ইউরোপে করোনার চতুর্থ প্রাদুর্ভাবে স্কুলের শিশুরা অধিকমাত্রায় আক্রান্ত হচ্ছে

ব্রিটিশ সংক্রমণ রোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কিন্ডারগার্টেন ও প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষার্থীদের করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে

 কবির আহমেদ, ইউরোপ ডেস্কঃ বৃটেনের সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে গ্রেট ব্রিটেনে করোনা সংক্রমণের সংখ্যা গত কয়েক সপ্তাহে পুনরায় উচ্চ স্তরে উঠে এসেছে। এই মুহুর্তে বৃটেনে করোনার হট স্পট হয়ে উঠছে বাচ্চাদের স্কুল। এক পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে বৃটেন সহ ইউরোপের অধিকাংশ দেশেই কিন্ডারগার্টেন ও প্রাইমারী স্কুলের শিশু শিক্ষার্থীরা ও তরুণ-তরুণীরা ক্রমশ অধিকমাত্রায় করোনায় সংক্রমিত হয়ে পড়ছে। যেমনটি ইতিপূর্বে আর দেখা যায় নি। তাই অস্ট্রিয়ার শিক্ষামন্ত্রণালয় স্কুলে করোনার পরীক্ষা ও কোয়ারেন্টাইনের উপর অধিক গুরুত্বারোপ করেছেন।

ব্রিটেনের স্কুল সমূহে করোনার সংক্রমণের বিস্তার বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে, একজন বিশেষজ্ঞ অনুমান করেন যে বেশিরভাগ শিশু শীতকালে ভাইরাসে আক্রান্ত হবে বা ইতিমধ্যেই আক্রান্ত হয়েছে।  ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ আজিম মাজিদ বলেন, “আমি মনে করি সংখ্যাগরিষ্ঠ স্কুলের শিশু শিক্ষার্থীরা আগামী ছয় মাসের মধ্যে আরও বেশী সংখ্যায় করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত হবে।” এই বৃদ্ধি বৃটেনের পাশাপাশি ইউরোপের অন্যান্য দেশেও বৃদ্ধি পাবে।

বিবিসি ও রয়টার্সের সংবাদ অনুযায়ী ইংল্যান্ডে স্কুল ছুটি শেষ হওয়ার পর থেকে, ৫ থেকে ১৪ বছর বয়সীদের মধ্যে করোনার সংক্রমণের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাছাড়াও বৃটেনের জনপ্রিয় দৈনিক ফিনান্সিয়াল টাইমস” এর মূল্যায়নে দেখা যায় যে, বৃটেনে বর্তমানে শিশু-কিশোররা বেশী পরিমানে করোনায় সংক্রমিত হচ্ছেন।

গ্রেট ব্রিটেন সম্প্রতি সবেমাত্র ১২ থেকে ১৫ বছর বয়সীদের টিকা দিতে শুরু করেছে। মাজিদ বলেন, “আগে শুরু করলে ভালো হতো।”  “আমরা অন্যান্য ইউরোপীয় দেশের তুলনায় অনেক দেরিতে শুরু করলাম।” বর্তমানে বারো বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য কোন অনুমোদিত করোনা ভ্যাকসিন নেই, কিন্তু তাদের গুরুতর অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা কম।  ডাক্তাররা বলেন, ঝুঁকি বেশি যে শিশুরা ভাইরাসটি প্রাপ্তবয়স্কদের কাছে পৌঁছে দেয় যারা টিকা দ্বারা বা কম কার্যকরভাবে সুরক্ষিত নয়, ডাক্তার বলেছিলেন।

মাজেদের উচ্চ আশা নেই যে, গ্রেট ব্রিটেনে এখনও খুব বেশি সংখ্যক করোনার সংক্রমণ আগামী বসন্তের আগে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। বর্তমানে বৃটেনে প্রতি একলাখ জনপদে করোনায় সংক্রমিত ৩০০ শতের কাছাকাছি। বর্তমানে বৃটেনে প্রতি সপ্তাহে করোনায় গড়ে মৃত্যুবরণ করছেন প্রায় ১,০০০ হাজার মানুষ। এই মৃত্যুর পরিসংখ্যান ইউরোপের মধ্যে সর্বোচ্চ মানের একটি।

এখানে উল্লেখ্য যে, জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময় থেকে ইংল্যান্ডে করোনার নিষেধাজ্ঞা প্রায় পুরোপুরি তুলে নেওয়া হয়েছে।  যুক্তরাজ্যের অন্যান্য অংশে অনুরূপ নিয়ম প্রযোজ্য, কিন্তু সেখানে, উদাহরণস্বরূপ, মাস্কের প্রয়োজনীয়তার উপর আরও জোর দেওয়া হয়েছে।

আজ সমগ্র বৃটেনে নতুন করে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছে ৩১,৩৪৮ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছে ১২২ জন। বৃটেনে এই পর্যন্ত করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৭৬,৩১,২৩৩ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছে ১,৩৬,১০৫ জন। এই পর্যন্ত করোনার থেকে আরোগ্য লাভ করেছে ৬১,৫৯,১৩৫ জন। বৃটেনে বর্তমানে করোনার সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ১৩ লাখ ৩৫ হাজার ৯৯৩ জন। এর মধ্যে আইসিইউতে আছেন ৯১৬ জন।

এদিকে আজ অস্ট্রিয়ায় করোনায় নতুন করে সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন ২,১৪৫ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ৮ জন। রাজধানী ভিয়েনায় আজ নতুন করে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন ৬৬৩ জন।

অন্যান্য রাজ্যের মধ্যে Oberösterreich (OÖ) রাজ্যে ৫২২ জন, Niederösterreich (NÖ) রাজ্যে ৩১০ জন, Steiermark রাজ্যে ২১১ জন, Tirol রাজ্যে ১৩৬ জন, Salzburg রাজ্যে ১০০ জন, Kärnten রাজ্যে ৯৬ জন, Vorarlberg রাজ্যে ৭৭ জন্য এবং Burgenland রাজ্যে ৩০ জন নতুন করে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন।

অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে আজ সমগ্র দেশে করোনার প্রতিষেধক টিকা দেয়া হয়েছে ২০,০৮৬ ডোজ এবং মোট দেয়া হয়েছে ১,০৭,৮১,৪৩৪ ডোজ। অস্ট্রিয়ায় এই পর্যন্ত করোনার প্রতিষেধক টিকার সম্পূর্ণ ডোজ গ্রহণ করেছেন মোট ৫৩ লাখ ৮৩ হাজার ৩৭ জন,যা দেশের মোট জনসংখ্যার শতকরা ৬০,৩ শতাংশ।

অস্ট্রিয়ায় এই পর্যন্ত করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৭,৩৪,৩০২ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ১০,৯৬১ জন। করোনার থেকে এই পর্যন্ত আরোগ্য লাভ করেছেন মোট ৭,০২,৩৪৩ জন। বর্তমানে করোনার সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ২০,৯৯৮ জন। এর মধ্যে আইসিইউতে আছেন ২২৬ জন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ৮৬৩ জন। বাকীরা নিজ নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন।

 14,625 total views,  1 views today