“আমার বঙ্গবন্ধু” পর্ব চার (৪)

ভিয়েনা থেকে,নাসরিন নাহীদঃ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বারোজন ফাঁসির আসামীর মধ্যে ষষ্ঠ ফাঁসি কার্যকর করা হলো আজ। প্রায় পঁয়তাল্লিশ বছর লেগে গেল আধা ডজন খুনীর বিচার, রায় ও ফাঁসি কার্যকর করতে। একখুনী মারা গেলেও ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে  এখনো পাঁচ জন ফাঁসির আসামি।                                                 

আজ রবিবার ২০২০ এর প্রথম প্রহরে অর্থাৎ ০০:০১ মিনিটে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝোলানো হলো খুনী মাজিদকে। গত ৬ এপ্রিল মিরপুরে একটি রিক্সা থেকে গোয়েন্দা পুলিশ তাকে আটক করে। আদালতের রায় ঘোষণার পর প্রাণ ভিক্ষার আবেদন করেছিল খুনী মাজিদ। রাষ্ট্রপতি আবেদনটি নামঞ্জুর করলে ঢাকার কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারে তার ফাঁসি কার্যকর করা হয়। উল্লেখ্য নতুন এই কারাগারে সর্বপ্রথম ফাঁসিতে ঝুললো খুনী মাজিদ। সদ্য সমাপ্ত হওয়া এই কারাগারটিকেই হতে হলো ইতিহাসের জঘন্যতম খুনীর ফাঁসির সাক্ষী।                      

আবদুল মাজিদ এর পিতার নাম মৃত আলী মিয়া। তার জন্ম ভোলার বোরহান উদ্দিন উপজেলার বাটামারা গ্রামে। খুনী মাজিদ চার মেয়ে ও এক ছেলের জনক। তার স্ত্রী সালেহা মাজিদ পরিবারের সাথে ঢাকা সেনানিবাসের ক্যান্টনমেন্ট আবাসিক এলাকার ১নং রোড এর ১০এ নং বাড়ীতে বসবাস করে। ভোলাবাসির জোর আপত্তির কারণে লাশের মাটি জুটেছে শ্বশুরের এলাকা নারায়ণগঞ্জে।

খুনী মাজিদ একজন বরখাস্তকৃত ক্যাপ্টেন ছিল। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা কর্মে জড়িত পনেরো সেনা কর্মীদের মধ্যে অন্যতম প্রধান  খুনি সে। এই খুনী মাজিদ ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট এ বঙ্গবন্ধুর একান্নবর্তি পরিবারের সকলকে হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি।                 

১৯৭৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে এই খুনী মাজিদ তার সেনাসদস্য ধরে নিয়ে যায় মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল আলম মিন্টু সাহেবকে, যিনি ১৯৭৩ ব্যাচের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ছিলেন। ঐ সময়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক সচিব তোফায়েল আহমেদ এর এপিএস ছিলেন মিন্টু সাহেব। খুনী মাজিদ তার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য গোপন তথ্য লাভের আশায় মুক্তিযোদ্ধা মিন্টু সাহেবের উপর ভয়াবহ নির্যাতন চালায়। শফিকুল আলম মিন্টু সাহেব খুনী মাজিদ এর জঘন্য অত্যাচারে নির্মমভাবে প্রাণ হারান। ভয়ঙ্কর পাশবিক খুনী মাজিদ শফিকুল আলম মিন্টু সাহেবের লাশ ভাসিয়ে দিয়েছিল বুড়িগঙ্গা নদীতে। মিন্টু সাহেবের স্ত্রী সন্তানের পঁয়তাল্লিশ বছর ধরে কোটি কোটি মূহুর্তের অশান্ত আর্তনাদ আজো হাহাকার করে ভেসে বেড়াচ্ছে বুড়িগঙ্গার ঢেউ এর সাথে সাথে ।             

নাসরিন নাহীদ ভিয়েনা, অস্ট্রিয়া ১২ এপ্রিল ২০২০ 

 4,104 total views,  1 views today