ভোলার চরফ্যাশনে ফার্মেসীতে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান

 মোঃ তরিকুল ইসলাম,চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধিঃ ভোলার চরফ্যাশনে ঔষধের ফার্মেসীতে ভ্রাম্যমান আদারতের অভিযানে অনেক ফার্মেসীর মালিক  জেল -জরিমানার ভয়ে ব্যবসা প্রতিস্ঠান  বন্ধ করে পালিয়ে যায়।

দীর্ঘদিন যাবৎ ঔষধের দোকানে  ড্রাগ লাইসেন্স , মেয়াদ উত্তীর্ন ঔষধ বিক্রি, চরফ্যাশনে ড্রাগ এন্ড কেমিস্ট সমিতি সিন্ডিকেট করে ক্রেতাদের নিকট ঔষধ বিক্রি, অখ্যাত কোম্পানীর ভেজাল  ঔষধ ক্রেতাদের  কিনতে বাধ্য করাসহ বিভিন্ন অনিয়মের সংবাদ  গতকাল প্রকাশিত হওয়ায়  নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও এলিট ফোর্স র‍্যাব- ৮ আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায়  চরফ্যাশনে ফার্মেসীগুলোতে অভিযান পরিচালনা করেন।

অভিযানের খবর পেয়ে ঔষধের দোকান বন্ধ করে  চলে যায়।

ভোলা জেলা  ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মাহমুদুল হাসান ও র‍্যাব- ৮ এর কোম্পানি কমান্ডার আবুল কালাম আজাদ চরফ্যাশন বাজারে ঔষধের দোকানসমুহে  অভিযান পরিচালনা করেছেন৷ 

অভিযানে বিভিন্ন অনিয়ম ও প্রতারনার অবিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় প্রিন্স মেডিকেল হল কে চার হাজার, রুমা ড্রাগ পাঁচ হাজার, মামনি মেডিকেল হল তিন হাজার জানকি মেডিকেল হল পাঁচ হাজার, সালমা মেডিকেল হল তিন হাজার ও  ভোক্তা অধিকার না মানায় মিজান ফরাজী  কে সাত হাজার টাকা জরিমানা করেছে। 

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও র‍্যাব ৮ চরফ্যাশন বাজারে অভিযান চলাকালে  শহরের জনতা রোড, মেইন রোড, গ্রীন রোড, সোনালী রোড, চাউল পট্টি, থানা রোড ও হাসপাতাল রোডের ঔষধের দোকান  বন্ধ করে পালিয়ে যায়৷

একশ্রেনীর অসাধু ঔষধ ব্যবসায়ী চরফ্যাশন পৌরসভা থেকে ট্রেড লাইসেন্সে ড্রাগ লাইসেন্সবিহীন ঔষধের ব্যবসা চালিয়ে আসছে। অধিকাংশ ফার্মেসিতে অখ্যাত আয়ুর্বেদিক ও ভেজাল ঔষধ বিক্রি হচ্ছে। গতকাল গণমাধ্যমে এই খবর প্রকাশের  র‍্যাব -৮ এর এই অভিযান পরিচালনা হয়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাধারন মানুষকে জিম্মি করে স্হানীয় চরফ্যাশন ড্রাগ এন্ড কেমিস্ট সমিতির  জনবিরোধী কথিত  সিদ্ধান্তের কারনে অসহায় সাধারন মানুষ।

সমিতির সিদ্ধান্ত বলবৎ রয়েছে কোন সদস্য নির্ধারিত মুল্যের চেয়ে ঔষধের দাম কম নিলে তাকে গুনতে হবে পাঁচ  হাজার টাকা।

এ ব্যাপারে  উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রুহুল আমিন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সকল অনিয়মের বিরুদ্ধে  ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা অব্যাহত থাকবে৷ আমার জানা মতে মানুষের স্বাস্হ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধ পরিকর।

কোন  ঔষধ ব্যবসায়ী অনিয়ম কররে ছাড় নেই। সরকার নির্ধারিত মূল্যে ঔষধ বিক্রি করবে এটা স্বাভাবিক।কিন্তু এরচেয়ে বেশি মুল্যে বিক্রি করলে অপরাধ। ক্রেতা- বিক্রেতার সমন্বয়ে মুল্যছাড় দেয়া ব্যবসায়ীর ব্যাপার। ড্রাগ সমিতির মাধ্যমে ফার্মেসীকে বাধ্যবাধকতার নির্দেশনা দিলে  এটা হবে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন আইনে সম্পূর্ন বেআইনী।

 7,077 total views,  1 views today