ভোলার বোরহানউদ্দিন পাওয়ার প্লান্টের ১৯ শ্রমিকের করোনা পজেটিভ !

 ভোলা থেকে, ব্যুরো চীফ রিপন শানঃ ভোলার বোরহানউদ্দিনে পাওয়ার প্লান্টে ইন্ডিয়ান নতুন বিদ্যুতে কাজ করতে আসা ব্রাউন্ড ফিল্ড ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানীর ১২০ জনের ১৯ জনের করোনা পজেটিভ ধরা পড়েছে। করোনার কারণে ১৯ শ্রমিককে ছাটাইয়ের অভিযোগ চাউর হয়েছে। এদিকে, এক সাথে থাকা বাকী ১০১ জন পাওয়ার প্লান্টের ভিতরে রাখার ফলে করোনা আক্রান্ত হওয়ার আশংকায় ভূগছে প্লান্টে থাকা কর্মকর্তা কর্মচারী সহ এলাকাবাসী। 

সুত্র জানিয়েছে, ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রে নতুন ২২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র করছে ইন্ডিয়ান কোম্পানী নতুন বিদ্যুৎ কোম্পানী। এ প্রতিষ্ঠানটি শ্রমিক সাপ্লাইয়ের জন্য ভারতীয় বিশু কোম্পানীর সাথে চুক্তি করে। বিশু চুক্তি করে ইন্ডিয়ান আরেক কোম্পানী পাওয়ার ম্যাক্সের সাথে। পাওয়ার ম্যাক্স চুক্তি করে বাংলাদেশী শ্রমিক সাপ্লাই কোম্পানী ব্রাউন্ড ফিল্ড ইঞ্জিনিয়ারিং সাথে। এ কোম্পানীর বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ১২০ জন শ্রমিককে এনে খেয়াঘাটে অবস্থিত পৌরসভার টার্মিনালের দোতালায় ভাড়া করা আবাসিক রুমে রাখা হয়। বোরহানউদ্দিন পৌর ৭ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তাজউদ্দিন খান জানান- তার কাছে ব্রাউন্ড ফিল্ড ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানীর একাউন্টেন্ট মাসুদ রানা, ইনচার্জ আলফাজ , ম্যানেজার সুমন লিখিতভাবে জানান, ঢাকা থেকে লোক এসে গত ২৫ তারিখ ২০ জনের স্যামপল নেয় l গত কাল ১৯ জনের করোনা ভাইরাস রিপোর্ট পজেটিভ এনে আমাদের ছাঁটাই করেছে। অনেককে বেতন ভাতা না দিয়ে বিদায় করা হয়েছে।

এদিকে এ ১৯ জন ও বাকী ১০১ জন একই স্থানে এক সাথে ছিল l কোম্পানী বাকীদের গতকাল ২২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রের শ্রমিকদের নিয়ে টিনশীডের ঘরে রাখে l এতে ১০১ জনের মধ্যে করোনা আক্রান্তের সন্দেহ দানা বাঁধছে । নতুন বিদ্যুতের দায়িত্বশীল ফজলুর রহমান জানান, আমাদের এখানে বাংলাদেশী শ্রমিক সাপ্লাৗই কোম্পানী ব্রাউন্ড ফিল্ড ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানীর কোন শ্রমিক কোন কাজ এখনো শুরু করেনি। আমার জানামতে তাদের ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টেনে রাখা হয়েছে। ২০ জনের নমুনা ঢাকা পাঠানো হয়েছিল। তা নেগেটিভ না পজেটিভ আমাদের জানানো হয়নি।

বোরহানউদ্দিন থানার অফিসার ইনচার্জ ম.এনামুল হক জানান, ভারতীয় ঠিকাদারী কোম্পানী পাওয়ার ম্যাক্সের দায়িত্বরত লোকজন জানিয়েছেন ২০ জনের করোনা টেস্টে ৯ জনের পজেটিভ। এর মধ্যে ৯ জন চলে গেছে। অন্যদিকে ব্রাউন্ড ফিল্ড ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানীর লোকজন এলাকার লোকজনকে হুমকির মুখে ফেলেছে। ১০১ জন কিন্তু এ ১৯ জনের সাথে ছিল। তাদের পরীক্ষা না করে কিভাবে গুরুত্বপূর্ন ২৫০ মেঘাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র অভ্যন্তরীন সীমানা দিয়ে রাখেন। তা ছাড়া পজেটিভ রিপোর্ট আসা লোকজনকে নিরাপদ স্থানে না রেখে বাড়ী পাঠিয়ে দিয়ে করোনাকে ছড়িয়ে দিল।

সুত্র আরো জানায়, ভারতীয় ঠিকাদারী কোম্পানী পাওয়ার ম্যাক্স এর আগে ভারতীয় শ্রমিক এনে কাজ করায়। বেতন ভাতা নিয়ে লকডাইনের মধ্যে শ্রমিকদের সাথে সংঘাত হয়। পরে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এরপর থেকে ভারতীয় শ্রমিক না রেখে বাংলাদেশী শ্রমিক আনতে ওই কোম্পানীর সাথে চুক্তি সম্পন্ন হয় ।

 5,161 total views,  1 views today