চরফ্যাশনে গ্রামপুলিশের যাতায়াত ভাতায় ভাগ বসিয়ে ফেঁসে যাচ্ছে মনির

 মোঃ তরিকুল ইসলাম,চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধিঃ চরফ্যাশন গ্রামপুলিশের যাতায়াত ভাড়ায় ভাগ বসিয়ে অবশেষে ফেঁসে যাচ্ছেন চরফ্যাশন ইউএনও অফিসের স্থানীয় শাখার সহকারী মনির আলম।ইউএনও  কার্যালয়ের অফিস সহকারী মনির আলম ১৯৯৫ থেকে দীর্ঘ ২৩ বছর যাবত চরফ্যাশন উপজেলায় চাকরি করছেন।

এরইমধ্যে পার্শ্ববর্তী উপজেলা লালমোহনে বদলি হয়ে বছর খানেক চাকরি করেন । তারপরে তদবির করে আবারো চলে আসেন চরফ্যাশনে। 

এর মধ্যে কিছুদিন চরফ্যাশন উপজেলা ভূমি অফিসে  নেজারত শাখায় নাজির হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ব্যাপক  অনিয়ম, দুর্নীতির ও দালালদের সাথে সখ্যতার  কারণে উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে সে আবারও ইউএনওর কার্যালয়ে তার সহকারী হিসেবে যোগদান করেন। 

দীর্ঘ ২ যুগের চাকুরিকালীন সময়ে তার বিরুদ্ধে নানান অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও দাপ্তরিক বদলির মধ্য দিয়েই এ অনিয়ম ও দূর্নিতীর অভিযোগ চাপা পড়ে থাকে ফাইল বন্ধি হয়ে।  

রবিবার সন্ধ্যায় উপজেলার মাদ্রাজ ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ তাজুল ইসলামসহ ভুক্তভোগী অনেক গ্রামপুলিশ অভিযোগ করে বলেন, দায়িত্ব পালনে দূর্গম এলাকায় যাতায়াতের জন্য সরকারী যাতায়াত ভাতার 

২২ মাসের ভাতা আটকে থাকার পরে গত শনিবার টাকা উত্তোলন করতে উপজেলায় গেলে অফিস সহকারী মনির আলম প্রত্যেকের  ২৬ হাজার ৪০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা করে জনপ্রতি গ্রামপুলিশের কাছ থেকে রেখে দিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গ্রামপুলিশ বলেন, ৩২ মাস ধরে আমাদের ওই যাতায়াত ভাতার টাকা সংশ্লীষ্ট দপ্তরে আটকা থাকলে যাতায়াত ভাতা কিভাবে পেতে পাড়ি এ নিয়ে মনির আলমের সাথে আলোচনা করলে তাকে ঐই টাকা থেকে প্রত্যেকে “অনারিয়াম” দিতে হবে বলে মনির আলম আমাদের প্রস্তাব দেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার ২০০ গ্রামপুলিশের মধ্যে ১৮৩ জনের জন্য ২২ মাসের যাতায়াত ভাতা বাবদ ৪৬ লাখ ৫১ হাজার ২শত টাকা বরাদ্দ হয়। এদেও মধ্যে ১৫জনের জনপ্রতি ১৪হাজার ৪শ টাকা ও ১৬৮জনের জন প্রতি ২৬হাজার ৪শ টাকা করে বরাদ্দ আসলেও অভিযোগকারীদের মাঝে গত ৫ডিসেম্বর শনিবার জনপ্রতি ২৪হাজার টাকা করে বিতরণ করা হয়। এ অভিযোগ অস্বিকার করে মনির আলম ঊর্ধ্বোতন কর্তৃপক্ষের নিষেধ আছে বলে প্রাথমিকভাবে কনোও বক্তব্য দিতে রাজি না হলেও একপর্যায়ে মনির আলম “অতিরিক্ত” টাকা নেয়ার কথা অস্বীকার করেন ।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন জানান, গ্রামপুলিশ সাথে এ ধরনের ঘটনার  এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। অফিস সহকারি মনির আলমের বিরুদ্ধে কোন অনিয়মের অভিযোগ পেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

 10,037 total views,  1 views today