অস্ট্রিয়ার ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক বর্জ্য এখন মালয়েশিয়ার উপকূলে !

আন্তর্জাতিক পরিবেশ সংরক্ষণ NGO “Greenpeace” সংস্থা জানিয়েছেন,অস্ট্রিয়ার ৮০০ টন নিষিদ্ধ নন- পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বর্জ্য এখন মালয়েশিয়ার উপকূলে পড়ে আছে

 আন্তর্জাতজাতিক থেকে, কবির আহমেদঃ এনজিও গ্রিনপিস অভিযোগ করেছেন যে প্রায় চারটি কন্টিনারে প্রায় ৮০০ টন নিষিদ্ধ নন-পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের বর্জ্য অস্ট্রিয়া থেকে এনে মালয়েশিয়ার উপকূলে ফেলা হয়েছে। আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের এক অনুসন্ধান তথ্য বিশ্লেষণে বলা হয়েছে,নিষিদ্ধ নন-পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের বাণিজ্য বিশ্বব্যাপী এক উদীয়মান ব্যবসা। গ্রিনপিস বর্তমানে এমন একটি মামলার প্রতিবেদন দিয়েছেন যেখানে বলা হয়েছে যে,অস্ট্রিয়া থেকে মালয়েশিয়ায় প্রায় ৮০০ টন নন-পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপাদান পাঠানো হয়েছে। এনজিওর কাছে আরও এমন তথ্য রয়েছে যে,অস্ট্রিয়া থেকে পুনর্ব্যবহারযোগ্য আরও ২৮ টি কনটেইনার এশিয়ার বিভিন্ন দেশে পাঠানো হয়েছে।

গ্রিনপিস আরও জানিয়েছেন,অস্ট্রিয়ার পরিবেশ মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি জানানো হয়েছিল যে তারা বিশদ বিশ্লেষণের জন্য মালয়েশিয়া থেকে শুল্ক পাস না করে সরবরাহের চারটি কনটেইনারকে আবার অস্ট্রিয়ায় ফেরত আনার পরিকল্পনা করছে। মালয়েশিয়ার রিসাইক্লিং সংস্থার ফটো এবং ভিডিও উপাদান এবং বিবৃতি ইঙ্গিত করে যে,এশিয়ার ডিলার চুক্তির বিপরীতে মিশ্র নন-পুনর্ব্যবহারযোগ্য বৈদ্যুতিক এবং প্লাস্টিকের স্ক্র্যাপ পেয়েছিল এবং পরিশেষে মালয়েশিয়ার উপকূলে ফেলার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে।

সমস্ত নন-OECD(The Organisation for Economic Co-operation and Development) দেশ সমূহের সাথে মালয়েশিয়াও ২০১৯ সাল থেকে তার দেশে পুনঃ-পুনর্ব্যবহারযোগ্য এবং রাসায়নিক-বোঝাই প্লাস্টিকের বর্জ্য প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে। গ্রিনপিসের প্রাপ্ত নথি অনুসারে ২০২০ সালে ২৮ টি কনটেইনার ছাড়াও, ২০১৯ সালের প্রথমদিকে অস্ট্রিয়া থেকে মালয়েশিয়ায় ন্যূনতম আরও ১১টি কনটেইনার পাঠানো হয়েছিল। তবে সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছেন এই প্লাস্টিক বর্জ্য পরিবহনের ব্যাপারে মালয়েশিয়ার পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের কাছে কোন তথ্য নেই।

অস্ট্রিয়ান সংবাদ সংস্থা এপিএ বলেন, অস্ট্রিয়াতে আবর্জনা যথাযথভাবে নিষ্পত্তি করা বা জ্বালানো ব্যয়বহুল, কারণ পরিবেশগত নিয়মকানুন এবং উচ্চ শ্রমের ব্যয়ের কারণে অস্ট্রিয়ান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলি অ্যাসোসিয়েশন অনুসারে প্রতি টন পোড়াতে €১০০ ইউরো থেকে €১৭০ ইউরোর মধ্যে খরচ পড়ে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন পরিবেশ সংস্থা EER এর এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে অক্টোবর ২০১৯ থেকে এই পর্যন্ত অস্ট্রিয়ার এই ৮০০ টন বর্জ্য সামান্য পরিমাণই,কেননা EU ২০১৯ সালে প্রায় ১,৮ মিলিয়ন টন প্লাস্টিকের বর্জ্য এশিয়াতে রপ্তানি করেছে। তবে গ্রিনপিস ইইউ প্রকল্প “ব্লকওয়াস্ট” এর ট্রান্সক্রাইম গবেষণা কেন্দ্রের একটি বিশ্লেষণের দিকে ইঙ্গিত করেছে, যার মতে অস্ট্রিয়ায় ৫০ শতাংশেরও বেশি বিপজ্জনক বর্জ্য সরকারী বাজার থেকে অদৃশ্য হয়ে গেছে বলে জানা গেছে।

আন্তর্জাতিক পরিবেশ সংরক্ষণ NGO সংস্থা “Greenpeace” এর ভোক্তা বিশেষজ্ঞ লিসা পানহুবার বলেন,”প্লাস্টিকের বর্জ্যের বৈশ্বিক বাণিজ্য একটি নোংরা ব্যবসা যা আমাদের পরিবেশকে ধীরে ধীরে বিষাক্ত করে তুলেছে। প্লাস্টিকের প্যাকেজিং, পলিয়েস্টার পোশাক বা বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের মতো জিনিসগুলি ইউরোপে অল্প সময়ের জন্য ব্যবহৃত হয়। তারপর এই বর্জ্য এশিয়া বা আফ্রিকার বিভিন্ন উপকূলে ফেলার ফলে প্রকৃতির,বিভিন্ন প্রাণী এবং মানুষের স্বাস্থ্যের ব্যাপক ক্ষতি সাধন হচ্ছে। গ্রিনপিসের ভোক্তা বিশেষজ্ঞ লিসা পানহুবার জোর দিয়ে বলেন,এখন এই অবস্থার অবসান হওয়া উচিত। গ্লোবাল সাউথের দেশগুলিতে কোনও ইউরোপীয় বর্জ্য যেন আর না যায় সেজন্য কর্তৃপক্ষকে আরও কঠোর এবং আরও নিয়মিত নিয়ন্ত্রণ পরিচালনা করতে হবে।

 

 10,224 total views,  1 views today