ভোলায় মুক্তিযুদ্ধের প্রথমদিন ৩০ সেপ্টেম্বর

 মোঃ তরিকুল ইসলাম,চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধিঃ আজ ৩০ সেপ্টেন্বর সেইদিন। ১৯৭১ সালের এইদিনে ভোলার চরফ্যাশন ওসমানগঞ্জের পেয়ারা আলী বেপারী ক্যাম্পে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে রাজাকার বাহিনীর যুদ্ধ হয়। এইযুদ্ধে ৮ জন রাজাকার মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে নিহত হয়।

এটি ছিল দ্বীপজেলা ভোলার প্রথম মুক্তিযুদ্ধ। এই যুদ্ধে কোন মুক্তিযোদ্ধা মারা যায়নি। আমিনাবাদ ও বৃহত্তর ওসমানগঞ্জ  সীমানায় এই যুদ্ধ সংঘঠিত হয়।

দেশ স্বাধীনের পর পেয়ার আলী বাড়ী ক্যাম্পের পাশে বর্তমান আবু বকরপুর ইউনিয়নে বাংলাবাজারে একটি মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিফলক (বধ্যভূমি) নির্মিত হয়। দু’জন মুক্তিযোদ্ধার নামসহ স্মৃতিফলকে আবু বকর পুর বধ্যভূমি  উল্লেখ করা হয়েছে।যা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির নামান্তর। ঐ বধ্যভূমিতে কোন মুক্তিযোদ্ধাদের কবর নেই।

ফলকে যে দু’জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তাদের কবর পেয়ার আবু বকরপুর পেয়ার আলী ক্যাম্প থেকে তিন কিঃমিঃ পূর্ব-উত্তরে  তাদের পারিবারিক কবরোস্হানে দাফন করা হয়েছে। 

এই বধ্যভূমি নির্মাণ নিয়ে এলাকাবাসির অনেক অভিযোগ রয়েছে। চরফ্যাশনে মুক্তিযুদ্ধের বিকৃত ইতিহাস নিয়ে  অনেকেই  সত্য বলতে ভয় পাচ্ছে।

২০১৯ সালের ডিসেন্বর মাসে চরফ্যাশন উপজেলা পরিষদে আইনশৃংখলা কমিটির এক সভায়  স্হানীয় সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবের উপস্হিতিতে উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তার কাছে  চরফ্যাশন সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ কয়ছর আহম্মেদ দুলাল আবুবকরপুরে বিতর্কিত মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিফলকের নাম পরিবর্তন করে এখানে “ভোলা জেলার প্রথম মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিফলক” নামকরনের জন্য বক্তব্য রাখেন।

উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন ইতোমধ্যে উক্ত নামফলকের  লেখা সংশোধন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আজ ৩০ সেপ্টেন্বর সেইদিন। এইদিনেই ভোলা জেলার প্রথম মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে চরফ্যাশন উপজেলার ওসমানগঞ্জে  পেয়ার আলী বাড়ির ক্যাম্পে। 

ভোলা জেলা নাগরিক ফোরাম (দক্ষিণ) কমিটির সভাপতি এম আবু সিদ্দিক বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে আবু বকরপুরি নির্মিত মুক্তিযুদ্ধের  বিতর্কিত এই নামফলকের যথাযথ নামকরন করা না হলে  আমাদের পরবর্তী প্রজন্মরা  বিকৃতইতিহাস থেকে কি শিক্ষা অর্জন করবে।

 

 8,097 total views,  1 views today