অস্ট্রিয়ায় দ্বিতীয় লকডাউনের হুঁশিয়ারি দিলেন সরকার প্রধান সেবাস্তিয়ান কুর্জ !

অস্ট্রিয়ায় করোনার সংক্রমণের বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আমরা দ্বিতীয়বারের মতো লকডাউনে যেতে বাধ্য হব – চ্যান্সেলর সেবাস্তিয়ান কুর্জ

 অন লাইন ডেস্ক থেকে,কবির আহমেদঃ অস্ট্রিয়ার সরকার প্রধান চ্যান্সেলর সেবাস্তিয়ান কুর্জ গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় অস্ট্রিয়ার দৈনিক পত্রিকা”কুরিয়ার”এর সাথে এক সাক্ষাৎকারে উপরোক্ত মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন,আমাদের দেশে করোনার সংক্রমণ নাটকীয় বৃদ্ধি পেলেও পরিস্থিতি এখনও আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জনগণকে সতর্ক করে তিনি বলেন,”আমাদের সামাজিক আচরণ বদলাতে হবে। আমরা যত বেশী করোনার আরোপিত বিধিনিষেধ যথাযথভাবে মেনে চলতে পারবো ততবেশী দ্বিতীয় লকডাউন থেকে বেড়িয়ে আসতে পারবো।

তিনি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বলেন, লকডাউন প্রতিরোধ করার জন্য আপনাদের এখন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তিনটি নিয়মাবলী ধারাবাহিকভাবে অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে।

*”আপনারা একে অন্যের থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে চলুন।” *সর্বদা নাক ও মুখের সুরক্ষা বন্ধনী বা মাস্ক পড়ুন। * সামাজিক যোগাযোগ হ্রাস করুন।

তিনি এর সাথে আরও যোগ করেন যে ঘর,অফিস বা আবদ্ধ জায়গায় সর্বোচ্চ ৬ জন এবং বাহিরে সর্বোচ্চ ১২ জনের বেশী মানুষ একসাথে সমবেত না হওয়ার বিধিনিষেধ মেনে চলার অনুরোধ করেছেন। সরকার প্রধান আশা প্রকাশ করে বলেন,রবিবার ২৫ অক্টোবর থেকে কার্যকর এই সমস্ত বিধিনিষেধ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শরতের ছুটিতে লোকজন বেশীরভাগ সময় নিজ নিজ বাসায় থাকলে সংক্রমণের বিস্তার কমে আসবে। তবে তিনি এই আশঙ্কাও করেছেন যদি সংক্রমণের এই ধারা অব্যাহত থাকে তাহলে ডিসেম্বর মাসে প্রতিদিনের সংক্রমণ ৬,০০০ হাজারে গিয়ে পৌঁছাবে।

তিনি দুঃখ করে বলেন যে,এখনও অনেকেই এটি বিশ্বাস করতে চায় না যে,পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর অবস্থার দিকে ধাবিত হচ্ছে। বর্তমানে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের মতো আমরাও চেষ্টা করছি বেশী সংক্রমিত অঞ্চল সমূহ চিন্হিত করে কঠোর বিধিনিষেধ বা অঞ্চল ভিত্তিক সাময়িক লকডাউন দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে।

কুর্জ নিশ্চিত যে আমাদের সকলের লক্ষ্য একই: একদিকে, “অস্ট্রিয়ার হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) এর সক্ষমতা নিরাপদ রাখা বা অতিরিক্ত চাহিদা রোধ করা” এবং অন্যদিকে, আমাদের যতটা সম্ভব অর্থনৈতিক সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে চেষ্টা করা।” তাই তিনি আরও একবার স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন যে, “যত বেশি নিয়মিত নিয়ম মেনে চলা হবে, লোকজন সংক্রমিত কম কম হবে এবং আমাদের হাসপাতাল ও আইসিইউ এর উপর চাপ কম পড়বে। তখন এর ফলস্বরূপ দেশের অর্থনীতি ও চাকরির ক্ষতি কম হবে।

তিনি গত শুক্রবার অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী রুডল্ফ আনস্কোবারের সাংবাদিক সম্মেলনের বক্তব্য পুনরাবৃত্তি করে বলেন,মহামারী আইন অনুযায়ী শর্ত রয়েছে যে যতক্ষণ পর্যন্ত হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) সামর্থ্য (পর্যাপ্ত বেড খালি) থাকবে ততক্ষণ লকডাউন অনুমোদিত নয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেছেন যে, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার হুমকি দেখা দিলে লকডাউন দেয়া তখন বাধ্যতামূলক হয়ে যাবে।

 10,493 total views,  1 views today