জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঢাকায় আসা-যাওয়া বন্ধ

 ঢাকা থে‌কে ম‌হিবুর রহমান আদনান: বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রকোপ দেখা দেওয়ার পর গত ২৬ মার্চ থেকে চলছে অঘোষিত লকডাউন। দফায় দফায় বাড়ানো হয়েছে সাধারণ ছুটি। সবশেষ সপ্তমবারের মতো এই ছুটির মেয়াদ বাড়িয়ে ৩০ মে পর্যন্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে ইতিমধ্যে লকডাউন অনেকটা শিথিল করা হয়েছে। অর্থনৈতিক ক্ষতির কথা চিন্তা করে খুলে দেওয়া হয়েছে গার্মেন্টসহ বিভিন্ন দোকানপাট।                                     

এই অবস্থায় দেশে করোনা পরিস্থিতি আরো মারাত্মক আকার ধারণ করায় ফের কড়াকড়ি আরোপের কথা ভাবছে সরকার। ঈদের ছুটিতে কেউ যেন চলাচল করতে না পারে সে জন্য ঈদের আগে সারা দেশে যাত্রীবাহী সব পরিবহন চলাচলের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এদিকে শিথিল হয়ে পড়া ঢাকা মহানগরীতে প্রয়োজন ছাড়া কেউ আসতে পারবেন না বা নগরীর বাইরে যেতে পারবেন না নিয়ন্ত্রণে ফের কড়াকড়ি আরোপ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ডিএমপির মিরপুর বিভাগের (দারুসসালাম জোন) অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মাহমুদা আফরোজ লাকী সাংবাদিকদের বলেন, করোনাভাইরাস বিস্তার রোধে শুরুতে যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল এখন থেকে আবার সেই ব্যবস্থা শুরু হয়েছে। কমিশনার স্যারের নির্দেশে সকাল ৮টা থেকে এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। যাতে কোনো ব্যক্তি একান্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঢাকা শহরে প্রবেশ বা ঢাকা শহর থেকে বাইরে যেতে না পারেন সে ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছে।

কোতয়ালী থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, সকাল থেকে নয়াবাজার সেতুর কাছে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। জরুরি সেবা ও পণ্য সরবরাহ কাজে নিয়োজিত যানবাহন ছাড়া বাকিগুলোর চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। উত্তরা বিভাগের উপ-কমিশনার নাবিদ কামাল শৈবাল বলেন, ধউর সেতু ও আব্দুল্লাহপুরে ঢাকায় প্রবেশ পথে তল্লাশি চৌকি বাসানো হয়েছে। যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ ছাড়াও কেউ হেঁটে প্রবেশ বা বাহির হতে চাইলে তার কারণ জানতে চাওয়া হচ্ছে এবং যুক্তিযুক্ত কারণ না দেখালে কাউকে প্রবেশ বা বের হতে দেওয়া হচ্ছে না।                   

দেশে করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের পর সংক্রমণের বিস্তার রোধে প্রথম দফায় ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। এর দুই দিন আগে থেকেই দেশে গণপরিবহন চলাচলেও নিষেধাজ্ঞা জারি হয়৷শুরুতে বেশকিছু বিধিনিষেধ আরোপ ও তা বাস্তবায়নে কড়াকড়ির কারণে সাধারণ ছুটি কার্যত ‘লকডাউনে’ রূপ নিয়েছিল। ঘরবন্দি হয়ে পড়েছিল মানুষ।

 5,598 total views,  1 views today