“মানবেতর জীবন”

  নুরুল আমিন, ইউরো সমাচার প্রতিবেদকঃ দেশের পোশাক শ্রমিকদের অক্লান্ত পরিশ্রম আর বিন্দু বিন্দু ঘামে আমাদের পোশাক শিল্প আলোর মুখ দেখেছে। দেশে-বিদেশে সুনাম অর্জন করেছে। বহু আগে থেকেই দেশের তৈরি পোশাক বিদেশে রফতানি করা হচ্ছে। দেশের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে পোশাক শ্রমিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন। কিন্তু আমাদের পোশাক শ্রমিকরা অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করে। তারা একবেলা খেলে আরেক বেলা খেতে পায় না। অর্ধাহারে অনাহারে তাদের জীবন কাটে। তারা যে টাকা বেতন পায়, তা দিয়ে তাদের সংসার চলে না। তাদের শ্রমের তুলনায় এ টাকা একেবারে অপ্রতুল। সংসারের অভাব-অনটন দূর করার জন্য গরিব মানুষেরা গ্রাম ছেড়ে শহরে আসে এবং পোশাক শিল্পে কাজ নেয়। এদের বড় অংশ নারী শ্রমিক। সমাজে নারীর স্বাবলম্বিতা অর্জনে পোশাক শিল্পের অনেক ভূমিকা রয়েছে সত্য। কিন্তু সংগ্রামের সমান্তরালে তারা অনেক বঞ্চনার শিকার। যুগ যুগ ধরে পোশাক শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য পাওনা ও অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে।              

সকাল আটটা বা নয়টা থেকে রাত নয়টা দশটা পর্যন্ত ডিউটি করতে হয় এরপর আবার গভীর রাত পর্যন্ত ওভার ডিউটি করতে হয়। কেউ শারীরিক দুর্বলতা বা অসুবিধার কারণে ওভার ডিউটি করতে না চাইলে তাকে অনেক দুর্ব্যবহার সহ্য করতে হয়। এমনকি সকালে অফিসে আসতে সামান্য একটু দেরি হলে অনুপস্থিতি দেখানো হয়। কিংবা জরিমানা ও সারাদিন ফ্রি শ্রম দিতে হয়। তারা বোনাস যা  পায় তা হচ্ছে চরম দুর্ব্যবহার। আবার অনেক নারী শ্রমিক যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। যা খুব দুঃখজনক ব্যাপার। প্রতি মুহূর্তে গার্মেন্টস কর্মীদের চাকরি হারানোর ভয় থাকে। দেশে জিনিসপত্রের দাম বাড়লেও শ্রমিকের শ্রমের জীবনের মূল্য বাড়ে না। বরং তা যেন দিন দিন কমতির দিকে যাচ্ছে। শ্রমিকের বেতন বাড়ানোর প্রয়োজন মনে করছেন না কর্তৃপক্ষ। বাসা ভাড়া দেয়ার পর তেল থাকে তো নুন থাকে না, আবার নুন আনতে পান্তা ফুরায় এমন করুণ দশার মধ্যে চলে পোশাক শ্রমিকের জীবন। যা খুব বেদনাদায়ক। অপ্রতুল মজুরির কারণে বেশিরভাগ শ্রমিক ধারদেনা করে চলে।

দোকান থেকে বাকিতে দৈনন্দিন কেনাকাটা করে। অভাব কিছুতেই তাদের পিছু ছাড়ে না। কর্মজীবী নারী নামে একটি সংগঠনের মতে, শতকরা ১৩ ভাগ নারী শ্রমিক যৌন হয়রানি, ২০ ভাগ শারীরিক ও ৭১ ভাগেরও বেশি মানসিক নির্যাতনের শিকার হন। এছাড়া নানারকম বৈষম্য রয়েছে। তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের ন্যূনতম বেতন বাজার মূল্যের উর্ধগতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বাড়ানো হলে এ শিল্প আরও এগিয়ে যাবে। আশা করি সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবেন।                           
লেখক : সাংবাদিক, কলামিস্ট, কবি, নাট্যকার, কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক, লালমোহন, ভোলা। nurulamin911@gmail.com, 01759648626.

 1,740 total views,  1 views today

Leave a Reply

Your email address will not be published.