অস্ট্রিয়ায় করোনার টিকা ও বিধিনিষেধ মানতে অস্বীকার করায় ২৫ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা বরখাস্ত

রাজধানী ভিয়েনায় করোনার বিধিনিষেধ মানতে অস্বীকার করায় এই পর্যন্ত পাঁচজন শিক্ষককে বরখাস্ত করা হয়েছে

 কবির আহমেদ, ইউরোপ ডেস্কঃ অস্ট্রিয়ান সংবাদ সংস্থা এপিএ জানিয়েছেন সরকার করোনার চতুর্থ প্রাদুর্ভাবের বিস্তার রোধে বেশ কঠোর অবস্থান নিয়েছে। অস্ট্রিয়ার শিক্ষামন্ত্রণালয় ইতিমধ্যেই করোনার স্কুলে নির্দেশিত করোনার বিধিনিষেধ যেমন ক্লাশ রুমের বাহিরে মাস্ক পড়া ও বাধ্যতামূলক করোনার পিসিআর পরীক্ষা ইত্যাদি মানতে অস্বীকার করায় মহামারী করোনার শুরুর থেকে এই পর্যন্ত ২৫ জন শিক্ষককে বরখাস্ত করেছেন। এর মধ্যে করোনার বিধিনিষেধ আরোপ করায় অনেক শিক্ষক ছুটির সময় শেষ হলেও স্কুলে যোগদান করেন নি।তবে শিক্ষকদের বরখাস্তের ঘটনা বর্তমান চলমান এই শরৎ সেমিস্টারেই সবচেয়ে বেশী হয়েছে।

এপিএ জানিয়েছে, শিক্ষামন্ত্রণালয়ের বিধিনিষেধ মানতে অস্বীকার করায় বরখাস্ত শিক্ষকদের মধ্যে ৫ জন ফেডারেল রাজধানী ভিয়েনার। সংবাদ সংস্থা শিক্ষামন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানিয়েছে তারা স্কুলে করোনার জন্য কোন বিধিনিষেধ মানতে পারবে না বলে ঘোষণা দেয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে এই কঠোর ব্যবস্থা নিলো অস্বীকার শিক্ষামন্ত্রণালয়। তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন সরকার চতুর্থ প্রাদুর্ভাবের বিস্তার ঠেকাতে কোন কঠোর পদক্ষেপ নিতে কার্পণ্য করবেন না বলেই মনে হচ্ছে।

অস্ট্রিয়ার কঠোর বামপন্থী দল ফ্রিডম পার্টি অস্ট্রিয়া (FPÖ) শিক্ষকদের উপর টিকা নেয়ার চাপ ও বিধিনিষেধ আরোপ করায় চ্যান্সেলর সেবাস্তিয়ান কুর্জের নেতৃত্বাধীন কোয়ালিশন সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন।এখানে উল্লেখ্য যে,অস্ট্রিয়ার বিরোধীদল FPÖ এর সমর্থনেই প্রায়শই অস্ট্রিয়ায় করোনার বিধিনিষেধ বিরোধী বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। FPÖ এর সংসদ সদস্যরাও জাতীয় সংসদে মাস্ক পড়েন না। এর জন্য বিভিন্ন সময়ে দেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম তাদেরকে জরিমানা না করায় বিস্ময় প্রকাশ করেছে।

অস্ট্রিয়ায় এই পর্যন্ত ২৫ জন শিক্ষককে মহামারী করোনার শুরুর পর থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে বা বরখাস্ত করা হয়েছে কারণ তারা করোনা ব্যবস্থা মেনে চলতে অস্বীকার করেছে।  উদাহরণস্বরূপ, তারা স্কুলে মাস্ক পরতে চায়নি বা তারা “নাকের ড্রিল পরীক্ষা” চলাকালীন শিশুদের তত্ত্বাবধান করতে অস্বীকার করেছিল। বরখাস্তকৃত শিক্ষকদের মধ্যে ৪ জন শিক্ষা অধিদপ্তরে কর্মরত এবং বাকী ২১ জন সরকারি বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।

এপিএ এর বর্ণনা অনুসারে সবচেয়ে বেশী শিক্ষক বরখাস্ত হয়েছেন অস্ট্রিয়ার Niederösterreich রাজ্যে ৮ জন। তারপর যথাক্রমে ভিয়েনায় ৫ জন,(দুটি ফেডারেল শিক্ষক / তিনটি বাধ্যতামূলক স্কুল), ভোরারলবার্গেও পাঁচটি (সমস্ত বাধ্যতামূলক স্কুলে), উচ্চ অস্ট্রিয়াতে তিনটি (সমস্ত বাধ্যতামূলক স্কুল), স্টাইরিয়ায় দুটি (ফেডারেল এবং বাধ্যতামূলক স্কুলে একটি করে) সেক্টর) এবং সালজবুর্গে (বাধ্যতামূলক স্কুল) এবং কারিন্থিয়া(Kärnten) রাজ্যে একজন।তবে বরখাস্ত শিক্ষকদের মধ্যে একজন সম্ভবত উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে পারে যিনি বর্তমানে তার বরখাস্তের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছেন।

এপিএ’এর সাথে এক সাক্ষাৎকারে শিক্ষা বিভাগের একজন কর্মচারী বলেন,শিক্ষামন্ত্রণালয় করোনার মধ্যে স্কুল খোলার সিদ্ধান্ত নেয়ার সাথে সাথে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে যাতে স্কুলের মাধ্যমে করোনার বিস্তারে প্রসার না ঘটে।

এদিকে আজ অস্ট্রিয়ায় নতুন করে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন ১,৭৫৪ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ১০ জন।রাজধানী ভিয়েনায় আজ নতুন করে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন ৪৮১ জন।অন্যান্য রাজ্যের মধ্যে OÖ রাজ্যে ৪১৩ জন, NÖ রাজ্যে ৩০৩ জন, Steiermark রাজ্যে ১৭৫ জন, Tirol রাজ্যে ১০৯ জন, Salzburg রাজ্যে ১০৩ জন, Kärnten রাজ্যে ৮২ জন, Vorarlberg রাজ্যে ৬২ জন এবং Burgenland রাজ্যে ২৬ জন নতুন করে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন।

অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী আজ সমগ্র দেশে করোনার প্রতিষেধক টিকার ডোজ দেয়া হয়েছে মাত্র ১৩,৪০১ ডোজ এবং এই পর্যন্ত দেয়া মোট ডোজের পরিমাণ ১,০৭,৫৯,৪৫৪ ডোজ। অস্ট্রিয়ায় এই পর্যন্ত করোনার প্রতিষেধক টিকার সম্পূর্ণ ডোজ গ্রহণ করেছেন মোট ৫৩ লাখ ৭১ হাজার ৭৪১ জন, যা দেশের মোট জনসংখ্যার শতকরা ৬০,১ শতাংশ।

অস্ট্রিয়ায় এই পর্যন্ত করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৭,৩২,১৫৭ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ১০,৯৫৩ জন।করোনার থেকে এই পর্যন্ত আরোগ্য লাভ করেছেন মোট ৭,০০,১৩০ জন। বর্তমানে করোনার সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ২১,০৭৪ জন। এর মধ্যে ক্রিটিক্যাল অবস্থার মধ্যে আইসিইউতে আছেন ২২০ জন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ৮৬০ জন। বাকীরা নিজ নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন।

 14,600 total views,  1 views today