“কেন কলঙ্কের বোঝা বইতে হবে স্পেন আওয়ামী লীগের নিরপরাধ কর্মীদের ? “

স্পেন থেকে, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ তৎকালীন বিরোধী দলীয় সাবেক প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগের সভানেত্রী, বর্তমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ২০০৫ সালে স্পেনে আসেন সাংগঠনিক সফরে । স্পেন আওয়ামী লীগের  পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়,এ সময় স্পেন আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটির বর্তমান আহ্বায়ক এস আর আই এস রবিন, দলের একজন সচেষ্ট কর্মী ছিলেন ।সেদিন আওয়ামী লীগের  সকল অভিনেতাদের ভীরে একটি ফাইভ  স্টার হোটেলের হল ভাড়া করেন সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা দেওয়ার জন্য l কিন্তু শেষ পর্যন্ত সংবর্ধনা দেওয়া হয়ে উঠেনি, চেয়ার লোভ আর উঁচু-নিচু আসন নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন স্পেন আওয়ামী লীগে ঘাপটি  মেরে থাকা জামাত-শিবিরের কয়েকজন এজেন্ট, সঙ্গত কারণেই আজকের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা দেওয়া  হয়ে ওঠেনি সেদিন । স্পেন আওয়ামী  লীগের  নিবেদিত প্রাণ কয়েকজনের সাথে কথা বললে তাঁরা খুব দুঃখ  প্রকাশ করে বলেন,জননেত্রী শেখ হাসিনার সংবর্ধনা বানচালের তালিকায় যারা ছিলেন তাদের নাম । তারা  হলেন, সাবেক স্পেন আওয়ামী লীগ দুই গ্রুপের একজন সভাপতি দাবিদার আক্তার হোসেন (আতা) এবং তার সেক্রেটারি লিয়াকত হোসেন ,অন্য গ্রুপে ছিলেন ,শাকিব খান পান্না ,এবং তার সেক্রেটারি জহিরুল ইসলাম নয়ন l স্পেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা যায়,চেয়ারে কে বসবে তা নিয়ে দ্বন্দ্ব এবং শাকিল খান পান্না ,জহিরুল ইসলাম নয়নের,বিরুদ্ধে স্পেনের কয়েকজন শক্তিশালী বিএনপি জামাতের নেতার সাথে আঁতাত ও যোগাযোগের বিষয়টি পরিষ্কার হয়েছে বলে জানিয়েছেন নেতাকর্মীরা । দীর্ঘ দিন আওয়ামীলীগের দুই  গ্রুপ আতা পান্নার দ্বন্দ্বে স্পেন আওয়ামী লীগ তার বলিষ্ঠ নেতা-কর্মীদের হারিয়েছে বলে দাবি স্পেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীর। ২০১২ ইং সালে সর্ব ইউরোপ  আওয়ামী লীগের জেনারেল সেক্রেটারি এম এ গনি ,স্পেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সাথে আলোচনা না করেই বিতর্কিত পান্না নয়নকে ঘরে বসে কমিটি দিয়ে যান l এ সময়  ক্ষোভে ,  বিক্ষোভ ও জুতা মিছিল করেছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা,এ কমিটি চলতে  থাকে ২০১৮ ইং  পর্যন্ত । প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ  হাসিনা ফ্রান্সের সফরে আসলে হোটেলে বসে স্পেন আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি ঘোষণা করেন আবার এম এ গনি ,নেতাকর্মীদের দাবি এখানে বিরাট অংকের টাকার লেনদেন হয়েছে, অন্যতায় প্রধানমন্ত্রীর সংবর্ধনা  বানচাল কারি আক্তার হোসেন আতা কিভাবে সভাপতি হয় প্রশ্ন নেতাকর্মীদের  এবং স্পেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দাবি স্পেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সেক্রেটারি হবেন যারা স্পেনে বসবাস করেন, সুতারাং  আক্তার হোসেন আতা ইতিপূর্বে স্পানিশ পাসপোর্ট নিয়ে লন্ডনের অধিবাসী হয়ে গেছেন তিনি এখন লন্ডনে স্থায়ী ভাবে বসবাস করছেন বলে তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্পেন আওয়ামী লীগের প্রায় সকল নেতাকর্মী । অতএব গনি সাহেব এই বিতর্কিত কমিটি  দিয়ে স্পেন আওয়ামী লীগকে কর্মীশূন্য করেছিলেন বলে দাবি অনেকেরই । এছাড়াও  তার কমিটিতে বোরহানউদ্দিন একজন বিএনপি’র সাবেক নেতা কে ,বাই ফোর্স স্পেন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি পদে বসানো হয়েছিল, তার দেয়া সোনার নৌকা এখনো ইউরোপ আওয়ামী লীগের বড় বড় নেতাদের পকেটে ঝুলতে দেখা যায় । স্পেন  আওয়ামী লীগে শুরু হলো জেল-জুলুম আর নতুন অধ্যায়, পয়সা দিয়ে মানুষকে ব্যবহার করে স্পেন আওয়ামী লীগের দুর্দিনের কর্মীদের উপর চালানো হয় নির্যাতনের স্টিম রোলার। বাসার নাম করেন সুধাসদন আর দোকানের সামনে বড় অক্ষরে লেখা হলো বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রধান কার্যালয় যা নিয়ম বহির্ভূত । এ ব্যাপারে কোন স্পেন  আওয়ামী লীগ নেতাকে প্রতিবাদ করতে দেখা যায়নি । কমিটির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট দুলাল সাহেবের নামে,নিউজে ডট  কম আর ফেসবুকে তার আত্মহননে ব্যস্ত পরেন , ড্রাগ  ডিলার সহ নিন্দা রটনায়।  শক্তি ও টাকার বলে, ক্ষমতা নিজের  করে নিতে  চাইছিলেন বিএনপি’র সাবেক এই নেতা । এ  সময় রাগে  আর ক্ষোভে স্পেন আওয়ামী লীগ  তিন থেকে চারটা গ্রুপে বিভক্ত হয়ে যায় ।  এসময় যুক্তরাজ্য থেকে স্পেন সফরে আসেন বিএনপি’র নেতা আব্দুল মালেক, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা,ইউরোপ সফরে আসলে এই মালেক  এক দল বিএনপি’র দেশদ্রোহী নেতা কর্মীদের নিয়ে দেশদ্রোহী মিছিল আর প্রধানমন্ত্রী কে গালি গালাজ করতে থাকে দেখা যায় । এ সময় আব্দুল  মালেকের উপর ডিম ছুড়ে মারে স্পেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা,এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জামাত-শিবির ও স্পেন আওয়ামী লীগের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ শুরু হয় । সংঘর্ষে স্পেন আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হন, তাদের মধ্যে ছিলেন,আব্দুল কাইয়ুম সেলিম ,এইচ এম দবির তালুকদার ,ফয়সাল ইসলাম, ফয়জুর রহমান বড় ভাই, আক্তারুজ্জামান আব্দুল মালেক , বদরুল ইসলাম মাস্টার ,ফারুক আহমেদ মুমিন ,সবুজ আলম, এস আর আই রবিনসহ আরো অনেকে । প্রবাসী জীবন, কাজ ছাড়া কত   কঠিন নিজের চাহিদার পাশাপাশি পরিবারের চাহিদা পূরণ করে থাকেন প্রবাসীরা ,এই ঘটনায় অনেক আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীর কাজ চলে যায় ,এখনো শারীরিক যন্ত্রণায় ভুগছেন ,এইচএম দবির তালুকদার ,ফয়সাল ইসলাম ,নাম না জানা আরো অনেক । কিন্তু  প্রশ্ন হলো এতকিছুর পরে এখনও কি স্বস্তিতে আছেন স্পেন আওয়ামী লীগের সাধারণ নেতাকর্মীরা? উত্তর হলো না । দলের মধ্যে  অনুপ্রবেশকারী আর পদবী লোভীদের কারণে জেল জুলুম হয়ে পড়েছে নিত্যদিনের সঙ্গী স্পেন আওয়ামী লীগের সাধারণ কর্মীদের ।  আওয়ামী লীগ ভালোবাসি তাই ঘরে বসে থাকতে পারিনা এমন কথাই জানালেন স্পেন আওয়ামী লীগের নিবেদিতরা । স্পেন  আওয়ামী লীগের একজন কর্মী দবির তালুকদার এর সাথে কথা বললে তিনি জানান,ওয়ান-ইলেভেনে বাংলাদেশে নেত্রীর মুক্তির দাবিতে রাস্তায় আন্দোলন করেছি অনেক নির্যাতন সহ্য করেছি আর এখন প্রবাসে পদলোভী আর অনুপ্রবেশকারীদের নির্যাতনের শিকার হয়ই যাচ্ছি নিত্যদিন ।  তিনি জানান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৫ ই আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা ও দোয়া মাহফিলে জামাত-শিবিরের  ইন্দনে অনুপ্রবেশকারীরা  জাতীয় দিবসটি বানচাল করার ব্যর্থ প্রচেষ্টা চালায় । এ সময় দবির তালুকদার সবার  উদ্দেশ্যে বলেন জোড়হাত করে পায়ে পড়ি,আজ আমাদের বেদনার দিন দুঃখের দিন জাতির পিতার জাতীয় দিবস পালন করতে দিন,এ সময় তার ওপর চড়াও হয় পরে একে এক করে সাতটা মামলা দিয়ে তাকে কোনঠাসা করে রাখা হয়। এখন প্রতি সপ্তাহে কোর্টে হাজির দিতে হয় তাকে। তার মতো আরো অনেক স্পেন আওয়ামী লীগের কর্মী মামলা নিয়ে ঘরে বসে আছেন তা যেন দেখার কেউ নেই। এমনটা চলতে থাকলে  স্পেনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী খুঁজে পাওয়া যাবে না বলে জানিয়েছেন স্পেন আওয়ামী লীগের কয়েকজন ভুক্তভোগী কর্মী । এরই মধ্যে গত কিছুদিন আগে  নবগঠিত সর্ব ইউরোপ আওয়ামী লীগের সভাপতি এম নজরুল ইসলাম, মুজিবুর রহমান স্পেন ২৬  সদস্য বিশিষ্ট একটি আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন আহবায়ক এস আর আই রবিন ও রিজভী আলমকে  সদস্য সচিব করেন । এ  সময়ে সর্ব ইউরোপ আওয়ামীলীগের সভাপতি এম নজরুল ইসলাম বলেন,আমি মনে করি স্পেন আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের যানজট নিরসনে সবার সহযোগিতায় সম্মেলনের মাধ্যমে একটি সুন্দর কমিটি হবে স্পেনে  কিন্তু আহবায়ক রবিনের দাবি প্রধান মন্ত্রীর সংবর্ধনা বানচাল করে অনুপ্রবেশকারীদের ষড়যন্ত্র এখনো অব্যাহত আছে ,অনেকেই বাহির থেকে ষড়যন্ত্র করছে পুরোপুরি সহযোগিতা পাচ্ছেন না । একটি  সম্মেলন করতে যতটুকু সহযোগিতার প্রয়োজন হয় তার কিছুই পাচ্ছিনা বরং সম্মেলন বানচাল করতেই বেশি তৎপর হয়ে উঠেছেন অনেকেই । স্পেন আওয়ামী লীগের  আহ্বায়ক রবিন বলেন,জাতির পিতার জন্য দেশ পেয়েছি প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কারণেই উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে বাংলাদেশ,তিনি সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে স্পেনে একটি শক্তিশালী  আওয়ামী লীগ গঠন হবে বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন !

Leave a Reply

Your email address will not be published.