ভিয়েনায় করোনায় বাংলাদেশী প্রথম মৃত্যুবরণকারী শওকত আলীর নামাজে জানাজা এবং দাফন সম্পন্ন !

 অন লাইন ডেস্ক থেকে,কবির আহমেদঃ আজ সকাল ১০ টায় অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনার ২৩ নাম্বার ডিস্ট্রিক্টের মুসলিম কবরস্থানে অস্ট্রিয়ায় করোনায় মৃত্যুবরণকারী প্রথম বাংলাদেশী মরহুম এ কে এম শওকত আলীর নামাজে জানাজা এবং দাফন সম্পন্ন হয়েছে। ভিয়েনা প্রশাসন মুসলিম কবরস্থানে নামাজে জানাজা এবং দাফনে সর্বোচ্চ ৫০ জনের অনুমতি দিয়েছেন।                           

 কোভিড ১৯ করোনা ভাইরাস আমাদের জানাজা নামাজের নূতন শিক্ষা দিয়ে গেল। সর্বোচ্চ অংশ গ্রহণ করতে পারবেন ৫০ জন। মৃতদেহ গাড়ি থেকে নামানো যাবে না। গাড়ির ভিতরে থাকা অবস্থায় জানাজা পড়তে হবে। গাড়ির দরজা খোলা যাবে না। শুধু মাটি দিবার সময় গাড়ির দরজা খুলে দাফন করা যাবে। তাও পরিবারের সদস্য ছাড়া কেহ মৃত মানুষের বাক্স ধরতে পারবে না।

জানাজার নামাজ পড়ান বায়তুল মোকারম মসজিদের প্রধান ইমাম ও খতিব ড.ফারুক আল-মাদানী। নামাজে জানাজায় আরও উপস্থিত ছিলেন কমিউনিটির কয়েকটি মসজিদের ইমামসহ অস্ট্রিয়ায় বসবাসকারী বাংলাদেশী কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। জানাজার নামাজ শেষে মরহুম শওকত  আলীর ছোট ভাই লিয়াকত আলী তাহার ভাইয়ের রুহের মাগফেরাতার জন্য সবার কাছে দোয়া চান। তিনি তার ভাইয়ের জীবনে চলার পথে কাহারও সাথে ভুলত্রুটি হলে ক্ষমা করে দেয়ার অনুরোধ করেন। মরহুমের ছেলে আজমল আলীও নামাজে জানাজা ও দাফনে অংশগ্রহণ করেছেন।                                         

করোনার সংক্রমণের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাফন-কাফনে ব্যাপক সতর্কতা নির্দেশ দেয়া থাকায় যধাযথ বিধিনিষেধ মেনেই নামাজে জানাজা এবং দাফন সম্পন্ন হয়েছে। দাফনের পর এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ইমাম ও খতিব ড.ফারুক আল মাদানী বলেন, মৃত ব্যক্তির জন্য জানাজার নামাজই হলো একটি দোয়া। তিনি উপস্থিত আমাদের কমিউনিটির লোকজন নিয়ে মহান আল্লাহতায়ালার নিকট দোয়া করেন মরহুম শওকত আলী যেন হাদীসের বর্ণনা মতে কবরে রাখার পর ফেরেশতা কর্তৃক প্রশ্নের জবাব সহজেই দিতে পারেন।                                                      

উল্লেখ্য যে, অস্ট্রিয়ায় বাংলাদেশ কমিউনিটির প্রথম ব্যক্তি হিসাবে মরহুম শওকত আলী করোনায় আক্রান্ত হয়ে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় গত ৬ নভেম্বর ভিয়েনা একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাহার বয়স হয়েছিল ৫৫ বৎসর। তিনি মৃত্যুকালে আরও রেখে গেছেন স্ত্রী, প্রাপ্ত বয়স্ক এক মেয়ে ও এক ছেলে। তার দেশের বাড়ি বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জ জেলার সদর উপজেলায়।

 10,363 total views,  1 views today