এন্ডকো-অপরারেশনের সহযোগিতায় ও হেলভেটাস সুইস ইন্টারকোআপারেশনের তত্ত্বাবধানে অপরাজিতা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। তারই ধারাবাহিকতায় উপজেলা নারী উন্নয়ন ফোরাম ও অপরাজিতা নেটওয়ার্ক একযোগেঝালকাঠি জেলার নলছিটি ও রাজাপুর উপজেলায় এই মানববন্ধন ও স্মারকলিপির প্রদান করে। 

 

 9,856 total views,  1 views today