অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় ২ সোমালী মুসলিম মহিলা খুন

প্রাক্তন স্বামীর ছুরিকাঘাতে খুন হলেন এক সন্তানের জননী ও তার বান্ধবী


কবির আহমেদ, ইউরোপ ডেস্কঃ
অস্ট্রিয়ার সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছেন গতকাল ভিয়েনার ১০ নাম্বার ডিস্ট্রিক্টে জোড়া খুনের ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। পুলিশের একজন মুখপাত্র অস্ট্রিয়ার সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন ২৮ বছর বয়স্ক খুনী একজন সোমালিয়ার নাগরিক আবদি এস। পুলিশ জানিয়েছে খুনের সময় হত্যাকারী মাদকাশক্ত ছিল এবং তার রক্তে ২,২ প্রমিলি অ্যালকোহলের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। বর্তমানে সে ভিয়েনার ১০ নাম্বার ডিস্ট্রিক্টের ক্রিমিনাল পুলিশের হেফাজতে আছে।

সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছেন, জোড়া খুনের পর প্রতিবেশীরা স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। অস্ট্রিয়ার জনপ্রিয় অনলাইন পত্রিকা Oe24.at জানিয়েছে ভিয়েনার ১০ নাম্বার ডিস্ট্রিক্টের David Gasse এর সন্নিকটস্থ Anna-Boschek-Hofs এর প্রতিবেশীদের ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুই মহিলার রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।পুলিশ জানায়, নিহতদের পাশে থেকেই মধ্যপ অবস্থায় খুনী আবদিকে গ্রেফতার করে।

সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছেন খুনী আবদির সাথে নিহত সুগরী আবদি (৩৭) মাস দুয়েক আগে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে। তাদের সাড়ে তিন বছরের একটি মেয়ে সন্তান আছে। হত্যাকাণ্ডের সময় মেয়ে কিন্ডারগার্রটেনে ছিল।পরে সাড়ে তিন বছরের শিশুটিকে ভিয়েনা প্রশাসনের জরুরী শিশু সুরক্ষা কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।

বিবাহ বিচ্ছেদের পর তারা আলাদা বাসায় থাকতো।গতকাল দুপুরের দিকে খুনী আবদি মধ্যপ অবস্থায় তার প্রাক্তন স্ত্রীর বাসায় এসে তর্কে জড়িয়ে পড়ে। এই সময় তার স্ত্রীর বান্ধবী ইনা হামদি (৩৫) সে বাসায় উপস্থিত ছিলেন। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মধ্যপ আবদি তার প্রাক্তন স্ত্রীর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে মারতে থাকে এবং রান্নাঘর থেকে ছুরি এনে পেটে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত ও দেয়ালের সাথে মাথা আঘাত করলে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে মৃত্যুবরণ করে। বান্ধবী ইনা হামদি তাকে বাঁচাতে আসলে তারও একই পরিণতি ঘটে।

পুলিশের সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে  Oe24.at আরও জানায়, খুনী ২৮ বছর বয়স্ক সোমালি আবদির বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে ধর্ষণের অভিযোগ মামলা দায়ের করা ছিল।ফলে তার অস্ট্রিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদনের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছিল। তাই সন্দেহভাজন খুনী এই সোমালি ছিল ভিয়েনার কর্তৃপক্ষের প্রাসঙ্গিক পরিচিত। তবে তাকে এখনও নির্বাসিত করা হয়নি বা দেশে পাঠানো হয় নি।

পত্রিকাটি আরও জানায় ভিয়েনার এই জোড়া নারী হত্যার মধ্য দিয়ে আবারও আমাদের দেশে রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের আরেকটি কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটল। কারণ খুনী (আবদি এস) আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচিত ছিলেন এবং আসলে তার রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা নেগেটিভ হওয়ার পর তার আর অস্ট্রিয়ায় থাকতে দেয়া ঠিক হয় নি।

খুনীর বিরুদ্ধে দুটি ধর্ষণের বিচার হয়েছিল, সন্দেহভাজন সোমালি শরণার্থী হিসাবে অস্ট্রিয়া এসেছিলেন এবং তার রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনার মামলাটি প্রক্রিয়াধীন ছিল।

পুলিশের তথ্য অনুসারে অভিযুক্ত ২৮ বছর বয়স্ক সোমালির বিরুদ্ধে ২ টি ধর্ষণের মামলা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে গুরুতর শারীরিক ক্ষতির জন্য তার ফৌজদারি মামলাও রয়েছে বলেও জানা গেছে। তবে যাইহোক, লোকটিকে বিচারের সময় কথিত ধর্ষণের জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি এবং তার রাজনৈতিক আশ্রয় প্রত্যাহারের প্রক্রিয়াও বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল।

 14,614 total views,  1 views today