রোহিঙ্গাদের বোঝা অনির্দিষ্টকালের জন্য বাংলাদেশের পক্ষে বহন সম্ভব নয়- পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন

 কবির আহমেদ, বাংলাদেশ ডেস্কঃ আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামের (এআরএফ) ২৮ তম সভার এক ভার্চুয়াল মিটিংয়ে বক্তব্যকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।

গতকাল ব্রুনেইয়ের সভাপতিত্বে আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামের (এআরএফ) ২৮ তম সভাটি  অনলাইন ভার্চুয়াল মিটিংয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই ভার্চুয়াল মিটিংয়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে দেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

এই ভার্চুয়াল মিটিংয়ে বিভিন্ন রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ ২৬টি সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধি বৈঠকে অংশ নেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন ব্রুনেইয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডাটো এরিওয়ান পেহিন ইউসুফ। অনুষ্ঠানটি করোনা ভাইরাসের জন্য অনলাইন ভার্চুয়ালে অনুষ্ঠিত হয়।

এআরএফের পদক্ষেপ বাস্তবায়নে বাংলাদেশের সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের নেতৃত্বদানকারী ভূমিকা সম্পর্কে সভাকে অবহিত করেন। প্যারিস চুক্তির বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করতে নেতাদের প্রতি ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং অন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বিভিন্ন আঞ্চলিক ইস্যু, যেমন: রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, পারমাণবিকায়ন, সাইবার নিরাপত্তা এবং অন্যান্য আঞ্চলিক সমস্যা সম্পর্কে সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয়ে মতবিনিময় করেন। করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশের ভূমিকা বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী জনকল্যাণের সহিত অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত হওয়ায় ভ্যাকসিনকে ‘পাবলিক গুড’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, এর প্রযুক্তি সবার মধ্যে সমানভাবে বণ্টন হওয়া উচিত। সাশ্রয়ী মূল্যে ভ্যাকসিন উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ অঞ্চলের জলবায়ুর ওপর ক্ষতিকর প্রভাব প্রশমনের জন্য রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বিশ্বনেতাদের সহযোগিতা কামনা করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

এই ভার্চুয়াল মিটিংয়ে বাংলাদেশের পক্ষে অনির্দিষ্টকালের জন্য রোহিঙ্গাদের বোঝা বহন করা সম্ভব নয় জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় বিশ্ব নেতাদের এগিয়ে আসতে হবে। ড. মোমেন বলেন, মানবিক দিক বিবেচনা করে বাংলাদেশ ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়েছে। কিন্তু ৬ হাজার ৮০০ একর সার্বভৌম বনভূমির ক্ষতি করে তাদেরকে আর আশ্রয় দেওয়া সম্ভব নয় বলে তিনি আসিয়ান নেতৃবৃন্দকে জানিয়েছেন।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পর এআরএফ সদস্য দেশ অস্ট্রেলিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, নিউজিল্যান্ড, ফিলিপাইন, কোরিয়া প্রজাতন্ত্র, সিঙ্গাপুর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন দ্রুততম সময়ে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে একমত প্রকাশ করেন। তারা রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ স্বদেশ প্রত্যাবাসনের উপর গুরুত্বারোপ করেন।

এই ভার্চুয়াল মিটিংটি পরে ২৮ তম আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরাম (এআরএফ) -এর চেয়ারম্যানের বিবৃতি ইস্যু করার মাধ্যমে সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

 14,583 total views,  1 views today