১ সেপ্টেম্বর থেকে ভিয়েনায় করোনা পরীক্ষার মেয়াদ কমিয়ে আনা হয়েছে

 কবির আহমেদ, ইউরোপ ডেস্কঃ করোনার পিসিআর পরীক্ষা ৭২ ঘন্টার পরিবর্তে ৪৮ ঘন্টা এবং ফার্মেসীর এন্টিজেন পরীক্ষার মেয়াদ ৪৮ ঘন্টা থেকে ২৪ ঘন্টা করা হয়েছে।

অস্ট্রিয়ান সংবাদ সংস্থা এপিএ জানিয়েছেন, আজ অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনা রাজ্যের গভর্নর ও সিটি মেয়র মিখাইল লুডভিগ (SPÖ) ভিয়েনার সিটি হলে (Rathaus) এক সাংবাদিক সম্মেলনে ১ সেপ্টেম্বর থেকে করোনার পরীক্ষার মেয়াদ কমিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছেন।

উল্লেখ্য যে, অস্ট্রিয়ায় করোনা ভাইরাসের প্রতিষেধক টিকা যথেষ্ট পরিমাণে থাকলেও বর্তমানে মানুষের মধ্যে টিকা গ্রহণে ব্যাপক অনীহা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন ভিয়েনায় যারা এখনও করোনার প্রতিষেধক টিকা গ্রহণ করেন নি তাদের উপর চাপ প্রয়োগের জন্যই মেয়র মিখাইল লুডভিগ করোনা পরীক্ষার বৈধতার মেয়াদ কমিয়ে দিয়েছেন। এর ফলে যারা এখনও করোনার প্রতিষেধক টিকা গ্রহণ করেন নি,তারা ঘন ঘন পরীক্ষার ঝামেলা এড়াতে বাধ্য হয়েই করোনার প্রতিষেধক টিকা গ্রহণ করবেন।

মেয়র মিখাইল লুডভিগ তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, তিনি ভিয়েনার স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের সাথে বৈঠক করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন,”আমার দৃষ্টিকোণ থেকে, মহামারী এখনও শেষ হয়নি”। তিনি আরও জানান,সেপ্টেম্বর থেকে ভিয়েনায় স্কুল খুলছে, তাই আমাদের প্রধান উদ্বেগ হল স্কুল শুরু হওয়ার পর যেন করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে থাকে। মেয়র মিখাইল লুডভিগ আরও জানান,বর্তমানে আমাদের প্রতিবেশী জার্মানিতে ইতিমধ্যেই করোনার নতুন সংক্রমণ অস্বাভাবিকহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই এই অবস্থায় অবশ্যই সতর্ক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সহকারে সামনের দিকে অগ্রসর হতে হবে।

তিনি বলেন, স্কুলগুলিতে প্রক্রিয়াটি কীভাবে বিশেষভাবে দেখবে সে সম্পর্কে ফেডারেল সরকারের সাথে আলোচনা করা হবে।  প্রাসঙ্গিক নিয়মের জন্য আমাদের আরও কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হবে।

মেয়র মিখাইল লুডভিগ ভিয়েনায় করোনার নতুন সংক্রমণের বিস্তার বৃদ্ধির ফলে কিছু বিধিনিষেধ আরোপের ঈঙ্গিত দেন। লুডভিগ এই সত্যটি গোপন করেননি যে শীঘ্রই আরও কঠোর ব্যবস্থা বাড়িতে হতে পারে, যেমন ১-জি নিয়ম, যার অর্থ টিকা ছাড়া লোকদের অসুবিধা বেড়ে যাবে। 

আপাতত, যাইহোক তারা শুধুমাত্র পরীক্ষার অফারগুলিতে “স্ক্রু চালু করতে” চান, যেমন মেয়র বলেছিলেন।  পরীক্ষাগুলি এখনও গুরুত্বপূর্ণ কারণ এমন কিছু লোক আছেন যারা টিকা দিতে পারেননি বা করতে চান না, তিনি বলেছিলেন।  একই সময়ে, লুডভিগ ভ্রমণে ফিরে আসা ব্যক্তিদের পরীক্ষা করতে বলেছিলেন।

অন্যান্য ভিয়েনিজ ব্যবস্থা যা ইতিমধ্যে নির্ধারিত হয়েছে তা অব্যাহত থাকবে।  মাস্কের প্রয়োজনীয়তা পুরো ট্রেডে প্রযোজ্য থাকবে।  ভবিষ্যতে নার্সিংহোমে আবার একটি FFP2 মাস্ক নির্ধারিত হবে কিনা তা এখনও বিবেচনা করা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত, একটি সাধারণ মুখ এবং নাক সুরক্ষা এখানে আবার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।  ছয় বছর বয়স থেকে শিশুদের জন্য ভিয়েনা ৩-জি প্রয়োজনের মধ্যে কিছুই পরিবর্তন হবে না।এছাড়াও, আগের মতোই, লিভিং রুম পরীক্ষাগুলি আর কোনো রেস্তোরাঁতে যাওয়ার প্রমাণ হিসেবে বৈধ নয়, উদাহরণস্বরূপ।

অস্ট্রিয়ার বিরোধীদল FPÖ এর ভিয়েনার বস ডমিনিক নেপ স্থানীয় একটি সম্প্রচার কেন্দ্রে মেয়রের এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ করে বলেন,করোনা পরীক্ষার বৈধতার সময়কাল হ্রাস করার ঘোষণাটি পরীক্ষা শিল্পের গলায় কোটি টাকার করের টাকা ফেলে দেওয়ার কাজ করবে এবং এর ফলে ভিয়েনার জনগণকে একটি অতিরিক্ত হয়রানি সম্মুখীন হতে হবে।

অন্যদিকে অস্ট্রিয়ার প্রধান বিরোধীদল SPÖ এর প্রধান ডা. পামেলা রেন্ডি-ভাগনার এই সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছেন।  তিনি ফেডারেল সরকারকে রাজধানীর সাথে একই কাজ করার আহ্বান জানান।”ভিয়েনা শহর এবং মেয়র মাইকেল লুডভিগ করোনা পরীক্ষার জন্য বৈধতার স্বল্প সময়ের সাথে এগিয়ে যাচ্ছেন, ফেডারেল সরকারকে তা  অনুসরণ করা উচিত বলে মনে করেন পামেলা। এটি আরও বেশি নিরাপত্তা নিয়ে আসে – আমরা তাৎক্ষণিকভাবে জনসংখ্যাকে সংক্রমণের সংখ্যা এবং টিকার হার হ্রাসের বিরুদ্ধে আরও ভাল সুরক্ষার জন্য শিক্ষিত করা দরকার। “

আরেক বিরোধীদল NEOS ভিয়েনার রাজ্য গভর্নর ও মেয়র মিখাইল লুডভিগের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। যাইহোক, এটি বাজেটের বোঝার বিরুদ্ধে সতর্ক করা হয়েছিল: “যদি ফার্মেসি এবং ডাক্তারদের অ্যান্টিজেন পরীক্ষাগুলি টিকা ছাড়া লোকদের জন্য বিনামূল্যে থাকে, তবে এটি করদাতা সম্প্রদায়ের জন্য খুব ব্যয়বহুল হবে,” এনইওএস স্বাস্থ্য মুখপাত্র জেরাল্ড লোকার একথা বলেন।  তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রী ভল্ফগাং মুকস্টাইন (গ্রিনস) এর কাছে বিনামূল্যে পরীক্ষা বন্ধের জন্য দেশব্যাপী অভিন্ন নিয়মের দাবি জানান তিনি।

এদিকে আজ অস্ট্রিয়ায় নতুন করে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন ১,০০২ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ৫ জন। গত এক সপ্তাহে অস্ট্রিয়ায় করোনার দৈনিক গড় সংক্রমণ ১,১৭৬ জন। অর্থাৎ গত এক সপ্তাহ যাবৎ অস্ট্রিয়ায় দৈনিক এক হাজারের উপরে মানুষ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন।এই বৃদ্ধি এটাই প্রমাণ করে যে অস্ট্রিয়া বর্তমানে করোনার চতুর্থ তরঙ্গে প্রবেশ করেছে।

আজ অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় নতুন করে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন ২৩৫ জন। অন্যান্য রাজ্যের মধ্যে OÖ রাজ্যে ১৮৮ জন, NÖ রাজ্যে ১৬৬ জন, Salzburg রাজ্যে ৯৭ জন, Tirol রাজ্যে ৮৯ জন, Steiermark রাজ্যে ৮৭ জন,Vorarlberg রাজ্যে ৮৫ জন, Kärnten রাজ্যে ৩৭ জন এবং Burgenland রাজ্যে ১৮ জন নতুন করে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন।

অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী আজ সমগ্র অস্ট্রিয়ায় করোনার প্রতিষেধক টিকা দেয়া হয়েছে মাত্র ৮,১৭২ ডোজ এবং এই পর্যন্ত মোট দেয়া হয়েছে ১,০৩,৩৭,৫৪৩ ডোজ। অস্ট্রিয়ায় এই পর্যন্ত করোনার প্রতিষেধক টিকার সম্পূর্ণ ডোজ সম্পন্ন করেছেন মোট ৫১ লাখ ৩০ হাজার ১৮৫ জন,যা দেশের মোট জনসংখ্যার শতকরা ৫৭,৪৩ শতাংশ।

অস্ট্রিয়ায় এই পর্যন্ত করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৬,৭৮,৬০৫ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ১০,৭৬৮ জন। করোনার থেকে এই পর্যন্ত আরোগ্য লাভ করেছেন ৬,৫৫,১৮৭ জন। বর্তমানে করোনার সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ১২,৬৫০ জন। এর মধ্যে ক্রিটিক্যাল অবস্থার মধ্যে আইসিইউতে আছেন ৮৪ জন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ৩৯৮ জন। বাকীরা নিজ নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন।

 14,569 total views,  1 views today