আত্মকথন….

 লেখক,সাব্বির আলম বাবুঃ আমার বাড়ীতে পোষা   একটি বয়ষ্ক মুরগী দশটি ডিম পেড়ে তা দিয়ে ৭টি বাচ্চা ফুটিয়েছিল। তারপর সে তার সদ্যজাত ছানান গুলোকে রোদ-বৃষ্টি, ক্ষতিকর প্রাণী ও নানারকম প্রাকৃতিক সমস্যা থেকে মায়ের অপত্য স্নেহ দিয়ে পাখার নীচে আগলে রেখে রাখতো। যা মাতৃত্বের চিরন্তন রুপ। কিন্তু বেরসিক রহস্যময় প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে জন্মের ১৮-২০ দিনের মধ্যেই বিভিন্ন রোগের ছোঁয়ায়, আজন্ম শত্রু বিড়াল আর কাকের আক্রমনে হারিয়ে যায় ৬টি মুরগীর ছানা। কেবল একটি ছানা বেঁচে ছিল মায়ের অন্ধেরষষ্টী হয়ে। বেশীর ভাগ ছানাকে হারিয়ে তার প্রতি মায়ের মাতৃত্বের প্রবল বর্ষন যেন উদার ও অকৃত্রিম ভাবে ঢেলে দিচ্ছিল। সেটাও যেন নির্মম- প্রতিহিংসা পরায়ন প্রকৃতির সহ্য হচ্ছিল না। একসময় অজানা রোগে আক্রান্ত হয়ে একটানা ৩ দিন হাটতে ও খেতে না পারা মা মুরগীটি কেবল শুয়ে শুয়ে মৃত্যুর প্রহর গুনছিল। অনেক ঔষধ খাইয়েও সুস্থ করা করা যায়নি। মায়ের এই অসুস্থ সময়টাতে অবুঝ ছানাটি মৃত ভেবে অসুস্থ মা মুরগীর শরীরে আক্রমনকারী পিঁপড়া গুলোকে নিজের ছোট ঠোঁট দিয়ে ফেলে দিচ্ছিল। এই মা যে তার একমাত্র আশ্রয়স্থল। সে না থাকলে ছানাটির নিজের ভবিষ্যত অনিশ্চিত জীবন ও সর্বোপরি মায়ের মাতৃত্বের ঋন পরিশোধে পরম আদরে সে যতটুকু সম্ভব তার ক্ষুদ্র সামর্থে নিরলসভাবে মায়ের সেবা-শুশ্রূষা করছিল। আর কুই কুই করে ডাকছিল। হয়তো তার ভাষায় বলছিল মা,মা তোমার কিছু হবেনা অথবা বিধাতার কাছে মায়ের সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছিলো। মৃতপ্রায় অসুস্থ মা মুরগীটিও অবশ-নিথর শরীরে বহুকষ্টে নিজের পালকের মাঝে চির বিদায়ের আগে শেষ মুহুর্তের জন্য নিজের আদরের মানিক একমাত্র ছানাটিকে পরম মমতায় স্নেহের পরশ বুলাচ্ছিল। এ যেন মা ও ছানার যার যার অবস্থান থেকে কৃতজ্ঞতার আদান-প্রদান। মুরগী পরিবারের এই ক্ষুদ্র জীবন চক্রে কত কিছুই না দেখার ও শেখার আছে আমাদের। আজ মা মুরগীটা নিজের ছানা ও পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে চির বিদায় নিয়েছে। ছানাটি অনবরত ডেকে যাচ্ছে তার মাকে। আর আমার দুচোখ থেকে নিজের অজান্তেই কখন যেনো দুফোটা অশ্রু গড়িয়ে গাল বেয়ে নীচে গড়িয়ে যাচ্ছে বুঝতোই পারিনি।

 6,739 total views,  1 views today