রানা প্লাজা ট্রাজেডির ৭ বছর পূর্তি হলো আজ

সাভার সংবাদদাতা মোঃ জীবন হাওলাদার: সাভারে রানা প্লাজা ট্রাজেডির ৭ বছর পূর্তি হল আজ। অনেকটা নীরবে পালিত হয়েছে দিনটি। করোনা ভাইরাসের কারণে শ্রমিক সংগঠনগুলো বর্ষপূর্তি পালন স্থগিত করায় ঘরে বসেই নিহত শ্রমিকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন নিহতের স্বজন ও শ্রমিক সংগঠন গুলোর নেতাকর্মীরা। এছাড়া প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনসমাগমের ঝুঁকি এড়াতে সকাল থেকে পৌর এলাকায় সব ধরনের যানবাহন চলাচল, দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষনা করা হয়।                      

এ বছর পূর্বের মতো কোন আনুষ্ঠানিকতা না থাকায় মানুষের ভিড় ছিলনা রানা প্লাজা চত্বরে। তবে স্থানীয় প্রশাসন, শ্রমিক সংগঠন এবং নিহতদের স্বজনদের পক্ষ থেকে পৃথক ফুলের তোড়া দিয়ে রানা প্লাজার শহীদ বেদীতে ফুলেল শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। এছাড়া কয়েকটি শ্রমিক সংগঠন ঘরোয়া ভাবে স্বল্প পরিসরে নিহতদের স্মরণে প্রতিকী কর্মসূচি পালন করেছে। করোনা পরিস্থিতির কারণে প্রায় ২৫ টি শ্রমিক সংগঠন ঘরে বসে, রানা প্লাজার শ্রমিকদের প্রতি শ্রদ্ধা  জানানোর আহবান জানিয়ে সকল অনুষ্ঠান স্থগিত করেছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

 

সকালে সাভারের রানা প্লাজার সামনে ঢাকা জেলা পুলিশ ও শিল্প পুলিশ, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অস্থায়ী বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। একই সাথে নিহত ও আহত পরিবারের পক্ষ থেকেও নিহত শ্রমিকদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। ঘরোয়া ভাবে জাতীয় গামেন্টর্স শ্রমিক ফেডারেশনের উদ্যোগে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ভবন ধ্বসের সপ্তম বার্ষিকী পালন উপলক্ষে ৭ টি মোমবাতি জালিয়ে নিহত শ্রমিকদের স্মরণ করছে সংগঠনটি। গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির ডাকে রানা প্লাজার নিহতদের স্বজন, আহত শ্রমিকসহ বিভিন্ন এলাকার শ্রমিকরা যার যার অবস্থান থেকে ১ মিনিট নীরবতা পালন করেছে। তাদের কারো হাতে ছিলো স্বজনের ছবি, কারো হাতে ‘আমরা তোমাদের ভুলবো না’’ দোষীদের ছাড়বো না’ ‘সংখ্যা নয় প্রাণ’ এমনি প্রতিবাদী বক্তব্য ও দাবি। সেই নীরবতার ও প্রতিবাদের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দেয়া হয়।                                                      

বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সভাপ্রধান তাসলিমা আখতার বলেন, সাত বছর পার হলেও রানা প্লাজা ধসের পেছনে প্রকৃত দায়ীদের এখনো বিচার হয়নি। আহত শ্রমিকরা নানা শারীরিক জটিলতা নিয়ে করোনা ভাইরাসের এ পরিস্থিতিতে আরো বেশি কষ্টের মধ্যে পড়েছেন। ৭ বছরেও সোহেল রানাসহ দোষীদের শাস্তি না হওয়াকে বিরাট বিপদের সংকেত বলে অভিহিত করে শ্রমিক নেতৃবৃন্দ বলেন, সারা দুনিয়ার ইতিহাসে এতো বড় ঘটনায় যেখানে ১১৩৬ জন প্রাণ হারিয়েছে ও পঙ্গুত্ব বরণ করেন ২৭ জন। সেখানে এখনো দোষীরা শাস্তি পায়নি।                        

শ্রমিক নেতারা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানাসহ অন্যান্য দোষীদের দ্রুত শাস্তি ও ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের ক্ষতিপুরণের দাবি জানিয়েছেন। সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পারভেজুর রহমান বলেন, রানা প্লাজার সামনে জনসমাগম ঠেকাতে প্রশাসন পূর্ব থেকেই বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহনের পাশাপাশি সতর্ক ছিল। 

 5,088 total views,  1 views today