৭৮ বৎসর বয়স্ক জো বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬ তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত !

 আন্তর্জাতিক ডেস্ক থেকে,কবির আহমেদঃ নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন জাতির উদ্দেশ্যে প্রথম ভাষণে ঘোষণা দিয়েছেন যে, তিনি স্বাস্থ্য নিয়ে প্রথম কাজ করবেন। ২৫৩ টি(বেসরকারীবাবে ২৬৪) ইলেক্টোরাল ভোট নিয়ে শনিবারও শুরু থেকেই এগিয়ে ছিলেন জো বাইডেন। ট্রাম্পের সপক্ষে ভোট ছিল মাত্র ২১৪ টি। জর্জিয়ায় ভোট পুনর্গণনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর আশায় বুক বাঁধতে শুরু করে ট্রাম্প শিবির। ডেমোক্র্যাটদের গড় হিসেবে পরিচিত পেনসিলভেনিয়ার দিকেই তাকিয়ে ছিলেন বাইডেন ও তাঁর সমর্থকরা। তাঁরা জানতেন, সেখানে ২০টি ইলেক্টোরাল ভোট জিতে নিতে ট্রাম্পের আর কিছু করার থাকবে না। অবশেষে তাই হল, পেনসিলভেনিয়াই বাইডেনকে জয় এনে দিল।                                         

তবে পেনসিলভেনিয়ার পাশাপাশি এ দিন নেভাদায় ৬টি ইলেক্টোরাল ভোটও জিতে নেন বাইডেন। দিনের শেষে তাঁর প্রাপ্ত ইলেক্টোরাল ভোট দাঁড়ায় ২৫৩+২০+৬=২৭৯, যেখানে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২৭০ টি। একই সঙ্গে এ দিন আমেরিকায় ইতিহাস গড়লেন ভারতীয বংশোদ্ভূত(বাবা ডোনাল্ড হ্যারিস এবং মা শ্যামলা গোপাল) কমলা হ্যারিস।  দেশের প্রথম মহিলা ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন তিনি। এর আগে যদিও ডেমোক্র্যাটদের হয়ে বাইডেনের সঙ্গেই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছিলেন কমলা। তবে পরবর্তীকালে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে তাঁকেই বেছে নেন জো বাইডেন।    

জো বাইডেন ১৯৪২ সালের ২০ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়া রাজ্যের স্ক্রানটনে জন্মগ্রহণ করেন। তার শৈশব,কৈশোর ও যৌবন যথাক্রমে স্ক্রানটন, নিউ ক্যাসল কাউন্টি ও ডেলাওয়ারে রাজ্যে অতিবাহিত হয়েছে।পরিবারের চার ভাইবোনের মধ্যে জো বাইডেন সবার বড়। জো বাইডেনের রাজনৈতিক জীবন দীর্ঘ প্রায় ৫০ বৎসরের।

১৯৮৭ সালে একবার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়ার জন্য মাঠে নামেন। ডেমোক্র্যাট দলের মনোনয়ন চেয়েছিলেন। কিন্তু তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে যে, তিনি অন্যের লেখা চুরি করে নিজর নামে চালিয়েছেন! এই অভিযোগের সূত্র ধরে আরেকটা অভিযোগ সামনে আনা হয়। ছাত্র জীবনের একটি ঘটনা, যখন তিনি আইনের ছাত্র হিসাবে তার সাইটেশন পেপারে আরেকজনের লেখা হুবহু ব্যবহার করেছিলেন। তিনি তখন বলেছিলেন, সেটা যে নিয়ম বহির্ভূত তা তিনি জানতেন না। এমন অসততার অভিযোগ আনা হলে তিনি প্রচারণা থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হন! পরে তার এক জীবনীকারকে মি. বাইডেন বলেছিলেন, ওই ঘটনা তাকে “কুরে কুরে খেয়েছে। নিজেকে আমি চিরকাল একজন সৎ মানুষ হিসাবে মনে করেছি। সেই জায়গাটা বিরাট ধাক্কা খেয়েছে।” আরেক জায়গায় তিনি লিখেছেন, “এর জন্য দায়ী আমি নিজে। নিজের ওপর রাগ আর হতাশায় ভুগছি। আমেরিকার মানুষকে আমি কীভাবে বোঝাবো এটাই জো বাইডেনের আসল পরিচয় নয়। এটা শুধু আমার মস্ত একটা ভুল”!              

এরপর স্বজন হারানো, স্ত্রী-পুত্রবিয়োগ, নিজের মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ সহ নানা সংকটে আর ২০ বছর নিজের সঙ্গে সংগ্রাম করেন বাইডেন। এর মাঝে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হয়ে গেছেন তার থেকে বয়সে কনিষ্ঠ অনেকেই, যেমন- বিল ক্লিনটন, জর্জ ডব্লিউ বুশ, বারাক ওবামা ও ট্রাম্প! তিনি ৩৫ বৎসর যাবৎ ডেলাওয়ার রাজ্যের ডেমোক্র্যাটস সিনেটর হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।     

২০০৮ সালে দলীয় মনোনয়ন দৌঁড়ে নামেন। তবে বারাক ওবামার সঙ্গে পেরে উঠেননি। যদিও ওবামার তাকে ভাইস প্রেসিডেন্ট করে নেন। ফের ২০১৬ সালের নির্বাচনেও দলীয় মনোনয়ন পাননি, হিলারির কাছে হেরে যান। কিন্তু প্রেসিডেন্ট হন রিপাবলিকান দলের ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু হাল ছাড়েননি জো বাইডেন! তার স্বপ্ন ছিলো আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হওয়ার। অবশেষে ২০২০ সালের প্রেনিডেন্ট নির্বাচনের মনোনয়ন লাভ করেন। সেখানেও অনিশ্চয়তা ছিলো। পেতে পেতেই যেন হেরে যাচ্ছিলেন। তবে একেবারে শেষ মুহুর্তে এসে মনোনয়ন পান“ এমনই হাল না ছাড়া মানুষ জো বাইডেন।                       

জো বাইডেন প্রায়ই একটা কথা বলেন, “বাবার একটা কথা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা – কে তোমাকে কতবার ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিল, সেটা বড় কথা নয়, কত দ্রুত তুমি উঠে দাঁড়াতে পারলে, মানুষ হিসাবে সেটাই হবে তোমার সাফল্যের পরিচয়।” এদিকে মার্কিন গণমাধ্যম বলছে, নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প।                                   

আগামী ২০ জানুয়ারি ট্রাম্পের বর্তমান ক্ষমতার মেয়াদ শেষ হবে এবং সেসময়ই ২০২০-এর নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থী জো বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬ তম প্রেসিডেন্ট হিসাবে শপথ নিবেন এবং শপথ নেবার সাথে সাথে তিনি প্রেসিডেন্ট হিসাবে রাজধানী ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউজে অধিষ্ঠিত হবেন।

 11,328 total views,  1 views today