অস্ট্রিয়ায় শরতে করোনা পরবর্তী শ্রমবাজারের সংস্কার নিয়ে আলোচনা

 কবির আহমেদ, ইউরোপ ডেস্কঃ অস্ট্রিয়ার শ্রমমন্ত্রী মার্টিন কোচার আগামী শরতে শ্রমবাজার সংস্কার নিয়ে আলোচনা শুরু করতে চান ।

অস্ট্রিয়ান সংবাদ সংস্থা এপিএ জানিয়েছেন, শ্রমমন্ত্রী মার্টিন কোচার (ÖVP) আগামী শরৎকালে দেশের শ্রমবাজার সংস্কার নিয়ে আলোচনা শুরু করতে চান। তিনি আজ এক সাংবাদিক সম্মেলনে একথা বলেন।

তিনি জানান, সরকারের পক্ষ থেকে দেশের শ্রমবাজারে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। প্রথমে তিনি এই আগস্ট মাসে দেশে বেকারত্বের পরিসংখ্যান এবং স্বল্প সময়ের কাজের পঞ্চম পর্বের পরিসংখ্যান দেখতে চান, যা  ১ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, “যখন আমরা দেখব যে শ্রমবাজার অনেকাংশে স্বাভাবিক হয়েছে, আমরা শরৎকালে সংস্কারের আলোচনা শুরু করব।”

তিনি শ্রম বাজারের সংস্কার নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও অংশীদারদের সাথে একটি ফলপ্রসূ বিতর্ক দেখতে চান যেখানে যতটা সম্ভব যারা জড়িত আছেন তাদের নিয়ে। তবে অস্ট্রিয়ান অর্থনীতিবিদরা বলছেন, “এটি খুব সহজ আলোচনা হবে না, কারণ এর সাথে অনেক দিক জড়িত রয়েছে।”আশা করি একটি সামগ্রিক ধারণা থাকবে, শুধু একটি সমন্বয় স্ক্রু চালু করা যথেষ্ট হবে না।” দেশের একজন জনৈক অর্থনীতিবিদ এপিএ কে জানান, সংস্কারের জন্য অতিরিক্ত অতিরিক্ত খরচ করা উচিত নয়, কিন্তু আপনি যদি মানুষকে আরও দ্রুত কাজ করতে এবং আরও দ্রুত কর্মসংস্থান খুঁজে পেতে সক্ষম হন, তাহলে আপনি অর্থ সাশ্রয় করবেন।  “প্রতিদিন যে মানুষ কম বেকার থাকে তা অনেক কিছু সঞ্চয় করে – আপনি এটি ব্যবহার করতে পারেন অন্যান্য ব্যবস্থাপনার জন্য।”

শ্রমমন্ত্রী কোচার বলেন, দেশের বেকারত্বের সুবিধার পরিমাণও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। অস্ট্রিয়ায় যে কেউ বেকার হয়ে পড়ে তা খুব দ্রুত নিম্ন স্তরে পড়ে যায় এবং তারপরে সেই স্তরে খুব দীর্ঘ সময় ধরে থাকে। তিনি বলেন, “যদি আমি বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে বেকার থাকা লোকদের আরও দ্রুত একীভূত করতে পারি, তাহলে আমি সম্ভবত বেশি খরচ না করেই বেশি ক্ষতিপূরণ দিতে পারি।”  তার লক্ষ্য শ্রমবাজার পুনর্গঠনের জন্য যুক্তিসঙ্গত ধারণা নিয়ে আলোচনা করা।  যাই হোক না কেন, সরকারী কর্মসূচিতে “ডিগ্রেসিভ বেকারত্ব সুবিধা” শব্দটি অন্তর্ভুক্ত নয়।  জরুরী সাহায্যের বিলুপ্তি সম্পর্কে সরকারি কর্মসূচিতেও কিছু নেই, যা কিছু লোকের জন্য আহ্বান করা হয়েছিল।

বেকারত্ব: অস্ট্রিয়ার পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে পার্থক্য হল, অস্ট্রিয়াতে বেকারত্ব পশ্চিমের তুলনায় পূর্বে বেশি।  পূর্ব অস্ট্রিয়া থেকে বেকার লোকদের সাথে পশ্চিম অস্ট্রিয়ায় শূন্যপদ পূরণের জন্য, কারও যুক্তিসঙ্গততা নিয়ম কঠোর করা উচিত, এটি কখনও কখনও নিয়োগকর্তারা বলে থাকেন।  যাইহোক, কোচার বিশ্বাস করেন না যে যুক্তিসঙ্গত বিধান কঠোর করা খুব সাহায্য করবে।  অস্ট্রিয়াতে কর্মক্ষেত্রে দিনে এক ঘণ্টা যাতায়াত করা যুক্তিসঙ্গত, ব্যক্তিগত ক্ষেত্রে এমনকি এক ঘন্টা ১৫ মিনিট। শ্রম মন্ত্রী বলেন, “যদি আপনি এটি বাড়িয়ে দিতেন, তাহলে এটিও কোনো কাজে আসবে না।” গতিশীলতার অভাব এই কারণে যে অস্ট্রিয়াতে যারা স্থায়ীভাবে বসবাস করে তারা অন্যত্র চলে যেতে অনিচ্ছুক।  অতএব, আঞ্চলিকভাবে আরও ভ্রাম্যমাণ হওয়ার জন্য আরও সমর্থন এবং কিছুটা সাংস্কৃতিক পরিবর্তন প্রয়োজন। 

অন্যদিকে, জার্মানিতে, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রগুলির মধ্যে যাতায়াত করা এবং সপ্তাহান্তে পরিবারে যাওয়া বেশি সাধারণ। তাই কোচার শীঘ্রই দেশে শ্রমবাজারের সংস্কার নিয়ে আলোচনা শুরু করতে চান। এখানে উল্লেখ্য যে দেশে বৈশ্বিক মহামারী করোনার প্রাদুর্ভাব শুরু হলে সরকার দেশে সম্পূর্ণ লকডাউন ও স্বল্প সময়ের কাজের নির্দেশ দেন। ফলে একটা দীর্ঘ সময় ধরে সরকার দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ব্যয়ভার বহন করেছেন এবং এখনও অনেককেই করে যাচ্ছেন।

আজ অস্ট্রিয়ায় নতুন করে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন ৬০৭ এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ২ জন। রাজধানী ভিয়েনায় আজ নতুন করে সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন ১৭০ জন। অন্যান্য রাজ্যের মধ্যে OÖ রাজ্যে ১০৯ জন, Tirol রাজ্যে ৮৮ জন, NÖ রাজ্যে ৮১ জন,  Steirmark রাজ্যে ৬০ জন, Kärnten রাজ্যে ৪১ জন, Salzburg রাজ্যে ৩৩ জন, Vorarlberg রাজ্যে ২২ জন এবং Burgenland রাজ্যে ৩ জন নতুন করে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন।

অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী আজ করোনার প্রতিষেধক টিকাদান সম্পন্ন করা হয়েছে ৪১,৬৭৪ ডোজ এবং এই পর্যন্ত মোট টিকাদান সম্পন্ন করা হয়েছে ৯৯,২৮,৭২৬ ডোজ। অস্ট্রিয়ায় আজ সকাল ৯ টা পর্যন্ত করোনার প্রতিষেধক টিকার সম্পূর্ণ ডোজ গ্রহণ সম্পন্ন করেছেন মোট ৪৭ লাখ ৯৫ হাজার ৬৫১ জন,যা দেশের মোট জনসংখ্যার শতকরা ৫৩,৭৮ শতাংশ।

অস্ট্রিয়ায় এই পর্যন্ত করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৬,৬২,৫২৯ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ২০,৭৫০ জন। করোনার থেকে এই পর্যন্ত আরোগ্য লাভ করেছেন ৬,৪৫,৬৯৪ জন। বর্তমানে করোনার সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ৬,০৮৫ জন। এর মধ্যে ক্রিটিক্যাল অবস্থার মধ্যে আইসিইউতে আছেন ৪০ জন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ১৪৬ জন। বাকীরা নিজ নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন।

 14,586 total views,  1 views today