চলে গেলেন বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের বীরমাতা মালেকা বেগম

 রিপন শান, ব্যুরো চীফ বরিশালঃ দ্বীপজেলা ভোলার সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তান বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামালের বীরমাতা মোসাম্মৎ মালেকা বেগমকে (৯৬) আজ ৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ সকালে আলীনগর-ভোলায় তার নিজ বাড়িত ইন্তেকাল করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন । 

১৯ আগস্ট বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামালের মাতা মোসাম্মৎ মালেকা বেগম কিডনি ও অন্যান্য শারীরিক জটিলতা নিয়ে ভোলা জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।পরে তাকে ২০শে আগস্ট ২০২০ উন্নত চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিশেষ হেলিকপ্টারে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। সেখানে শারীরিক অবস্থা উন্নতি হলে সিএমএইচ থেকে ৩ সেপ্টেম্বর বিশেষ ছাড়পত্র প্রদান করা হয়। পরে তাকে তার নিজ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।মালেকা বেগমের মৃত্যুতে এলাকা বাসীর ভিতরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল ১৬ ডিসেম্বর ১৯৪৭ সালে ভোলা জেলার দৌলতখান উপজেলার হাজীপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা হাবিবুর রহমান সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত হাবিলদার ছিলেন। শৈশব থেকেই দুঃসাহসী হিসেবে খ্যাত ছিলেন। পড়াশোনা বেশিদূর করতে পারেননি। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পর উচ্চ বিদ্যালয়ে দু-এক বছর অধ্যয়ন করেন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে চরম সাহসিকতা আর অসামান্য বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ যে সাতজন বীরকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান “বীরশ্রেষ্ঠ” উপাধিতে ভূষিত করা হয় তিনি তাদের অন্যতম।

১৬ এপ্রিল পাকিস্তান সেনাবাহিনী চতুর্থ ইস্ট বেঙ্গলকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য কুমিল্লা-আখাউড়া রেললাইন ধরে উত্তর দিকে এগুতে থাকে। ১৮ই এপ্রিল পরদিন ভোরবেলা পাকিস্তান সেনাবাহিনী দরুইন গ্রামে মুক্তিবাহিনীর অবস্থানের উপর মর্টার ও আর্টিলারীর গোলাবর্ষণ শুরু করলে মেজর শাফায়াত জামিল ১১ নম্বর প্লাটুনকে দরুইন গ্রামে আগের প্লাটুনের সাথে যোগ দেয়ার নির্দেশ দেন। ১১ নম্বর প্লাটুন নিয়ে হাবিলদার মুনির দরুইনে পৌছেন। সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল তার নিকট থেকে গুলি নিয়ে নিজ পরিখায় অবস্থান গ্রহণ করেন।

বেলা ১১ টার দিকে শুরু হয় শত্রুর গোলাবর্ষণ। সেই সময়ে শুরু হয় মুষলধারে বৃষ্টি। সাড়ে ১১টার দিকে মোগরা বাজার ও গঙ্গা সাগরের শত্রু অবস্থান থেকে গুলি বর্ষিত হয়। ১২ টার দিকে আসে পশ্চিম দিক থেকে সরাসরি আক্রমণ। প্রতিরক্ষার সৈন্যরা আক্রমণের তীব্রতায় বিহ্বল হয়ে পড়ে। কয়েক জন শহীদ হন। মোস্তফা কামাল মরিয়া হয়ে পাল্টা গুলি চালাতে থাকেন।

তার পূর্ব দিকের সৈন্যরা পেছনে সরে নতুন অবস্থানে সরে যেতে থাকে এবং মোস্তফাকে যাবার জন্য অনুরোধ করে। কিন্তু তাদের সবাইকে নিরাপদে সরে যাওয়ার সুযোগের জন্য মোস্তফা পূর্ণোদ্যমে এল.এম.জি থেকে গুলি চালাতে থাকেন। তার ৭০ গজের মধ্যে শত্রুপক্ষ চলে এলেও তিনি থামেননি। এতে করে শত্রু রা তার সঙ্গীদের পিছু ধাওয়া করতে সাহস পায়নি। এক সময় গুলি শেষ হয়ে গেলে, শত্রুর আঘাতে তিনিও লুটিয়ে পড়েন।

২৩ বছর বয়সের এই অসমসাহসী বীরমুক্তিযোদ্ধাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার দরুইন গ্রামে তার শাহাদাত বরণের স্থানেই ঐ গ্রামের জনগণ তাকে সমাহিত করেন।

 

 7,086 total views,  1 views today