ইলিশের সুদিন ফিরছে বরিশালে

 রিপন শান, ব্যুরো চীফ বরিশালঃ ধান নদী খালের বরিশালে রুপালি ইলিশের সুদিন ফিরছে। গত কদিন ধরে সাগরে বিপুল পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ার খবর পাওয়া গেছে, আকারেও বড়। এর প্রভাব পড়েছে মোকামগুলোতে। আগের চেয়ে ইলিশের সরবরাহ অনেক বেড়েছে। দামের দিক থেকেও অনেকটাই সস্তা। বরিশাল নগরীর পোর্টরোড ইলিশমোকামের  ব্যবসায়ীরা  জানান , গত ১৫ দিন ইলিশের আমদানি ছিল খুব কম। বৈরী আবহাওয়ায় সাগরে যেতে পারেননি জেলেরা। গত দু’দিন সাগর থেকে ইলিশ নিয়ে ফেরা শুরু করেছেন তারা। মোকাম ঘুরে নজরে পড়েছে বড় আকারের ইলিশের। নগরীর অলিগলিতেও খুচরা বিক্রেতারা ইলিশ নিয়ে ঘুরছেন।

বরিশাল ইলিশ মোকামের ব্যবসায়ী জসিম বলেন, ভরা মৌসুম হলেও প্রায় ১ মাস ধরে দফায় দফায় নিম্নচাপ আর সাগর উত্তাল থাকায় মাছ ধরতে যেতে পারেননি জেলেরা। বর্তমানে আবহাওয়া কিছুটা শান্ত হলেও অভ্যন্তরভাগের নদ-নদীতে মিলছে না ইলিশ। মিঠা পানিতে না মিললেও নোনা পানির সাগরে ক’দিন ধরেই ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা পড়ছে ইলিশ।

বরিশালের ইলিশ মোকামে বৃহস্পতিবারও প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মণ ইলিশ নিয়ে এসেছেন সাগরের জেলেরা। এর আগের ৩ দিনও একইভাবে সাগরের ইলিশ এসেছে মোকামে। ইলিশের প্রাচুর্যের কারণেই মূলত মণপ্রতি গড়ে প্রায় ৮ হাজার টাকা কমেছে দাম।

ব্যবসায়ীরা জানান, আরেকটা সমস্যা হচ্ছে-সাগরের ইলিশ বেশিদিন সংরক্ষণ করে রাখা যায় না। বরফ দিয়ে রাখা হলে কিছুদিন পর এ মাছ খানিকটা লালচে হয়ে যায়। মিঠা পানির ইলিশের ক্ষেত্রে এটা হয় না।

বরিশাল জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা (ইলিশ) ড. বিমল চন্দ্র দাস জিয়া, ভরা মৌসুমে খরা কাটিয়ে আবার ধরা পড়ছে রূপালি ইলিশ। এখন যা আসছে এগুলো সাগরের ও সাগর মোহনার ইলিশ। বুধবারও মোকামে সাগরের ইলিশ গড়ে কেজিপ্রতি বিক্রি হয়েছে ৫০০ থেকে সাড়ে ৫০০ টাকায়। বড় আকারের ইলিশ ধরা পড়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, সমুদ্রে ৬৫ দিন মাছ ধরা বন্ধ থাকায় বড় ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। দুই বছর আগে মিয়ানমার থেকে বড় ইলিশ এ দেশে আনা হতো। তখন এক কেজি ইলিশ বিক্রি হতো হাজার টাকার ওপরে। গত দু’দিন সেই ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে সাড়ে ৮০০ টাকায়।

বরিশাল মৎস্য আড়তদার সমিতির দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ রানা জানিয়েছেন, গতকাল প্রায় ৯০০ মণ ইলিশ মোকামে উঠেছে। আগের দিন আমদানি হয়েছিল প্রায় এক হাজার মণ। দামও সহনশীল। সাগরের এবং সাগর মোহনায় এ ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। এমনকি ভোলা সংলগ্ন মেঘনার শেষ সীমানা ঢালচরে বড় ইলিশ ধরা পড়ছে। এর আকার এক থেকে দেড় কেজি।

বরিশাল জেলা মার্কেটিং কর্মকর্তা এএসএম হাসান সারোয়ার শিবলি জানিয়েছেন, ইলিশের স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পর রপ্তানির চিন্তা করতে হবে। কিন্তু বর্তমানে স্থানীয় বাজারেই ইলিশের সংকট। যখন প্রচুর ইলিশ ধরা পড়বে, ব্যাপক উদ্বৃত্ত থাকবে এবং দাম কেজিপ্রতি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় নেমে আসবে, তখন হয়তো রপ্তানির চিন্তা করবে বাংলাদেশ সরকার।

 7,214 total views,  1 views today