শাহ আব্দুল করিমের শিষ্য বাউল রনেশ ঠাকুরের গানের ঘর পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা

লালমোহন উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ   

 ভোলা থেকে, ব্যুরো চীফ রিপন শানঃ চলমান করোনা মহামারির মধ্যেও থেমে নেই দুর্বৃত্তদের সহিংসতা । সুরের উপর অসুরের আক্রমণ ক্রমশ ভাবিয়ে তুলছে দেশের সৃজনশীল মহলকে ।
বাউল রনেশ ঠাকুর । বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের একনিষ্ঠ শিষ্য একজন বাউল । একজন সাদা মনের মানুষ । সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার উজানধলের বিখ্যাত ঠাকুররিবারে জন্ম তার । কিন্তু সাদা সিধে সহজ সরল মনের মানুষের সাথে এইরকম ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটতে পারে কিভাবে কল্পনায় আসেনা এলাকাবাসীর ।
দেশনন্দিত বাউল সম্রাট  শাহ আব্দুল করিমের শাহ আব্দুল করিম হয়ে উঠার পেছনে যাদের অবদান সবচেয়ে বেশি তারা হচ্ছে দুই ভাই- রুহী ঠাকুর এবং রনেশ ঠাকুর।রনেশ ঠাকুর নিজেও একজন বাউল হয়েও তার নিজের গান প্রচার না করে উনার ওস্তাদ শাহ আব্দুল করিমের গান বিভিন্ন জায়গায় গেয়ে প্রচার করে বেড়িয়েছেন।নিজের দিকে বিন্দুমাত্র খেয়াল করেননি তিনি।
এই মানুষটা যেভাবে শাহ আব্দুল করিমের গান গায়, যে দরদ দিয়ে গায়, পুরো বাংলাদেশে শাহ আব্দুল করিমের গান এতো দরদ আর কোন শিল্পী গাইতে পারবেনা বলে জানিয়েছেন বাউল পাগলা আংশিক ।
১৭ মে ২০২০ রোববার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে কেবা কারা রনেশ ঠাকুরের গানের ঘরে আগুন ধরিয়ে জ্বালিয়ে ছাই করে দেয়।
এই রকম সাদাসিধে মানুষ,বাউল রনেশ ঠাকুরেরও যে শত্রু থাকতে পারে তা বিশ্বাস করতে পারছেনা বাউল সমাজ। বিভৎস ও হিংসাত্মক এই ঘটনার তীব্র নিন্দা এবং এই অপরাধের সাথে যারাই জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছে দেশের আবহমান ঐতিহ্যধারার বাউল শিল্পী সমাজ। তারা বলছে- বাউল রনেশ ঠাকুর শাহ আব্দুল করিমের গানের একটা জীবন্ত ডায়েরী ।এই ডায়েরীটাকে মুছে দেয়ার জন্যই মনে হয় এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হলে সারা বাংলাদেশে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। 
দিরাইয়ের উপজেলা প্রশাসন,সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছে জোর এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন দ্বিতীয়বার না হয় এর জন্য অবিলম্বে দোষীদের খুঁজে বের করতে দ্রুত দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির আওতায় নিয়ে আসার জোর দাবি জানিয়েছে সারাদেশের বাউল শিল্পী সমাজ।
এদিকে , বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের শিষ্য রনেশ ঠাকুরের গানের ঘরে পুড়িয়ে দেয়ার মত ভয়ংকর ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে- ভোলার লালমোহন উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি । একাডেমির সিনিয়র সহ-সভাপতি শিল্পী মণি দে, সহ-সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক কবি রিপন শান, যুগ্ম সম্পাদক জসিম জনি, শাহাবুদ্দিন মিয়া, অর্থ সম্পাদক মনির খান আকাশ, শিল্পী আবুল কালাম মাস্টার, শিল্পী বাহারুল ইসলাম বাবলু, শিল্পী প্রবীর কুমার দে, শিল্পী সমীর নন্দী ও নাট্যশিল্পী ইয়াসিন সিরাজী এক যুক্ত বিবৃতিতে এঘটনার নিন্দা ও দ্রুত বিচার দাবি করেছেন ।

 

 5,294 total views,  1 views today