বেঁচে থাকাই জীবন! বাঁচতে হবে!

 জাবেদ নূর শান্ত, কক্সবাজার থেকেঃ ছবিটি দেখে কিছু বুঝতে পারছেন কি?
অনেকে হয়তো ছবিটি দেখে বলতে পারেন, রাতের কক্সবাজর। হুম! ঠিকই ধরে নিয়েছেন, এটা রাতের কক্সবাজার। আপনাদের জন্য রাতের কক্সবাজার হলেও আমার চোখে এই রাতের কক্সবাজারে আমি অন্য কিছু দেখতে পাচ্ছি, যা আমি আমার এই ছবির মাধ্যমে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করবো।

এই ইট পাথরের শহরে কোটি টাকার বিনিময়েও ছবিতে যা দেখতে পাচ্ছেন এমন মায়াভরা মুহুর্ত মাঝে মাঝে চোখের দেখাও দেখতে পায় না কেউ। একটু কষ্ট করে দেখুন তো, রাস্তার ধারে ঘুমন্ত ভাইকে বুকে জড়িয়ে ঘুমিয়ে আছে তার আদরের ছোট্ট বোনটি। তাই তো বলি, এমন মায়া-ভরা ভালবাসা আজকাল খুব একটা দেখতে পাওয়া যায় না।

ছবিতে দেখতে পাচ্ছেন, নাম না জানা এই দুই সুবিধা বঞ্চিত শিশু রাস্তার ধারে ভিক্ষা করার থালা নিয়ে ঘুমিয়ে আছে। আমার কাছে মনে হয়েছে, হয়তো তারা বেশ ক্ষুধার্থ তাই দুঃখ-ক্লান্তভরা মন নিয়ে এভাবেই ঘুমিয়ে গেছে। তার মানে এমন নয় যে, তাদের দালানকোঠা আছে, ভিক্ষা শেষ করে বাড়ি ফিরে যাবে। হাহাহা! তারা তো সুবিধা বঞ্চিত এতিম শিশু। তাদের বাবা-মা দেখতে কেমন, কেথায় আছেন কিংবা বেঁচে আছেন কিনা তাও তারা বলতে পারে না। তারাও আমাদের মত রক্ত-মাংসে গড়া মানুষ। আমরা একসময় তাদের মতই এমন ছোট ছিলাম। আমাদের যত চাহিদা ছিলো সব নিমিশেই পূরণ হতো বাবা-মা আছেন বলেই। কিন্তু সুবিধা বঞ্চিত শিশুরা মনে করেন, দু`মুটো আহার মুখে নিতে পারা এবং কোনরকম বেঁচে থাকাই হলো জীবনের সবচেয়ে বড় চাহিদা।

হয়তো ভাগ্যের নির্মম পরিহাসকে পাল্লা দিতে না পেরে আপনার আর আমার মত তারা দু’বেলা দু’মুঠে অন্ন মুখে দিতে পারছে না। পারছে না আমাদের মত নিয়মিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এর বারান্দায় ঘুরা-ঘুরি করতে। এভাবে তাদের মত দিনের পর দিন সমাজের সকল সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়ছে লক্ষ লক্ষ শিশু।

কখনো চিন্তা করে দেখেছেন কি তাদের পথ শিশু হওয়ার পেছনের কারণগুলো? সমাধান আসবে শুধু একটাই। তারা হল সমাজের সুবিধা বঞ্চিত শিশু। কিন্তু আমরা খুব সহজেই তাদের পথ শিশু বলে ফেলি।

আমরা চাইলেই আমাদের কিছু ভাল উদ্যোগ সমাজের এই সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের জীবন বদলে দিতে পারি। দেশের নাগরিক হিসেবে  দেশের প্রতি আমাদের কিছু নাগরিক দায়িত্ব থেকে যায়। মাঝে মাঝে এই বিষয়গুলো আমরা ভুলে যাই! কেনো ভুলে যাই? কারণ, আমরা কিছু পারি বা না পারি কিন্তু সমালোচনা ঠিকই করতে পারি। যেমন আমরা অল্পতেই রাষ্ট্রের উপর দোষ চাপিয়ে দেই। আমাদের বিভিন্ন সমস্যা থাকার কারণে তাদের পাশে না থেকে ওল্টো দেশের উপরে নানা ধরণের দোষ চাপিয়ে দিতে আমাদের বিবেকে প্রশ্ন জেগে ওঠে না।

আমরা তো এই দেশেরই নাগরিক। সুতরাং একটি দেশের নাগরিক হিসেবে সেই দেশের প্রতি আমাদের কিছু নাগরিক দায়িত্ব থাকা দরকার এবং সেই অবস্থান হতে নিজ নিজ উদ্যোগে আমাদের এগিয়ে আসা উচিত বলে  আমি মনে করি। রাষ্ট্রের একার পক্ষে সবকিছু সম্ভব নয়। সবকিছু রাষ্ট্র দেখতে পারবে এমন কোন কথা নেই। ইনফরমেশন গ্যাপ এর কারণে মাঝে মাঝে বিভিন্ন সমস্যা সরকারের কাছে তুলে ধরা অসম্ভব হয়ে পড়ে। আমরা চাইলেই কিন্তু এই ছোট ছোট সমস্যাগুলোকে বদলে দিয়ে দেশের আশির্বাদে পরিণত করতে পারি। দরকার শুধু আপনার আর আমার মধ্যে তাদের পাশে দাড়ানোর জন্য ক্ষুদ্র প্রচেষ্ঠা।

আসুন আমরা যে যার মত তাদের পাশে দাড়াই। তাদের চাওয়া পাওয়া এতটাও বড় নয়। দু-বেলা দু-মুঠো অন্ন, উপযুক্ত শিক্ষা এবং চিকিৎসা, সাথে মাথা ঠাঁই দেওয়ার মত ছেট্ট একটি জায়গা। ব্যাস এতটুকু হলেই তাদের চলে।”

 

 5,707 total views,  2 views today