ঝালকাঠি মানুষের ফলজ বৃক্ষ রোপনের আগ্রহ বেড়েছে, বনায়ণ হয়েছে ২৫ ভাগ

 বাধন রায় ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ  এখন বর্ষাকাল বৃক্ষ রোপনের ভরা মৌসুম। বর্তমান সময় জলবায়ু মোকাবেলার ক্ষেত্রে বনায়ন একটি বড় ভুমিকা পালন করছে। ঝালকাঠি জেলায় প্রায় ২৫% বনায়ন রয়েছে। বন বিভাগের হিসাবমতে প্রতি বছর ১০% বৃক্ষ রোপন করা হয় এবং ৫% বৃক্ষ কর্তন হয়। ঝালকাঠি জেলার বিভিন্ন হাট বাজারে প্রধানত স্বরূপকাঠী অঞ্চল থেকে চারা বিক্রেতা বেপারীরা হাট বাজারগুলিকে ঘুরে ঘুরে চারা বিক্রি করেন। বিক্রেতাদের হিসাব মতে ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি এই ২ উপজেলাই শুধু এই মৌসূমেই প্রায় ১ কোটি টাকার চারা বিক্রি করে। ঝালকাঠির অন্য দুটি উপজেলা রাজাপুর ও কাঠালিয়ায় অনুরূপ পরিমান চারা বিক্রি হবে। চারা ক্রেতাদের মধ্যে বসত বাড়ীর আঙ্গিনায় এবং পতিত জমিতে ফল বাগানের প্রবনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ঝালকাঠির পালবাড়ী এলাকার চারা বিক্রি হাটে এই জেলার বাইরেও রবিশাল থেকেও লোকজন এসে হাটের দিন ফলে চারা কিনে নিয়ে যায়। হাটগুলি সপ্তাহে ২ দিন বসে। মানুষের মধ্যে ফল গাছের চারা রোপন বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষ বিষমুক্ত ফল নিজেরাই উৎপাদন করে খাওয়া এবং আর্থিক ভাবে লাভবান হওয়ার জন্য বাগান করছে। ঝালকাঠি জেলায় প্রতিনিয়ত বাগানের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এছাড়াও এবছর মুজিব বর্ষ উপলক্ষে বন বিভাগ জেলায় ৮১ হাজার ৩শ বনজ, ফলজ ও ঔষধী গাছের চারা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মানুষের বসত বাড়ীতে রোপনের জন্য বিতরণ কার্যক্রম চলছে। এই সকল চারা বন বিভাগ তাদের নার্সারিতে উৎপাদন করছে। 

ঝালকাঠির চারা বিক্রির হাটে বরিশাল থেকে মাল্টা চারা কিনেছেন রানা হাওলাদার। সে জানায়  ইতিপূর্বেও সে বরিশাল থেকে এসে আরও কিছু চাড়া কিনেছে।  ঝালকাঠি সদর উপজেলার পোনাবালিয়া ইউনিয়নের রাকিব বিন বাসার জানান সে হাট থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকার চারা কিনেছে। নিজের বাড়ীর আঙ্গিনায় এবং পতিত জায়গায় ফল বাগান করার জন্যই চার এই উদ্যোগ। ঝালকাঠিতে স্বরূপকাঠী থেকে দীর্ঘদিন ধরে হাটে হাটে চারা বিক্রি করে আসছেন আকবর আলী। তিনি জানান ঝালকাঠি সদর উপজেলা ও নলছিটি এই ২টি উপজেলায়ই প্রায় ১ কোটি টাকার চারা তারা এই মৌসুমে বিক্রি করতে পারবে। বর্তমানে মানুষের মধ্যে বনজ গাছের চেয়ে ফলজ গাছের চারা কেনার প্রবনতা বেশি। ঝালকাঠি জেলা ভারপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান জিয়া জানান মুজিব বর্ষ উপলক্ষে এই মৌসুমে তারা ৮১ হাজার ৩শ চারা বিতরন করবেন। এই জেলায় প্রায় ২৫% বনায়ন রয়েছে এবং প্রতি বছর ১০% বনায়ন করা হয় ও ৫% বনায়ন কর্তণ করা হয়। 

 5,205 total views,  1 views today