অস্ট্রিয়ায় নতুন লকডাউনে প্রায় ৬,০০০ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যেতে পারে

প্রতি সপ্তাহের লোকসান ১ বিলিয়ন ইউরো  

 অন লাইন ডেস্ক থেকে,কবির আহমেদঃ অস্ট্রিয়ায় করোনার ভাইরাসের সংক্রমণ আশঙ্কাজনক বৃদ্ধির ফলে হাসপাতাল ও আইসিইউ পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে সরকার পুনরায় সম্পূর্ণ লকডাউনের যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বৃহস্পতিবার অস্ট্রিয়ায় করোনায় সংক্রমিত সনাক্ত হয়েছে ৯,২৬২ জন এবং শুক্রবার ৯,৫৬৪ জন। করোনায় আক্রান্ত রোগীদের দ্বারা হাসপাতালের উপর এই প্রচন্ড চাপ কমিয়ে আনতে না পারলে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্য ব্যবস্থার চেইন অব কমান্ড ভেঙ্গে যেতে পারে।                  

এদিকে অস্ট্রিয়ার জাতীয় সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছেন গতকাল রাতে অস্ট্রিয়ার সরকার প্রধান চ্যান্সেলর সেবাস্তিয়ান কুর্জের নেতৃত্বে অস্ট্রিয়ার সরকারের মূল চালিকা শক্তির চার শক্তিধরের রুদ্ধদার বৈঠকে অনেক নাটকীয় সিদ্ধান্ত গৃহীত নিয়েছেন। এই চার শক্তিধররা হলেন সরকার প্রধান চ্যান্সেলর সেবাস্তিয়ান কুর্জ(ÖVP),উপ প্রধান ভার্নার কোগলার (Greens), স্বাস্থ্যমন্ত্রী রুডল্ফ আনস্কোবার (Greens) এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কার্ল নেহামার (ÖVP)।                        

অস্ট্রিয়ার মিডিয়া সরকারী সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছেন আগামী মঙ্গলবার থেকেই অস্ট্রিয়ায় ৩ সপ্তাহের সম্পূর্ণ লকডাউন ঘোষণা করা হবে আজ সন্ধ্যায়। সূত্র আরও জানিয়েছেন,বর্তমানে বেশ আলোচিত স্কুল বন্ধের বিষয়েও তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই সম্পূর্ণ লকডাউনে স্কুল বন্ধ থাকবে তবে শিশুদের পরিষেবার ব্যবস্থা খোলা থাকবে এবং দূরবর্তী শিক্ষা অর্থাৎ অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা হবে। লকডাউন ঘোষণার পর সন্ধ্যা ৬ টায় অস্ট্রিয়ার শিক্ষামন্ত্রী হাইঞ্জ ফ্যাসম্যান এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত উপস্থাপন করবেন বলে বলা হয়েছে। সংবাদ মাধ্যমে বলা হয়েছে সম্পূর্ণ লকডাউনের ফলে এই ৬,০০০ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে বাঁচাতে হলে তাদেরকে ৮০% বিক্রয় ক্ষতিপূরণ প্রয়োজন। সম্পূর্ণ লকডাউনের ফলে এইসব প্রতিষ্ঠানের প্রতি সপ্তাহে লোকসান হবে প্রায় ১ বিলিয়ন ইউরো।

অস্ট্রিয়ার বাণিজ্য সমিতির প্রধান রাইনার উইল বলেন, সরকার বাণিজ্যের জন্য লকডাউন ক্ষতিপূরণ নিয়ে কাজ করছে – তবে শিল্পটি যে কল্পনা করছে তার তুলনায় এটি অনেক কম হওয়া উচিত। হোটেল এবং রেস্তোঁরাগুলির প্রতিশ্রুতি অনুসারে ট্রেডিং সংস্থাগুলি ৮০% রাজস্ব প্রতিস্থাপনের দাবি করছে। বাণিজ্য সমিতির প্রধান রাইনার উইল আরও বলেন, “দাম যাই হোক না কেন, এটি খুচরা ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করতে হবে।                      

খুচরা বাণিজ্য বুঝতে পারে যে স্বাস্থ্যটি প্রথমে আসে – “তবে যদি আরও বিধিনিষেধ থাকে তবে দ্রুত সহায়তার জন্য একই ধারণা থাকতে হবে।” ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে (মূলশব্দ ক্রিসমাস ব্যবসায়) প্রতি সপ্তাহে বিক্রয়ের জন্য ৯০০ মিলিয়ন থেকে এক বিলিয়ন ইউরও হারাবে – কেনাকাটার দিনে গড়ে ১৬০ মিলিয়ন। “আমরা আশঙ্কা করছি এর ফলে দেশের ৬,০০০ স্টোর মরে যাবে অর্থাৎ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে। তবে লকডাউনের ফলে অ্যামাজন ও অন্যান্য অনলাইন ব্যবসার প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় ও লাভ বাড়বে। ক্রিসমাস ব্যবসা শুরু হওয়ার সাথে সাথে নভেম্বর মাসটি বছরের দ্বিতীয় ব্যস্ততম মাস।     

নভেম্বর ২০১৯ গ্যাস্ট্রো এন্ড কো-র বিক্রয় প্রতিস্থাপনের জন্য ব্যবহৃত হয়, এটি দোকানগুলির ক্ষেত্রেও হতে পারে। ট্রেড ২০১৯ অ্যাসোসিয়েশন অনুসারে, আমাদের খুচরা বাণিজ্যে (মুদি সহ) ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে নামমাত্র টার্নওভার হয়েছিল ৬,১ বিলিয়ন ইউরোর। ডিসেম্বর ২০১৯ এ ছিল ৬,৪ বিলিয়ন ইউরো।

 10,567 total views,  1 views today