খুলনার পাটকল রক্ষায় শ্রমিক জনসভা অনুষ্ঠিত

 রিপন শান,ব্যুরো চীফ বরিশালঃ খুলনা জেলার  ফুলতলা উপজেলার ইষ্টার্ণ জুট মিল গেটের সামনে পাটকল রক্ষায় সম্মিলিত নাগরিক পরিষদের উদ্যোগে আজ বৃহস্পতিবার বিকল ৪ টায় শ্রমিক জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের যুগ্ম আহায়ক ও ইষ্টার্ণ জুট মিলের সিবিএ সাবেক সাধারণ সম্পাদক শ্রমিকনেতা মোজাম্মেল হক খানের সভাপতিত্বে এবং শ্রমিকনেতা মেহেদী হাসান বিল্লালের সঞ্চানলায় সভায় বক্তারা বলেন, করোনা মহামারীতে পুরো দেশের মানুষের জীবন-জীবিকা  বিপন্ন। ঠিক এ সময় বাংলাদশের রাষ্ট্রায়ত্ব ২৫টি পাটকল বন্ধ করে স্থায়ী ও অস্থায়ী মোট প্রায় ৫০ হাজার শ্রমিককে বেকার করে দিলো আওয়ামী লীগ  সরকার। এ দুর্যাগে সারা দুনিয়ার দেশে দেশে সরকাররা নানা প্রণোদনা দিয়েছে মানুষের জীবিকা রক্ষার চেষ্টা করছে, অথচ বাংলাদেশ করোনা  মহামারীর সুযোগ নিয়ে সোনালি আঁশের ঐতিহ্যবাহী  পাটকল বন্ধ করে দিলো।                                         

জনগণের প্রতিবাদ ও প্রশ্নের মুখে বাধ্য হয়ে মুখরক্ষার তাগিদে একবার বলেছে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) পুনঃরায় চালু করা হবে, কখনো বলছে লীজে চালানা হবে। নেতৃবৃন্দ  বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকল বন্ধের পিছনে সরকারের বড় অজুহাত হলো লোকসান হচ্ছে! কাদের কারণে লোকসান, লোকসান কাটাতে কি কি উদ্যোগ নেয়া হয়েছিলো তার কোনো উত্তর নেই। নিম্নমানের পাট বেশী দামে কেনা, ৫০ দশকের পুরনো তাঁত দিয়ে  উৎপাদন করা, মাথাভারী প্রশাসনের ব্যয়সহ সরকারি ভুলনীতি ও প্রশাসনের দুর্নীতি লোকসানের প্রধান কারণ। ২৫টি পাটকলের ১০ হাজার তাঁতের অর্ধেক অচল রেখে পাটকল লাভজনক করা যাবে না। শ্রমিক নেতৃবৃন্দ হিসাব করে দেখিয়েছিলন ১২শ কোটি টাকা খরচ করে আধুনিক তাঁত স্থাপন করলে উৎপাদন  বাড়বে ৩ গুণ, শ্রমিকদের গড়ে ২৫ হাজার টাকা   বেতন দিয়েও পাটকল লাভজনক করা সম্ভব।

সরকার সে পথে না গিয়ে ৫ হাজার কোটি টাকা খরচ করে শ্রমিকদের গোল্ডেন হ্যান্ডসেক পদক্ষেপ নিয়েছে। তাই সরকারকে অবিলম্বে পাটকলগুলো চালু করে আধুনিকায়ন করতে হবে এবং অবসরপ্রাপ্ত ও কর্মরত সকল শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা এককালীন প্রদান করতে হবে।                                                     

শ্রমিক জনসভায় বক্তব্য রাখেন, পরিষদের আহ্বায়ক  এড. কুদরত-ই-খুদা, যুগ্ম আহ্বায়ক ও জাতীয়  সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), কেদ্রীয় উপদষ্টামণ্ডলীর সদস্য বীর মুক্তিযাদ্ধা আলহাজ্ব এড. আ ফ ম মহসিন, যুগ্ম আহায়ক ও বাংলাদেশ  সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ খুলনা জেলা সমন্বয়ক      জনার্দন দত্ত নাণ্টু, যুগ্ম আহায়ক ও সিপিবি খুলনা মহানগর সাধারণ সম্পাদক এড. মাঃ বাবুল হাওলাদার, গণসংহতি আন্দোলন খুলনা জেলার আহ্বায়ক মুনীর চৌধুরী সোহেল, ইউনাইটড কমিউনিস্ট লীগ খুলনা জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য আনিসুর রহমান মিঠু, বাংলাদশর ওয়ার্কার্স পার্টি (মার্কসবাদী) কেদ্রীয় বিকল্প সদস্য গাজী নওশের আলী, সিপিবি নতা মিজানুর রহমান বাবু, নাগরিক  পরিষদ নেতা এস এম চদন,ক্ষুধামুক্ত আন্দোলনের আহসান হাবিব, গণসংহতি আদালন ফুলতলা উপজেলা  আহ্বায়ক শ্রমিকনেতা অলিয়ার রহমান,   শ্রমিকনেতা মাঃ নূরুল ইসলাম, মাঃ কামরুজ্জামান, সামশেদ আলম শমশের, জাকির হোসেন চুনু, নজরুল ইসলাম মল্লিক, যুব ইউনিয়ন নেতা গাজী আফজাল হাসন, ছাত্র ফেডারশন খুলনা মহানগর আহ্বায়ক আল আমিন শেখ, ছাত্র ইউনিয়ন বিএল  কলেজ শাখার সভাপতি সোমনাথ দে প্রমুখ। সভায় আগামী ২৭ সেপ্টম্বর সকাল ১১টায় ডিসি অফিস ঘেরাও কর্মসূচি সফলের জন্য শ্রমিকসহ সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।  

 

 8,487 total views,  1 views today