অস্ট্রিয়ায় বিদেশীদের জন্য উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণের ব্যাপক সুযোগ আছে

অস্ট্রিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি সহজ হয়ে থাকলেও ভিসা অস্ট্রিয়ার সরকারের নিয়মনীতি অনুযায়ী দেয়া হয়ে থাকে

 কবির আহমেদ, ইউরোপ ডেস্কঃ আর্থিক মাথাপিছু আয়ের হিসেব অনুযায়ী অস্ট্রিয়া পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী দেশগুলোর একটি। দেশটির অধিবাসীদের জীবনযাত্রার মান এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার মানের দিক থেকেও অনেক উন্নত। শুধু জীবনমান বা যোগাযোগ নয় অস্ট্রিয়ার শিক্ষাব্যবস্থাও খুবই মানসম্পন্ন। অস্ট্রিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সর্বদা বিশ্ব র‍্যাংকিং শীর্ষ সারিতে থাকে। বর্তমানে অস্ট্রিয়ায় পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর প্রধান কারণ হচ্ছে, অস্ট্রিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে রয়েছে বিনা বেতনে বা স্বল্প বেতনে উচ্চশিক্ষা অর্জনের সুযোগ।  অস্ট্রিয়ার উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় হলো, University of Vienna, Vienna University of Technology, University of Innsbruck, University of Linz, Karl-Franzens University of Graz ও Medical University of Vienna .

অস্ট্রিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন উচ্চতর প্রতিষ্ঠানে নিম্নলিখিত বিষয়গুলি পড়ানো হয় :

ব্যাচেলর অব সায়েন্স, মাস্টার অব মার্কেটিং, মেডিকেল সায়েন্স ও মেডিসিন (অ্যানেস্থেসিওলজি, কার্ডিওলজি, ডার্মাটোলজি, ভেনেরোলজি, গাইনোকোলজি, ইসিওনোলজি, কেমোথেরাপি, ইন্ডোক্সিনোলজি, গ্যাস্ট্রোয়েন্টারোলজি, হেমাটোলজি, নেফরোলজি, নিউক্লিয়ার মেডিসিন, অর্থোপেডিক, সার্জারি, প্যাথলজি, রেডিওলজি, ইউরোলজি ইত্যাদি), ডিপ্লোমা ইন ক্রিয়েটিভ আর্টস, একাডেমিক ইংলিশ,  ব্যাচেলর অব ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস, জেনারেল ইংলিশ, ফটোগ্রাফি কোর্স, ডিপ্লোমা অব কমার্স, ডিপ্লোমা অব প্রপার্টি সার্ভিস, মাস্টার্স অব আর্টস, ডিপ্লোমা অব ইঞ্জিনিয়ারিং, আর্কিটেকচার, প্লাস্টিক আর্টস অ্যান্ড ডিভাইস, ফাইন আর্টস, ভিজ্যুয়াল কমিউনিকেশন, মিউজিক, ম্যানেজমেন্ট, ট্যুরিজম, হোটেল অ্যান্ড ক্যাটারিং ম্যানেজমেন্ট, বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, ইন্টারন্যাশনাল রিলেশন্স, ল’, অ্যাকাউন্টিং, মার্কেটিং, ইনফরমেশন সায়েন্স, সোশ্যাল সায়েন্স, টেলিকমিউনিকেশন, কম্পিউটার সায়েন্স, ফিন্যান্স, মিডিয়াসহ আরো অনেক কোর্সে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।

অস্ট্রিয়ায় উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা :

অস্ট্রিয়ায় মোট ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, ২১টি এপ্লাইড সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয় এবং ১৩টি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। উচ্চশিক্ষার জন্য অস্ট্রিয়ার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অনার্স, মাস্টার্স, ডিপ্লোমা, পিএইচডি ডক্টরাল ও বিভিন্ন সার্টিফিকেট কোর্স বিদ্যমান। এসব কোর্সের শিক্ষামান আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। এদেশে অনার্স কোর্সের মেয়াদ তিন থেকে চার বছর, মাস্টার্স কোর্স এক থেকে দুই বছর এবং পিএইচডি তিন থেকে চার বছর মেয়াদি হয়ে থাকে। অস্ট্রিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সাধারণত বছরে ২ বার আবেদন করা যায়। গ্রীষ্মকালীন ও শীতকালীন এই দুই সেমিস্টারে শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হয়।

অস্ট্রিয়ার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধিকাংশ কোর্স জার্মান ভাষায় পড়ানো হয়। তবে ২০০টির মতো ইংরেজি কোর্সও রয়েছে। তবে এক্ষেত্রে ইংরেজি ভাষা দক্ষতার প্রমাণপত্র দেখাতে হবে। যদি আপনি জার্মান ভাষায় পড়াশোনা করতে চান, তাহলে জার্মান ভাষা জানা বাধ্যতামূলক। অনেক অস্ট্রিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ই বিদেশী ছাত্রদের জার্মান ভাষার ওপর কোর্স করায়। আবার আপনি চাইলে বাংলাদেশ থেকে জার্মান ভাষা শিখে যেতে পারেন।

শিক্ষার্থীদের জন্য কাজের সুযোগ:

অস্ট্রিয়ায় অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীদের জন্য স্বল্প সময়ের কাজের সুযোগ আছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত অন্যান্য দেশের মতো এদেশেও শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে প্রায় ১৫ থেকে ২০ ঘণ্টা খন্ডকালীন কাজ করতে পারে। তাছাড়া ছুটির সময় ফুলটাইম কাজ করা যায়। এখানে বিভিন্ন রেস্তোরা, শপিংমল, হোটেলে কাজ করতে পারবেন। জার্মান ভাষায় পারদর্শী হলে আপনি সহজেই কাজ পেয়ে যাবেন।

বিনা বেতনে বা স্বল্প খরচে পড়ার সুযোগ:

ইউরোপের যে সকল দেশে স্বল্প খরচে পড়াশোনা করা যায় তার মধ্যে অস্ট্রিয়া অন্যতম। অস্ট্রিয়ার সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সাধারণত শিক্ষার্থীদের কোনো প্রকার টিউশন ফি দিতে হয় না, ক্ষেত্র বিশেষে লাগলেও সেটা খুবই সামান্য। তবে ভর্তির সময় রেজিস্ট্রেশন ও আপ্লিকেশন ফি বাবদ কিছু টাকা দিতে হবে। কিন্তু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কিছু কোর্সের ক্ষেত্রে টিউশন ফি দিতে হয়, তবে তা ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক কম।

উচ্চ শিক্ষা শেষে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ :

পড়াশোনা শেষে শিক্ষার্থীরা চাকরি খোঁজার জন্যে ছয় মাসের একটি জব সার্চ ভিসা পাবেন। এছাড়া স্থায়ীভাবে বাস করতে চাইলে নূন্যতম পাঁচ বছর বৈধভাবে একটানা বাস করার প্রমাণপত্র দেখিয়ে পার্মানেন্ট রেসিডেন্সির (পিআর) জন্য আবেদন করতে হবে।

অস্ট্রিয়ার এক পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, অস্ট্রিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় সমূহে জার্মানির শিক্ষার্থী সবচেয়ে বেশী। এর ফলে উচ্চতর শিক্ষা শেষে বর্তমানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে জার্মানির বংশোদ্ভূত লোকদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। অস্ট্রিয়ার উচ্চতর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি সহজেই হওয়া গেলেও ভিসার ব্যাপারে কিছুটা কঠোর নিয়মনীতি আছে। গত কয়েক বছর পূর্বের তথ্য অনুযায়ী অস্ট্রিয়ায় স্টুডেন্ট ভিসার আবেদনের পূর্বে দশ হাজার ইউরোর(প্রায় দশ লাখ টাকা) ব্যাংক ড্রাফট দেখাতে হয়। অস্ট্রিয়ায় বাংলাদেশের দূতাবাস থাকলেও বাংলাদেশে অস্ট্রিয়ার কোন দূতাবাস নাই। ভারতের নতুন দিল্লিতে অবস্থিত অস্ট্রিয়ান দূতাবাস একই সাথে বাংলাদেশের কাজ করে থাকেন।

(তথ্যসূত্র: দি ডেইলি ক্যাম্পাস)

 14,665 total views,  1 views today