“মানবতার বাজার”শুরু হলো বরিশালে

বরিশাল থেকে নিজস্ব সংবাদদাতাঃ বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের মহামারী ছড়িয়ে পরার ফলে গরীব রাষ্ট্র গুলোর নিন্ম আয়ের মানুষ গুলো মহামারী সহ খাবারের সংকটে ভুগছে। বাংলাদেশের অবস্থাও একই রকম। সরকার দলীয় নেতাদের নানা বুলি শোনা গেলেও কার্যত কোথাও সরকারি সাহায্য যথাযথ ভাবে মিলছে না। তার উপর আবার সাহায্য সংগ্রহ করতে গিয়ে অপমান, নির্যাতন সহ শিকার হতে হচ্ছে নানা বিড়ম্বনার।                                         

অন্যদিকে ব্যক্তি ও সাংগঠনিক উদ্যোগে অনেকে এগিয়ে এসেছেন মানবতার সেবায়। তেমনি এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বরিশালে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) এর কর্মীরা। করোনা ভাইরাস সংকটের শুরু থেকে মানুষকে সচেতন করা, হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ, চিকিৎসা সেবা দেওয়া, ফ্রি অ্যামবুলেন্স সেবা প্রদান সহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মানবতার সেবায় নিয়োজিত বরিশালে বাসদের কর্মীরা।                                                         

গতকাল ১২ এপ্রিল থেকে এই দল থেকে শুরু করা হয়েছে ব্যতিক্রমী মানবতার বাজার। যেখানে গরীব মানুষ তার প্রয়োজনীয় খাদ্য দ্রব্য স্বাভাবিক বাজারের চেয়ে কম দামে পয়েন্ট ভিত্তিক কিনতে পারবে। এই বিষয়ে জেলা বাসদের আহ্বায়ক প্রকৌশলী ইমরান হাবিব রুমন বলেন, “প্রায় দেড় বছর আগের দীর্ঘদিনের জেলখানার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বরিশালে আজ থেকে যাত্রা শুরু করলো আমাদের ‘মানবতার বাজার’।                                        

রিক্সা শ্রমিকদের আন্দোলন থেকে নির্বাচনের আগে আমাদের গ্রেফতার করা হয়েছিল। জেলখানায় টাকা ব্যবহারের কোন নিয়ম ছিল না। টাকার পরিবর্তে আমাদেরকে একটা বই দেয়া হতো। বাইরে থেকে কেউ আমাদের নামে কোন টাকা জমা দিলে বইয়ে সেটা পয়েন্ট আকারে যুক্ত হতো তা দিয়ে আমরা কেন্টিন থেকে প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে পারতাম। বর্তমান দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে আমরা এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ‘মানবতার বাজার’ শুরু করলাম।

এখানে দুস্থ পরিবারগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি, পরিবারের সদস্য সংখ্য বিবেচনা করে আমরা একটা রেশন বই সরবরাহ করছি। টাকার পরিবর্তে এই বইগুলোতে আমরা বিনামূল্যে ৩০০/৪০০/৫০০ পয়েন্ট দিচ্ছি। যা দিয়ে এই বাজার থেকে প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে পারবে। যেমন: এক কেজি চাল কিনতে ৩০ পয়েন্ট, ১ কেজি ডাল ৫০ পয়েন্ট, ১ কেজি সবজী ১০ পয়েন্ট, এক হালি ডিম ২০ পয়েন্ট…। এভাবে প্রত্যেক খাবারের পয়েন্ট নির্ধারিত আছে। বাজার মূল্যের চেয়ে অনেক কম পয়েন্ট ধার্য করায় ৫০০ পয়েন্টে প্রায় ৭/৮ শ টাকার বাজার করা সম্ভব। চাইলে একদিনে বা একাধিক দিনে এই পয়েন্ট ব্যবহার করে বাজার করা সম্ভব।

‘মানবতার বাজার’ এর উদ্দেশ্য হলো কোন পরিবারে কখন কোন জিনিসটা প্রয়োজন সেটা কেউ জানিনা। আবার আমাদের দেয়ার সামর্থ্য সীমিত। এই সীমিত সামর্থ্য এবং মানুষের প্রয়োজনকে একটা বিন্দুতে মিলিত করার জায়গাটা হলো আমাদের এই ‘মানবতার বাজার‘। ‘এক মুঠো চাল’ এর আওতায় আমরা এ পর্যন্ত ৫ সহস্রাধিক পরিবারকে সহায়তা করেছি। ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ‘এক মুঠো চাল’ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি আজ থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ‘মানবতার বাজার‘ চালু থাকবে।                                              

 

প্রতিদিন অন্তত ২০০ পরিবারকে আমরা এই ‘মানবতার বাজার’ এর সহযোগিতা করতে চাই।” মানবতার বাজারের সাথে সাথে অন্যান্য সহযোগিতাও অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করছেন বাসদের আহ্বায়ক প্রকৌশলী ইমরান হাবিব রুমন।

 

আগ্রহীরা মানবিক সাহায্য পাঠাতে চাইলে যোগাযোগ করুন: * বিকাশ ০১৭১১২২৭৫১৯, ০১৪০৯১৬০০৪২, ০১৭২৩৭০৯১৫৫ * রকেট ০১৮৬৩৩০২৯৫১১

 4,090 total views,  2 views today