বাহারি ইফতার না করে, দুস্থদের দান করুন

 ঢাকা থেকে, জিল্লুর রহমানঃ দানশীলতা’ মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেই একটি মহৎ গুণ। কুরআন এবং হাদিসে দান-সদকার বহু ফজিলত বর্ননা করা হয়েছে। হাদিস বলা হয়েছে, “দানশীলতা জান্নাতের একটি বৃক্ষ। যা তাকে জান্নাতে পৌঁছে দিবে” (মিশকাত শরীফ)। এই ফজিলত হচ্ছে যেকোন সময়ের জন্য কিন্তু রমজানে দান-সদকার জন্য রয়েছে বিশেষ ফজিলত। যা ধর্মপ্রাণ এবং আর্থিক সামর্থ্যবান সকল মুসলমানদের জন্য সুখকর সংবাদ।

যারা সামর্থবান তারা রমজানের ইফতারে প্রতিবছর বাহারি ধরণের ইফতারের আয়োজন করে থাকি। অনেকে আবার আত্মীয় স্বজন ও নিকটজনের জন্য বিরাট ইফতার পার্টির আয়োজন করে থাকে। কিন্তু এবছর করোনা ভাইরাসের কারণে বহু অসহায় গরীব ও দুস্থ লোকজন খাদ্যের অভাবে না খেয়ে আছে। বহু কষ্টে দিনাতিপাত করছে। অনেকে লোকলজ্জায় কারও কাছে সাহায্য চাইতে পারছে না। অনেকে খাবারের অভাবে ঠিকঠাকভাবে রোজা পালন করতে পারছে না। অথচ অনেকে বাহারি ধরণের ইফতার আয়োজন করে অনেক অর্থ ব্যয় করে থাকে। যারা এ ধরণের আয়োজন করে থাকি তারা যদি এবছর একটু কম ইফতারের আয়োজন করে গরীব ও দুস্থদের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেই, তবে ভুক্তভোগীরা যেভাবে উপকৃত হবে, ঠিক তেমনিভাবে দানকারীও রমজান মাস উপলক্ষ্যে অনেক সাওয়াবের মালিক হবে।

হাদিসের দর্পণে এসেছে, রমজান মাসে একটি নফল আমল ফরজের মর্যাদায় সিক্ত। এই সূত্র অনুসারে, রমজান মাসে আমাদের প্রতিটি দান-সদকাই ‘ফরজ’ হিসেবে আল্লাহ তায়ালার নিকট গণ্য। দান-সদকার এমন ঈর্ষণীয় ফজিলত অন্যান্য মাসে কখনোই পাওয়া যাবে না। শুধুমাত্র রমজানেই এই ‘অফার’ সীমাবদ্ধ।

আর হাদিস শরীফে, রমজানকে ‘সমবেদনা ও সহানুভূতি’ প্রকাশের মাস হিসেবেও চিহ্নিত করা হয়েছে।  এটা কেন করা হলো? এ পবিত্র মাসে সমাজের অবহেলিত শ্রেণীর গরিব-দুঃখী, অসহায়-নিঃস্ব পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং যথাসাধ্য সহযোগিতা করার জন্যই। কেননা, সহানুভূতির মাস হিসেবে এই নফল আমল আল্লাহ তায়ালার দরবারে ফরজ হিসেবেই সাব্যস্ত হবে।

ইসলামের মধ্যে উত্তম কাজ কোনটি? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “অপরকে খাওয়ানো”। রমজানে আমরা প্রতিবেশীদের সাথে সানন্দে সাহরি-ইফতার ‘শেয়ার’ করতে পারি। এতে সাওয়াব যেমন হবে তেমনি সকলের মাঝে সম্প্রীতি-সৌহার্দ্য বৃদ্ধি পাবে। আর যারা গরিব, অসহায়-নিঃস্ব তাদেরকে সাধ্যানুযায়ী দান করি।

সামর্থ্য থাকলে, কোনো এক হতদরিদ্র পরিবারের এক মাসের সাহরি ও ইফতারের দায়িত্ব নেই। আমরা প্রতিবছর ঈদের জন্য নতুন নতুন জামা-কাপড় সংগ্রহ করি। চাইলে এবারের ঈদে কম খরচ করে প্রতিবেশী কিংবা চেনা-জানা কোনো গরিবকে একটি নতুন জামা বা খাদ্য সামগ্রী উপহার দিতে পারি। ফুটপাতে বসবাসকারী কোনো শিশুর মুখে হাসি ফোটাতে পারি। মোটকথা, দান-সদকার মোক্ষম সময় হলো রমজান। সমাজে সকল শ্রেণী সমভাবে রমজান কাটাতে পারবে আমাদের মুক্তহস্তে দানের মাধ্যমে। চলুন দান-সদকায় অগ্রগামী হই এবং একজন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াই। এ পবিত্র মাসে বেশি বেশি দান করে হাদিসে বর্ণিত দুর্লভ ফজিলতের ভাগীদার হই।

বিনীতভাবে

মো. জিল্লুর রহমান
ব্যাংকার ও লেখক,
সতিশ সরকার রোড,
গেণ্ডারিয়া, ঢাকা
zrbbbp@gmail.com

 5,893 total views,  1 views today