ইসলামের দৃষ্টিতে লাইলাতুল কদর বা শবে কদর কি ?

ভিয়েনা থেকে, কবির আহমেদঃ শবে কদরের গুরুত্ব শবে কদর আরবিতে লাইলাতুল কদর । এর অর্থ অতিশয় সম্মানিত ও মহিমান্বিত রাত বা পবিত্র রজনী। আরবি ভাষায় ‘লাইলাতুন’ অর্থ হলো রাত্রি বা রজনী এবং ‘কদর’ শব্দের অর্থ সম্মান, মর্যাদা, মহাসম্মান। এ ছাড়া এর অন্য অর্থ হলো—ভাগ্য, পরিমাণ ও তাকদির নির্ধারণ করা। ইসলাম ধর্ম অনুসারে, এই রাতে ইসলামের মহানবী, মোহাম্মদ সাঃ এর অনুসারীদের সম্মান বৃদ্ধি করা হয় এবং মানবজাতির ভাগ্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়। তাই মুসলমানদের কাছে এই রাত অত্যন্ত পুণ্যময় ও মহাসম্মানিত হিসেবে পরিগণিত।                                                   

কুরানের বর্ননা অনুসারে, আল্লাহ এই রাত্রিকে অনন্য মর্যাদা দিয়েছেন এবং এই একটি মাত্র রজনীর উপাসনা হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও অধিক সওয়াব অর্জিত হওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। প্রতিবছর মাহে রমজানে এই মহিমান্বিত রজনী লাইলাতুল কদর মুসলিমদের জন্য সৌভাগ্য বয়ে আনে বলে তারা বিশ্বাস করে। সুতরাং এই রাত বছরের সবচেয়ে সেরা রাত। এই রাতে করা কোন ভাল কাজ, হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। হাজার মাসকে যদি ১২ দিয়ে ভাগ করা হয়, তাহলে হিসাব দাড়ায়, ৮৩ বৎসরের চেয়ে কিছু বেশী। আর এই সময়টা মানুষের গড় আয়ুর চেয়ে বেশী।                                       

শুধু একরাত ইবাদত করা হলে, তার মর্যাদা সারা জীবন ইবাদত করার চেয়ে বেশী। এটা এমন রাত যখন সূর্যোদয়ের আগ পর্যন্ত মহান আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হতে থাতে। আল্লাহ আল কোরআনে ঘোষণা করেছেন, “নিশ্চয়ই আমি তা (কোরআন) অবতীর্ণ করেছি কদরের রাতে। আর কদরের রাত সম্বন্ধে তুমি কি জানো? কদরের রাত হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। সে রাতে ফেরেশতারা ও রুহ অবতীর্ণ হয় প্রত্যেক কাজে তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে। শান্তিই শান্তি, বিরাজ করে উষার আবির্ভাব পর্যন্ত।” সূরা আল-কদর, আয়াত ১-৫।                          

[*রুহ হচ্ছেন প্রধান ফেরেশতা হযরত জিবরাঈল আঃ] হযরত আয়েশা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, তোমরা রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাত্রিতে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান কর। [বুখারী শরীফ,হাদীস নং-২০১৭] কদরের রাত্রের যাবতীয় কাজের ইঙ্গিত দিয়ে এ রজনীর অপার বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আল্লাহতায়াআলা পবিত্র কোরআনের অন্যত্র ঘোষণা করেছেন, “হা-মীম! শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের, নিশ্চয়ই আমি তা (কোরআন) এক মোবারকময় রজনীতে অবতীর্ণ করেছি, নিশ্চয়ই আমি সতর্ককারী। এ রাতে প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্থিরীকৃত হয়। ” সূরা আদ-দুখান, আয়াতঃ ১-৪।

 5,409 total views,  1 views today