ইউরোপে করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধিতে ইতালিতে পুনরায় সতর্কতা !

কোয়ারেন্টাইন না মানায় ইতালিতে বাংলাদেশীকে দণ্ড প্রদান !

 অন লাইন ডেস্ক থেকে,কবির আহমেদঃ করোনার জন্য দেশে আটকে পড়া একজন ইতালি প্রবাসী বাংলাদেশী দেশ থেকে ফ্রান্স হয়ে ইতালিতে প্রবেশ করলে তাকে কোয়ারেন্টাইন না মানার অপরাধে গ্রেফতার ও সৌজন্য বাতিল করা হয়েছে। জানা গেছে উক্ত প্রবাসী ইতালির কার্তা সৌজন্য নিয়ে বাংলাদেশ থেকে ফ্রান্স আসেন কিন্ত ফ্রান্সের বর্তমান আইন অনুযায়ী যদি কেহ বাংলাদেশ থেকে ফ্রান্সে প্রবেশ করে তখন তাকে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে বাধ্যতামূলক থাকতে হবে। কিন্ত তিনি ফ্রান্সে অবতরণ করে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে না থেকে সাথে সাথেই ইতালিতে প্রবেশ করেছিলেন। ফলে ইতালির পুলিশ তার সৌজর্ন (স্টে পা.) বাজেয়াপ্ত করেছেন।

ইতালির বাংলা অন লাইন পোর্টালের মাধ্যমে জানা গেছে যে শুক্রবার ইতালির ভেনিসের মেস্ট্রের স্থানীয় প্রশাসন বাংলাদেশী কমিউনিটির বিশিষ্ট নেতৃবৃন্দের সাথে এক আলোচনায় বসেছিলেন। প্রশাসন বাংলাদেশী কমিউনিটির নেতৃবৃন্দকে জানান,এখন থেকে ভেনিসে বসবাসকারী বাংলাদেশী প্রবাসীদের মধ্যে যারা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন তাদের নিয়মিত মনিটর করবেন অর্থাৎ বাসায় এসে কন্ট্রোল করবেন। সাধারণত এক বাসার একজন আক্রান্ত হলে সে বাসায় বসবাসরত সকলকেই কমপক্ষে দুই সপ্তাহের জন্য কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। প্রশাসন আরও জানান যে তারা তদন্ত করে দেখতে পেয়েছেন ভেনিসে বসবাসকারী বাংলাদেশীরা সরকারের কোভিড-১৯ এর বিধিনিষেধ যথাযথভাবে মানছে না। আইন অমান্যকারীদের সতর্ক করে বলা হয় যদি কেহ এখন থেকে ইতালি সরকারের কোয়ারেন্টাইন আইন অমান্য করে তাহলে ৫ বৎসরের জেল সহ তার সৌজন্য অর্থাৎ Work permit বাতিল করা হতে পারে।

শুক্রবার ইতালির ইংরেজী অন লাইন পোর্টাল ‘দি লোকাল ইতালি’ জানায় যে এখন থেকে অনতিবিলম্বে বৃটেন, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস এবং চেক প্রজাতন্ত্র থেকে ইতালিতে প্রবেশ করলে করোনার নেগেটিভ সনদ প্রদর্শন করতে হবে। সম্প্রতি ইতালি বৃটেন, নেদারল্যান্ডস, চেক প্রজাতন্ত্র এবং বেলজিয়ামকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলির তালিকায় যুক্ত করেছে এবং এইসব দেশ থেকে ইতালিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।

সংবাদ পোর্টালটি আরও জানায় এই বিধিনিষেধের ব্যপারে ইতালীয় এবং ব্রিটিশ সরকার এক অভিন্ন সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে বৃটেন থেকে ইতালিতে সমস্ত ভ্রমণকারীদের জন্য এখন পরীক্ষার প্রয়োজন। গত বুধবার ইতালীয় সরকার সুপারিশ করেছিল যে পরের সপ্তাহে একটি জরুরী জারি করা ডিক্রি অনুযায়ী উপরোক্ত দেশ সমূহ থেকে ইতালি আগত লোকদের পরীক্ষা করা বাধ্যতামূলক করা হবে বলে প্রস্তাবের পরে ব্যাপক বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছিল এবং ১৫ ই অক্টোবর পর্যন্ত এই বিধিমালা কার্যকর হবে বলে আশা করা যায়নি।

তবে, ইতালির স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবার্তো স্পেরানজা বৃহস্পতিবার ৮ ই অক্টোবর এই নিয়মকে অবিলম্বে কার্যকর করার জন্য একটি অধ্যাদেশে স্বাক্ষর করেছেন। ফলে ইতালির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ব্রিটিশ, ডাচ, চেক এবং বেলজিয়ামের আগতদের ইতালিতে প্রবেশের পরে একটি সোয়াব টেস্টে জমা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ভ্রমণকারীদের তালিকায় যুক্ত করেছেন। উপরোক্ত দেশ সমূহ থেকে ইতালিতে প্রবেশের সময় করোনার নেগেটিভ সনদ অবশ্যই ৭২ ঘন্টার মধ্যে হতে হবে। আর যদি কেহ সনদ দেখাতে ব্যর্থ হয়,তাহলে তাকে বিমান বন্দরে নিজ খরচে টেস্ট করাতে হবে এবং রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে।

ইতালিতে বাংলাদেশী কমিউনিটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কমিউনিটির সকলের প্রতি বর্তমানে সমগ্র ইতালিতে করোনার বিধিনিষেধ যথাযথভাবে মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে যারা ইতালিতে ব্যাচেলার আছেন তারা যেন বর্তমানে একটু সতর্কতার সাথে চলাফেরা করেন। ইতালিতে এখন অনেক কন্ট্রোল চলছে। যদি পুলিশ (polizia) কন্ট্রোল করে করোনার বিধিনিষেধে কোন অনিয়ম পায়, তাহলে বাসা সিল করে তালা ঝুলিয়ে দিবে বলে প্রশাসন থেকে কড়া ভাষায় জানিয়ে দেয়া হয়েছে।

 9,248 total views,  1 views today