আলোর দিশারী শেখ মুজিব

 নুরুল আমিন,ইউরো সমাচার প্রতিবেদকঃ বাংলার আকাশে যখন দুর্যোগের ঘনঘটা, বাঙালি জাতির ভাগ্যাকাশে যখন হতাশার কালো মেঘ, ভিনদেশী শাসকদের দুঃশাসন, অত্যাচার, অবিচার, নির্যাতন ও শোষণে বাঙালি জাতি যখন দিশেহারা-অসহায় হয়ে পড়েছে, তখন দুঃসাহসী মহান নেতা শেখ মুজিব নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মুক্তির পথ দেখিয়েছেন। শত শত বছর ধরে তিমির অন্ধকারে ডুবে থাকা বাঙালি জাতিকে তিনি এক স্বপ্নময় আলোর পথ দেখিয়েছেন এবং আলোর পথে নিয়ে এসেছেন। বঙ্গবন্ধু অনেক বড় মাপের নেতা ছিলেন।                     

তিনি ছিলেন পাহাড়ের মতো অটল এবং সাগরের মতো উদার। তার নীতি-আদর্শ ও নেতৃত্বের বলিষ্ঠতা ছিল অসাধারণ। কিউবার প্রেসিডেন্ট ফিদেল কাস্ত্রো বলেছেন, ‘আমি হিমালয় দেখিনি, বঙ্গবন্ধুকে দেখেছি।’ তিনি বিশ্বের সকল বঞ্চিত মানুষের নেতা। তিনি আলোকিত এক সাহসী মানব। যার আলোর ঝলকে আলোকিত হয়েছে বাঙালি। বঙ্গবন্ধু ছিলেন মনেপ্রাণে বাঙালি। বঙ্গবন্ধুর রাজনীতি ছিল অসহায় মানুষের জন্য। তিনি বঞ্চিত মানুষের পাশে থেকে সেবা করেছেন এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিবাদ করেছেন। আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে কেটেছে বঙ্গবন্ধুর জীবন। তার জীবনের বেশিরভাগ সময় কারাগারে কেটেছে।                              

বাংলার মাটি ও মানুষের প্রতি তার ভালবাসা মিশ্রিত দুর্বলতা ছিল। তিনি ছিলেন আলোর পথের যাত্রী। অন্ধকারে ডুবে থাকা বাঙালি জাতিকে তিনি আলোর মশাল জ্বেলে নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছেন এবং বাঁচার স্বপ্ন দেখিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর তেজোদ্দীপ্ত নেতৃত্বে বাঙালি জাতি অর্জন করেছে স্বাধীনতা। সৃষ্টি হয়েছে বাংলাদেশ। তিনি আমাদের আলোর দিশারী, কেননা তার হাত ধরে আমরা আলোর মুখ দেখেছি এবং আলোর পথে হাঁটতে শিখেছি। বাঙালির গৌরব ও ইতিহাসের মহানায়ক দীপ্তিময় আলোর দিশারী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, সাত কোটি বাঙালিরে হে মুগ্ধ জননী রেখেছ বাঙালি করে মানুষ করনি। বিশ্বকবির এই ব্যঙ্গ উক্তি মিথ্যা প্রমাণ করে দিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববাসীকে দেখিয়ে দিয়েছেন, বাঙালি শুধু বাঙালি নয়। বাঙালি বীর সাহসী, সত্যিকারের মানুষ বীর বাঙালি।                 

বাঙালি হাসতে জানে, কাঁদতে জানে, জীবন দিতে জানে, ঘুরে দাঁড়াতে জানে এবং মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে। বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে বাঙালি আজ মানুষ। তিনি বাংলার মহাকবি। ১৯৭১ সালের ৫ জুন মার্কিন সাময়িকী নিউজউইক বঙ্গবন্ধুকে রাজনীতির কবি হিসেবে আখ্যায়িত করে। বিশ্ব বরেণ্য সাংবাদিক লোবেল জেঙ্কিস বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তান বঙ্গবন্ধুকে এই আখ্যা দেন।               

বঙ্গবন্ধু ১৯৬৯ সালের ৫ ডিসেম্বর পূর্ব পাকিস্তানের নাম রাখেন বাংলাদেশ। ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ভোলার কৃতি সন্তান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ভিপি দ্বীপসিংহ তোফায়েল আহমেদ শেখ মুজিবুর রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে বঙ্গবন্ধু উপাধি দেন। ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ ঐতিহাসিক পল্টন ময়দানে আ স ম আব্দুর রব বঙ্গবন্ধুকে জাতির জনক উপাধি দেন। সংবিধানের ৪-ক অনুচ্ছেদ অনুযায়ী শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের জাতির জনক। ২০০৪ সালে বিবিসি’র জনমত জরিপে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি ঘোষণা করা হয়। তিনি বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি। তিনি দুইবার রাষ্ট্রপ্রতি হন।            

জাতি সংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বঙ্গবন্ধু প্রথম বাংলায় ভাষণ দিয়ে বাংলা ভাষা ও বাঙালি জাতিকে আলোকিত করেছেন। সৃষ্টি করেছেন নতুন আরেক ইতিহাস। বিশ্ব শান্তি পরিষদ ১৯৭৩ সালের ২৩ মে বঙ্গবন্ধুকে ‘জুলি ও কুরি’ শান্তি পদকে ভূষিত করে। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনেস্কো বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর স্বীকৃতি দেয়। ভাষণটি বাংলাদেশ সংবিধানের ৫ম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত।                                         

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ২০২০-২০২১ সালকে মুজিববর্ষ ঘোষণা করা হয়। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মগ্রহণ করেন। বঙ্গবন্ধুর সম্মানে প্রতিবছর ১৭ মার্চ দেশে জাতীয় শিশু দিবস পালিত হয়। বঙ্গবন্ধুর জীবিত না থাকার পরেও তার জীবনালেখ্য আমাদের আলোকিত করে তুলছে। যা সত্যি গৌরবের।                   

বার বার পাকিস্তানি শাসক ও শোষক চক্র বাংলার অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ফাঁসিতে ঝোলানোর চক্রান্ত করেছে কিন্তু তিনি হার মানেননি। সকল ষড়যন্ত্রকে তুচ্ছ করে তিনি হতভাগ্য বাঙালির অধিকার আদায়ের পথে অবিচল ছিলেন। বাঙালি জাতিকে তিনি পরাধীনতার শিকল থেকে মুক্ত করেছেন। পূরণ করেছেন বাঙালির স্বপ্ন। বঙ্গবন্ধুর অবদান বাঙালি জাতি কখনো ভুলবে না। বাঙালি জাতির আলোর দিশারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে হলে, তার দেখানো আলোর পথে এগিয়ে যেতে হবে।                                                                                       

 লেখক : সাংবাদিক, কলামিস্ট, কবি, নাট্যকার, কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক, লালমোহন, ভোলা। nurulamin911@gmail.com, 01759648626

 9,955 total views,  1 views today