পদক্ষেপ বাংলাদেশের সাত দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক ইলিশ,পর্যটন ও উন্নয়ন উৎসব

 রিপন শান,ব্যুরো চিফ বরিশালঃ বৈচিত্র্যময় কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় পদক্ষেপ বাংলাদেশ প্রতিবছরের মতো এবারও ঢাকা, চাঁদপুর, সিলেট, খুলনা ও কক্সবাজারে সাত দিনব্যাপী আয়োজন করছে আন্তর্জাতিক ইলিশ, পর্যটন ও উন্নয়ন উৎসব ২০২০।

২১ নভেম্বর শনিবার, বিকাল ৪টায় ঢাকাস্থ হোটেল পূর্বাণী ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের দিলকুশা হলে মহামান্য রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র শুভেচ্ছা বাণী পাঠের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ইলিশ, পর্যটন ও উন্নয়ন উৎসব ২০২০-এর কার্যক্রম শুরু হয়।                   

 উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এমপি বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে ‘পদক্ষেপ বাংলাদেশ’ স্বীয় সংস্কৃতিকে সারাবিশ্বে তুলে ধরতে একের পর এক করে চলেছে অসংখ্য আয়োজন। প্রতিবারের ন্যায় এবারও তারা আয়োজন করেছে ‘আন্তর্জাতিক ইলিশ, পর্যটন ও উন্নয়ন উৎসব’। তবে মহামারি নভেল করোনা ভাইরাসের এই ক্রান্তিকালেও যে তারা যথোপযুক্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে উৎসবটি আয়োজন করেছে তা সত্যিই আমাকে মুগ্ধ করেছে। আয়োজিত এই উৎসবটির মাধ্যমে তারা বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে চলা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মৎস্যখাত বিশেষ করে ইলিশ, পর্যটন এবং যাবতীয় উন্নয়নের বার্তা তুলে ধরছে সর্বস্তরের মানুষের কাছে।                                         

আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে পদক্ষেপ বাংলাদেশ-এর উপদেষ্টা ও উৎসব সভাপতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-এর চেয়ারম্যান  অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালনকারীদের সংগঠন ‘পদক্ষেপ বাংলাদেশ’ আয়োজিত ‘আন্তর্জাতিক ইলিশ, পর্যটন ও উন্নয়ন উৎসব’টি বরাবরই ব্যতিক্রম একটি আয়োজন। উৎসবটিতে থাকে আমাদের শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির পূর্ণ ছোঁয়া। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে জন্ম নেয়া স্বাধীন বাংলাদেশের যুদ্ধবিধ্বস্ত অবস্থান থেকে তাঁরই সুযোগ্য কন্যার নেতৃত্বে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে এ যেনো এক বন্ধুর পথ পাড়ি দেওয়ার ইতিহাস। সেই ইতিহাসের অংশীদারিত্বে ‘পদক্ষেপ বাংলাদেশ’-এর জয়গান। 

ইলিশ উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের রোল মডেল, পর্যটন সক্ষমতায়ও আমরা এগিয়ে। বেসরকারীভাবে সামাজিক-সাংস্কৃতিক একটি সংগঠনের এই আয়োজনের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। উৎসবে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সভাপতি বাদল চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য আদিবা আনজুম মিতা এমপি, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, হাবিবুর রহমান বিপিএম (বার), পিপিএম (বার), ডিআইজি (ঢাকা রেঞ্জ), বাংলাদেশ পুলিশ, বাংলাদেশ কাস্টমসের অতিরিক্ত কমিশনার অরুণ কুমার বিশ্বাস।

উৎসবের দ্বিতীয় দিন ২২ নভেম্বর রবিবার সকাল ১১টায় প্রধান অতিথির বক্তব্যের আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী বলেন, করোনার এই মহামারি কালেও এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে একটি পর্যটনবান্ধব দেশ গড়ে তুলতে বঙ্গবন্ধু কন্যা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার নানাবিধ কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য পর্যটন খাতে উদ্যোক্তা হওয়ার অবারিত সুযোগ। তিনি আরও বলেন, সামাজিক-সাংস্কৃতিক একটি সংগঠন হিসেবে সরকারের পাশাপাশি বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য-সংস্কৃতি এবং পর্যটন শিল্পের বিকাশ ও উন্নয়নে ‘পদক্ষেপ বাংলাদেশ’ যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে তা প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয়।                       

বিশেষ অতিথি ছিলেন সৈয়দা রুবিনা আক্তার মীরা এমপি, পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান রামচন্দ্র দাস, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সিইও জাবেদ আহমেদ, টোয়াকের সভাপতি তোফায়েল আহমদ প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন পদক্ষেপ বাংলাদেশের সভাপতি বাদল চৌধুরী।   অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ‘আন্তর্জাতিক ইলিশ, পর্যটন ও উন্নয়ন উৎসব’ এর প্রধান সমন্বয়কারী ও  সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জান্নাতুন নিসা।

 9,124 total views,  1 views today