অস্ট্রিয়ায় কারফিউ চলাকালীন সময়ে ৫ টি কারনে ঘর থেকে বের হওয়ার অনুমতি আছে !

রাত ৮ টা থেকে ভোর ৬ টা পর্যন্ত কারফিউ,আইন অমান্যকারীদের জরিমানা €1,450 ইউরো – স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

 অন লাইন ডেস্ক থেকে,কবির আহমেদঃ অস্ট্রিয়ায় মঙ্গলবার ৩ নভেম্বর থেকে ৪ সপ্তাহের জন্য লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। এই লকডাউন চলাকালীন সময়ে রাত ৮ টা থেকে ভোর ৬ টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়েছে। অর্থাৎ সরকারের নির্দেশিত ৫ টি কারন ছাড়া উপরোক্ত সময়ে পুলিশ কন্ট্রোলে রাস্তায় বা স্টেশনে কেহ ধরা পড়লে জরিমানা গুনতে হবে €1,450 ইউরো।                                  

কারফিউ চলাকালীন সময়ে যারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে (যাদের – বাহিরে যাওয়ার অনুমতি আছে) ডিউটিতে আসা ও যাওয়ার সময় পুলিশ কন্ট্রোলের জন্য নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে সনদ নিয়ে সাথে রাখতে হবে। কারফিউ চলাকালীন সময়ে যে ৫টি কারনে ঘরের বাহিরে যাওয়ার অনুমতি আছে – ১. জীবন বা প্রাণ নাষের আশঙ্কা,অঙ্গ এবং সম্পত্তিতে বা বাড়িতে কোন বিপদ দেখা দিলে, ২. কাউকে সহায়তার প্রয়োজনে,নিজের লোকের যত্ন নেওয়ার জন্য এবং সহায়তার পাশাপাশি নিজস্ব পারিবারিক অধিকার ও কর্তব্যের জন্যে, ৩. প্রাত্যহিক জীবনের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের সঙ্কট দেখা দিলে, ৪. পেশাদার লোকজন অর্থাৎ কারফিউ চলাকালীন সময়ে যাদের ডিউটির অনুমতি আছে। ৫. শারীরিক ও মানসিক স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য একা বাহিরে বাড়ির সন্নিকটে হাঁটা, সাথে কুকুর নেয়া যাবে এবং একাকী জগিং করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। করোনা ভাইরাসের কোভিড-১৯ একটি মানুষ বাহিত ছোঁয়াচে ভাইরাস রোগ। কাজেই একজন মানুষ যখন অন্য মানুষের সংস্পর্শে কম আসবে সংক্রমণের বিস্তার তত কম হবে। করোনার এই দ্বিতীয় দফার প্রাদুর্ভাবে অস্ট্রিয়ায় বসবাসকারী বাংলাদেশী প্রবাসীর মধ্যে বিশেষ করে ভিয়েনায় এই পর্যন্ত প্রায় দেড় শতাধিক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। আলহামদুলিল্লাহ এর মধ্যে প্রায় ৭০% ই আরোগ্য লাভ করেছেন। হাতে গোনা মাত্র কয়েকজন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত প্রবাসী এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।

বর্তমানে এই ভাইরাসটির সংক্রমণের বিস্তার অস্ট্রিয়ায় ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। রবিবার সন্ধ্য্যয় অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন করোনা রোগীদের জন্য নির্ধারিত আইসিইউ বেডের প্রায় ৬৭% পূর্ণ হয়ে গেছে। এখনই যদি করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি কমিয়ে আনা না যায়,তাহলে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাহিরে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। তাই তিনি মঙ্গলবারের অপেক্ষা না করে এখনই পারস্পরিক একে অন্যের সাথে দূরত্ব বজায় রাখা সহ সকল করোনার বিধিবিধান যথাযথ মেনে চলার অনুরোধ করেছেন। এই অবস্থায় আমাদের কমিউনিটির লোকজনের নিকট অনুরোধ যথাযথভাবে সরকারের করোনার বিধিনিষেধ সমূহ মেনে চলুন এবং আগামী এক মাস শুধুমাত্র এক বাসায় বসবাসকারী ব্যতীত বাহিরের আত্মীয়স্বজন,বন্ধুবান্ধব এবং অন্য কোন মানুষের সাথে মেলামেশা,সাক্ষাত বর্জন করুন অথবা বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করুন।

 10,725 total views,  1 views today