শনিবার সন্ধ্যায় অস্ট্রিয়ায় সম্পূর্ণ লকডাউনৈর আধতে কঠোর বিধিনিষেধের ঘোষণা আসছে !

 অন লাইন ডেস্ক থেকে,কবির আহমেদঃঅস্ট্রিয়ায় করোনার সংক্রমণের বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় আগামী সপ্তাহের প্রথম থেকেই সরকার সম্পূর্ণ লকডাউনের মতোই কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন বলে স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমে বলা হয়েছে।

অস্ট্রিয়ান মিডিয়া শুক্রবার জানিয়েছেন যে, ক্রমবর্ধমান সংক্রমণের আশঙ্কাজনক বিস্তার বৃদ্ধি এবং হাসপাতাল ও আইসিইউ প্রায় পূর্ণ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়ায় সরকার আগামীকাল শনিবার সন্ধ্যায় নতুন বিধিনিষেধের ঘোষণা করতে যাচ্ছেন।          

দেখার বিষয়, বিধিনিষেধ কতটা কঠোর হবে ? ইতিমধ্যে কয়েকদিন যাবৎ কিন্ডারগার্টেন, প্রাইমারী স্কুল সহ অন্যান্য নিম্ন গ্রেডের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের ব্যাপারে পক্ষে বিপক্ষে ব্যাপক আলোচনা চলছে। সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে গতকাল সন্ধ্যায় অস্ট্রিয়ার করোনা কমিশন সরকারকে ১৪ বৎসরের নীচের শিশুদের স্কুল অব্যাহত খোলা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে মাস্ক সহ অন্যান্য যথাযথ করোনার বিধিনিষেধ নিশ্চিত করতে শিক্ষামন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দিয়েছেন। তবে একমাত্র সরকার প্রধান চ্যান্সেলর সেবাস্তিয়ান কুর্জ স্কুল বন্ধের পক্ষে ছিলেন।       

এদিকে আজ অস্ট্রিয়ান সংবাদ সংস্থা এপিএ অস্ট্রিয়ার শিক্ষামন্ত্রণালয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছেন যে, শরতের ছুটির পর এই পর্যন্ত ১০,০০০ হাজার শিশুর গারগাল পরীক্ষার পর ৪০ জন করোনা পজিটিভ সনাক্ত হয়েছে। গতকাল অস্ট্রিয়ার সকল বিরোধীদল জোরালোভাবে স্কুল খোলা রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন। SPÖ প্রধান পামেলা বলেন স্কুল বন্ধ করলেই করোনার সংক্রমণ বিস্তারের এই উর্ধমুখী গতি হ্রাসের কোন সম্ভাবনা নাই। NEOS এর প্রধান Reisinger স্কুল খোলা রাখার পক্ষে সমর্থন জানিয়ে বলেন, আপাতত স্কুল খোলা থাকুক তবে অন্যান্য কঠোর বিধিনিষেধের পরও যদি পরিস্থিতির উন্নতি না হয় তাহলে শেষ চেষ্টা হিসাবে স্কুল বন্ধ করা যেতে পারে।                                    

তাছাড়াও বিভিন্ন সংবাদ পত্রের এক জরিপে দেখা গেছে অস্ট্রিয়ার অধিকাংশ অভিভাবকও স্কুল খোলার পক্ষেই তাদের মত দিয়েছেন। তাই আপাতত সম্পূর্ণ লকডাউনেও অস্ট্রিয়ায় ১৪ বৎসরের নীচের শিশুদের স্কুল খোলা থাকছে।                                           

করোনার দ্বিতীয়বারের প্রাদুর্ভাবে অস্ট্রিয়া গত ৩ নভেম্বর থেকে সমগ্র অস্ট্রিয়ায় লকডাউন লাইট ঘোষণা করেছিল। সরকার লকডাউনের দ্বিতীয় সপ্তাহটিকে পর্যবেক্ষণ সপ্তাহ হিসাবে ঘোষণা করে কিন্ত সংক্রমণ ৯,০০০ হাজারের উপর উঠে যাওয়ায় সরকারের নীতি নির্ধারকরা এখন দেশে সম্পূর্ণ লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রাথমিক পদক্ষেপের প্রভাব দেখার জন্য সরকার অপেক্ষা করেছিল। কিন্ত বৃহস্পতিবার অস্ট্রিয়া সর্বকালের একদিনের সর্বোচ্চ রেকর্ড সংখ্যক সংক্রমণ ৯,২৬২ জন এবং একদিনের সর্বোচ্চ মৃত্যুবরণ ৬৫ জন হওয়ায়,বিধিনিষেধ কিভাবে আরও কড়া করা যেতে পারে সে বিষয়ে আলোচনা করতে সরকার দফায় দফায় বৈঠক করছে।       

অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রনালয় থেকে বৈঠক শেষ করে ভিয়েনার টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটির (TU) গণিত ও পরিসংখ্যান বিশেষজ্ঞ প্রফেসর নিকি পপার সাংবাদিকদের বলেন,করোনার “লকডাউন লাইট” অকার্যকর হওয়ায় সরকার বেশ হতাশ হয়েছেন। সরকার অনেক আশাবাদী ছিলেন যে, এই সপ্তাহ থেকেই এর সুফল পাওয়া যাবে বা সংক্রমণের বিস্তার হ্রাস পাবে। নিকি পপার আরও বলেন, “লোকেরা তাদের অবসর সময়ের যোগাযোগগুলি যথেষ্ট পরিমাণে হ্রাস করেনি,” তাই সংক্রমণের বিস্তার আমাদের হিসাবের চেয়েও অনেক বেশী বিস্তৃত হয়েছে। লোকজন বিভিন্ন শপিং মলে এবং বিভিন্ন বদ্ধ দোকানে প্রচুর ভিড় করে কেনাকাটা করছেন। অনেক জায়গাতেই মানা হচ্ছে না করোনার সামাজিক দূরত্বের বিধিনিষেধ। ফলে লোকজন একজন থেকে আরেকজন সহজেই সংক্রমিত হয়ে যাচ্ছেন।

আরও কি ধরনের বিধিনিষেধ আসতে পারে সে সম্পর্কে স্থানীয় সংবাদ পত্র সমূহ কিছুটা ঈঙ্গিত দিয়েছেন যেমন, কারফিউ পূর্বের মতোই ২৪ ঘন্টা, শপিং মল, হেয়ারড্রেসার গুলির মতো দোকান এবং পরিষেবা ব্যবসা বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমান বন্ধের অধীনে বেশিরভাগ ধরণের দোকান খোলা থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যদিও মার্চ মাসে এটি ছিল না যেখানে ফার্মেসী এবং সুপারমার্কেট ব্যতীত অন্যান্য সমস্ত কিছুই বন্ধ করতে বাধ্য করা হয়েছিল। সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে স্কুলগুলিকেও দূরবর্তী শিক্ষায় ফিরে যেতে বা বিভিন্ন সময়ে পরিচালনা করতে বাধ্য করা যেতে পারে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে হোম অফিসে উৎসাহিত করা, নার্সিংহোম এবং হাসপাতালগুলিতে বহিরাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হতে পারে।        

কয়েকটি ফেডারেল রাজ্য ইতিমধ্যে ভিজিট নিষিদ্ধকরণ বা বিধিনিষেধ আরোপ করেছে, তবে এটি দেশব্যাপী প্রয়োগ করা হবে। তবে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অস্ট্রিয়ার সমস্ত গণপরিবহন তার স্বাভাবিক সিডিউল অনুযায়ীই চলবে বলে জানানো হয়েছে।         

আজ অস্ট্রিয়ায় করোনায় নতুন করে আক্রান্ত সনাক্ত হয়েছেন ৯,৫৬৪ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ৫৩ জন। আজ সবচেয়ে বেশী সংক্রমণ সনাক্ত হয়েছে রাজধানী ভিয়েনায় ১,৯০২ জন। অন্যান্য রাজ্যের মধ্যে OÖ – রাজ্যে ১,৮৯১ জন,NÖ রাজ্যে ১,১২৩ জন,Kärnten রাজ্যে ১,০০৬ জন,Vorarlberg রাজ্যে ৯৭৫ জন, Steiermark রাজ্যে ৯৪৪ জন,Salzburg রাজ্যে ৮৩৭ জন,Tirol রাজ্যে ৭২৪ জন এবং Burgenland রাজ্যে ১৮৪ জন নতুন করে সংক্রমিত সনাক্ত হয়েছেন।                    

অস্ট্রিয়ায় এই পর্যন্ত মোট করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১,৯১,২২৮ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ১,৬৬১ জন। করোনার থেকে আরোগ্য লাভ করেছেন ১,১২,৭২৮ জন। বর্তমানে করোনার সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ৭৬,৮৩৯ জন। এর মধ্যে ক্রিটিক্যাল অবস্থার মধ্যে আছেন ৫৬৭ জন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ৩,৯২২ জন। বাকীরা নিজ নিজ বাসায় আইসোলেশনে আছেন।

 10,424 total views,  1 views today