বংঙ্গবন্ধু কে স্বপরিবারে হত্যার কারন বাকশাল ? নাকি দেশ বিরোধীদের দূরদর্শী ষড়যন্ত্র !


ভিয়েনা থেকে, আকতার হোসেনঃ দীর্ঘ তেইশ বছর অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে কঠোর রাজনৈতিক মোকাবিলায় নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্যে দিয়ে ভূখণ্ডের স্বাধীনতা লাভের প্রথম পর্ব শেষ করেন বংঙ্গবন্ধু
উনিশশত বাহাত্তরের দশই জানুয়ারি জাতির জনক বংঙ্গবন্ধু সারা জীবনের প্রত্যাশিত স্বাধীন দেশে প্রত্যাবর্তন করেন। পাকিস্তানিদের রেখে যাওয়া ধ্বংসস্তূপের উপর দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম যুদ্ধ অর্থনৈতিক মুক্তি শূন্য থেকেই শুরু করেন । তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দেশের অবকাঠামো ও সুদূরপ্রসারী ভবিষ্যত পরিকল্পনা তাঁর সপ্নের সোনার বাংলা গড়তে
মাত্র শাড়ে তিন বছর শাসনকালে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ভাবে দেশকে কোন মানদণ্ডে নিয়েছিলেন ? তা সচেতন নাগরিক ও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের জানা। এই শিশু রাষ্ট্রে শাড়ে তিন বছরের শাসন কালে তিনি প্রশাসনের উপর কতটুকু ক্ষুব্ধ ছিলেন তা চুয়াত্তর পচাঁত্তরের জনসমাবেশে তাঁর বক্তব্য গুলো পর্যালোচনা করলে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠে । নব্য স্বাধীন দেশের মানুষদের ভালবেসে বিশ্বাস করে পুরো প্রশাসনের দায়িত্ব যাদের দিয়েছিলেন তিনটি বছর যেতে না যেতেই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, পূর্ব পাকিস্তানের প্রশাসন রাজনৈতিক নেতা সাধারণ মানুষ তার আংগুলের ইশারায় চলত, স্বাধীন দেশের সাধারণ মানুষ ঠিকই আছে শুধু যাদের নিয়ে দেশ পরিচালনা করবেন , তাদের সাথে আগের লোকদের তপাৎ অনেক । এইসব দুর্নীতি বাজ চোর বাটপার দের নিয়ে বেশী দুর যেতে পারবেন না । দুঃখী মানুষের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানো কঠিন । তাই আক্ষেপের সুরে বলেছিলেন পাকিস্তানি হানাদারেরা আমার জনগনের সব সম্পদ লুটপাট করে নিয়ে গেছে। আর রেখে গেছে সব চোর বাটপাররের দল। বংঙ্গবন্ধুর দেশ ও দেশের মানুষদের বাঁচাতে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে যান।

প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে এই লুটেরাদের অনেক সতর্ক করেন । বংঙ্গবন্ধুর ভাষায় চোর না শুনে ধর্মের কাহিনী । কোন সতর্কতাই যখন কাজ হচ্ছিল না তখন বিভিন্ন ভাবে একশনে যান । বংঙ্গবন্ধুর সরকার দুর্নীতির অভিযোগে অল্পসময়ে যত জন সাংসদ কে বহিস্কৃত করেছেন অদ্যাবধি অতজন সাংসদ বহিস্কার হয়নি। এই দেশ বিরোধী দালাল টাকা পাচার কারী, দুর্নীতিবাজ, মুনাফালোভী, ঘুষখোর, গরীবের রক্তচোষা, চক্রান্তকারীদের হাত থেকে বাংলার মানুষদের কে বাঁচাতে জনগনের অধিকার ফিরিয়ে আনতে অর্থনৈতিক মুক্তির বিপ্লব হিসেবে বাকশাল করার সিদ্ধান্ত নেন।

দ্বিতীয়ত, পাকিস্তানি শ্বৈরতন্রের ট্রেনিং প্রাপ্ত তাবেদাররা সর্বস্তরের প্রশাসনিক আমলাতান্ত্রিক কর্মকর্তা ও পাকিস্তান থেকে ফেরত আসা সেনা কর্মকর্তা হাজার হাজার সৈনিক যাদের অনেকেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা মনে প্রাণে চান নাই তাদের দিয়ে শিশু রাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় সকল প্রশাসনিক কাঠামো সাজানোর কারনে পাকিস্তানের শেখানো লুটপাটের চরিত্রের পরিবর্তন করা যাচ্ছিল না বলেই বাকশাল করার সিদ্ধান্ত নেন ।
অতঃপর মুনাফালোভী, ঘুষখোর, গরীবের রক্তচোষা ক্ষমতা লোভীরা বুঝতে পেরে ৯৫% মানুষের  অধিকার কে জিম্মি করতে ৫% চক্রান্তকারীরা এই  নৃশংসতম হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেছিল । যারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে, রাষ্ট্রের মূলনীতি বদলে দিতে, স্বাধীন বাংলাদেশ কে পরাধীন রাখার ষড়যন্ত্রে, মূল কথা বাংলাদেশকেই হত্যা বা ধ্বংস করে ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে বংঙ্গবন্ধু কে স্বপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা করে।

বাংলাদেশ স্বাধীনের পর এই হত্যাকাণ্ডের মধ্যে দিয়ে রাজনৈতিক ভাবে উল্খেযোগ্য কয়েকটি কলঙ্কজনক অধ্যায় ঘটেছে।

ক) ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ এ রাষ্ট্রের স্থপতি জাতিরপিতা,  রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবার সহ আত্মীয়স্বজনদের হত্যাকাণ্ড।

খ) ৩ নভেম্বর ১৯৭৫, বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে  এদেশের স্বাধীনতার নেতৃত্ব দেয়া জাতীয় চার নেতাকে জেলে হত্যাকাণ্ড। বংঙ্গবন্ধুর সরকারের মন্ত্রী পরিষদের অধিকাংশ সদস্যদের হত্যার হুমকি দিয়ে বিপক্ষে নেয়া । যারা আদর্শ বিসর্জন দিতে রাজি নয় তাদের গ্রেফতার বা হত্যা করা ।

গ) রাজধানী সহ সারা দেশের ক্যানটনমেনট ও কারাগারে নেতৃত্ব দান কারী দেশ প্রেমিক মুক্তিযুদ্ধা সেনা অফিসারদের নৃশংসতম হত্যা ।

ঘ) ২১ আগস্ট ২০০৪, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায়  তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার জনসভায় গ্রেনেড হামলায় হত্যাকাণ্ড।

ঙ) বাংলাদেশের মীমাংসিত মুলনিতি ভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনার পবিত্র সংবিধান পরিবর্তন করে বহুদলীয় গনতন্রের নামে কুলাংগার স্বাধীনতাবিরোধী চক্রকে রাজনৈতিক বৈধতা দেয়া ।

গ) বহিষ্কৃত যুদ্ধ অপরাধীদের নাগরিকত্ব দেয়া ।

ঘ) চক্রান্ত কারীরা ১৯৭৫ সালের দুটো হত্যা কাণ্ডেরই বিচার সংসদে আইন করে বন্ধ করে রাখা।

এই হত্যাকাণ্ড গুলোর বিচার নিয়ে আরো কিছু কথা বলা প্রয়োজন ।
১৯৯৬ সাল পর্যন্ত অর্থাৎ ২১ টি বছর শুধু যে বিচারই বন্ধ করা হয়েছে তাই নয় বরং খুনিদের প্রমোশন/পদোন্নতি দিয়ে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও রাজনৈতিক ভাবে সুবিধা দিয়ে নির্লজ্জ ভাবে পুরস্কৃত করা হয়।
দীর্ঘ একুশ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামিলীগ ক্ষমতায় এলে এই বিচার শুরু হয়,  
২০০১ সালে বিএনপি/জামাত ক্ষমতায় এলে এই বিচার আবার বন্ধ করে দেয়া হয়,
২০০৮ সালে আবার আওয়ামিলীগ ক্ষমতায় এলে এই বিচার শুরু হয় এবং খুনিদের ফাঁসির রায় হয়। কিছু খুনিদের ফাঁসি কার্যকরও হয়৷
প্রথম দুটি হত্যাকাণ্ডে খুনি আব্দুল মাজেদ সশস্ত্র অংশ নেয়। হত্যা করে ধানমণ্ডির বাসভবনে থাকা বঙ্গবন্ধুর পুরো পরিবার কে এবং জেলে থাকা জাতীয় চার নেতাকে।
১২ এপ্রিল ২০২০ প্রথম প্রহরে আত্মস্বীকৃত খুনি  আব্দুল মাজেদের ফাঁসি কার্যকর হয়।
দুর্ভাগ্যের বিষয় জাতির অর্থনৈতিক মুক্তি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভাগ্যে অর্থনৈতিক মুক্তি, ষড়যন্ত্র কারীদের নিষ্ঠুর থাবায় পঁচিশ বছরের উৎপাদিত লুটেরা প্রজন্মের গহ্বরে হারিয়ে যায় ।
বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম গুটিকয়েক দেশ বিরোধী ছাড়া সকল দল স্বাধীনতা যুদ্ধের স্বার্থে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সর্বদলীয় জোটের মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ হলে ও ব্যক্তিগত ও সামাজিক চরিত্রে ঐক্যবদ্ধ ছিল না ।
বংঙ্গবন্ধু ভুল করেছিল এদের বিশ্বাস করে ।
বংঙ্গবন্ধুর ভালবাসা ও বিশ্বাসের সুযোগে জন্মলগ্নে এইসব দুর্নীতি বাজ ঘুষখোর লুটেরা ও সুবিধাভোগী বুদ্ধিজীবীরা যাত্রা শুরু করে। এরপর ষড়যন্ত্র শুরু হয় । ষড়যন্ত্রে কৃতকার্য হয়ে শ্বৈরতন্রের ছত্রচ্ছায়ায় আরো পঁচিশ বছর তারা চাষাবাদ করে, এই দেশেই সাত থেকে সতেরো কোটি মানুষ দুর্নীতি বাজদের সাগরে হাবুডুবু খেতে খেতে শিশু থেকে পৌড়তায় পৌঁছেছে । এই দেশেই ঐ দুর্নীতি বাজদের ধারাবাহিক প্রশাসনের তৈরি প্রজন্মের সাথে থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এগারো বছরে সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন সপ্নে হঠাৎ আলাদিনের চেরাগ পেয়ে সপ্নের রাজ্যে উট পাখির পিঠে চড়িয়ে উড়ে বেড়ানোর মতোই । সপ্নো ভাঙ্গলে ঠুস। স্বান্তনা এতটুকুই যে যাদের হত্যা করা হয়েছে তাদের ফিরে পাবো না তবে তাদের হত্যাকাণ্ডের বিচার নয় হত্যা কারীদের বিচার করতে পেরেছি। জাতি কিছুটা হলেও কলংন্ক মুক্ত হয়েছে।

বঙ্গবন্ধুকে নৃশংস হত্যার কারণ হিসেবে দেশ বিরোধী দালাল, খুনিরা ও তাদের বংশধরেরা আজো বলে বেড়ায় বঙ্গবন্ধু বাকশাল কায়েম করতে চেয়েছিলো তাই তাকে হত্যা করা হয়েছে,,
এই কথাটা শুধু দালাল আর খুনিরা এবং তাদের বংশধরেরা হত্যাকাণ্ডকে জনগনের নিকট প্রতিষ্ঠিত করতেই বলে বেড়িয়েছে, যদি বাকশালের জন্যই বঙ্গবন্ধু কে হত্যা করা হয় তাহলে কিছু প্রশ্ন এসেই যায় ।

ক) শায়ায়েত জামিলের বইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী বঙ্গবন্ধু সরকারের বিরুদ্ধে প্রথম অভ্যুত্থান ঘটানোর চেষ্টা হয়েছিল ১৯৭৩ সালে, তখন তো বাকশালের কোন ইজমের অস্তিত্বই ছিলো না। কেন এই মিথ্যা প্রচারণা?

খ) বাকশালের কারণেই যদি বঙ্গবন্ধু কে হত্যা করা হবে তাহলে মোশতাককে কেন খুনিরা কয়েক দিনের জন্য প্রেসিডেন্ট বানালো? মোশতাকও তো বাকশালের একজনই ছিলো এমনকি বঙ্গবন্ধুর সবচেয়ে কাছের ছিল ।
গ) জেলের ভিতরে খুনিরা জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করেছিলো কেন? তখন তো বাকশাল বিলুপ্তই হয়ে গিয়েছিলো।

ঘ) তাজউদ্দীন আহমেদ বাকশালের বিরোধী ছিলেন, তাকে প্রেসিডেন্ট না করে হত্যা করা হলো কেন ?
ঙ ) বংঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন না করে চেতনাক ক্ষতবিক্ষত করা হলো কেন?

চক্রান্ত কারী খুনিরা বলে, বংঙ্গবন্ধুর সরকার দুর্নীতি বাজ মুনাফালোভী,গরীবের রক্তচোষা এবং ঘুষখোর তাঁরা ৯৫% মানুষ কে জিম্মি করে দুর্নীতি করার জন্যই ছিলো বাকশাল। এসব বলে খুনীদের ও দেশ বিরোধী দালালদের বংশধরেরা বৈধতা দিতে চায়।
আমার তাদের নিকট জানতে ইচ্ছে করে বংঙ্গবন্ধু কে স্বপরিবারে হত্যা করে পঁচিশ বছর দেশকে আপনারা কি দিয়েছেন? জাতি তা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে ।
বংঙ্গবন্ধুর বাকশাল কে তারা স্বৈরতন্ত্র বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছিল ।
এই হত্যাকাণ্ডের আরো কিছু কারণ:
(এক) বংঙ্গবন্ধুর বাকশাল ছিল একটি ফিলসফি যা আমলা তন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর গণতান্ত্রিক সুসম বন্টন । ছিল ভাগ্যের পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক মুক্তির বিপ্লবী মাধ্যম। সেখানে লুটেরাদের কোন সুযোগই থাকতো না । আর সেটাই প্রান্তিক জনগোষ্ঠী কৃষক শ্রমিকদের প্রাণ পুরুষ বংঙ্গবন্ধুর জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
(দুই) এই হত্যাকাণ্ড ছিলো পাকিস্তান ও তাদের দালাল দের পরাজয়ের বহিঃপ্রকাশ।
(তিন) এই হত্যাকাণ্ডের কারন ছিল দুর্নীতি বাজ পাকিস্তানি আমলা , লুটেরা প্রশাসনিক কর্মকর্তা, দুর্নীতি বাজ সুবিধাভোগী কিছু রাজনৈতিক নেতার ক্ষমতা লিপ্সুর স্বার্থ চরিতার্থ করা।
(চার) তৎকালীন সময়ে বিশ্বের পরাশক্তি আমেরিকা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা কারী আমেরিকার পরাজয়ের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।
(পাঁচ)  উচ্চাভিলাষী মোনাফেকী পাকিস্তানের পেতাত্বা ক্ষমতা লিপ্সু কিছু সেনা কর্মকর্তা ।
(ছয়) এই হত্যাকাণ্ড ছিলো তৎকালীন সৌদির ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ , তার উপর সৌদি বাদশাহ বঙ্গবন্ধুকে প্রশ্ন করে ছিলেন আপনার আশি ভাগ মুসলমানের দেশে ধর্মেনিরপেক্ষ কেন ? উত্তরে বললেন আমারা বাংগালী বিভিন্ন ধর্মের লোক সবাই মুক্তিযুদ্ধের হক দার তাই। পাল্টা প্রশ্ন বংঙ্গবন্ধু করেন আপনার শতভাগ মুসলিমদের দেশে রাজতন্ত্র কেন ? বাদশাহ বংঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিত্বের কাছে পরাজিত হয়েছিলো।

(সাত) এই হত্যাকাণ্ড ছিলো একাত্তরের যুদ্ধে পরাজিত চীনের পরাজয়ের বহিঃপ্রকাশ।

চক্রান্ত কারীরা ক্ষমতা আর আর্থিক সুবিধা পাওয়ায় লোভে তিরিশ লক্ষ শহীদ দুই লক্ষ মা বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে অর্জিত শত বছরের স্বপ্নের পাওয়া স্বাধীনতার উত্তর শুরী সাত কোটি মানুষের ভবিষ্যত আশা আকাঙ্ক্ষাকে গলাটিপে হত্যা করেছিল। বাংলাদেশের রাষ্ট্রের মূলনীতি বদলে দিতে, স্বাধীন বাংলাদেশ কে পরাধীন রাখার ষড়যন্ত্রে মূল কথা বাংগালীদের উজ্জ্বল সুন্দর ভবিষ্যত কে গলা টিপে হত্যা ও ধ্বংস করেছে ।
কিছু হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়েছে সেখানে শুধুমাত্র হত্যা কারী দের বিচার হয়েছে । যারা হত্যাকান্ডের পরিকল্পনা কারী তাদের বিচারের আওতায় আনতে না পারলে কখনোই পূর্ন বিচার হবে না জাতি ও মুক্তি পাবেনা । (যদিও বংঙ্গবন্ধুক হত্যার মধ্যে দিয়ে পুরো দেশকে পঞ্চাশ বছরে পেছনে ফেলে দিয়ে ঐক্যবদ্ধ জাতিকে যেই ভাবে দ্বিধা বিভক্ত করেছে সেই ক্ষতি কখনোই পূরন হবার নয়)
ভবিষ্যতে এই হত্যাকাণ্ডের ঔরসজাত সন্তানেরা বার বার একই ঘটনা ঘটাবে । প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের নোংরা ইতিহাস মিথ্যাচারে প্রচার হতে হতে সেই মিথ্যা অনেকটাই সত্যতে প্রতিষ্ঠিত হবে । জাতি সামান্য তৃপ্তি পেলেও ধোঁয়াসায় বিভক্ত হয়ে থাকবে ।

(মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়)

 

 3,513 total views,  1 views today