অস্ট্রিয়ায় করোনার নতুন ভাইরাস ওমিক্রোন ডেল্টা ভাইরাসের স্থলাভিষিক্ত হল

অস্ট্রিয়ার করোনার টাস্ক ফোর্স GECKO আগামী বৃহস্পতিবার সরকার ও রাজ্য গভর্নরদের সাথে ওমিক্রোন ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে আলোচনায় বসছে

 কবির আহমেদ, ইউরোপ ডেস্কঃ অস্ট্রিয়ার এজেন্সি ফর হেলথ অ্যান্ড ফুড সেফটি (AGES) সংস্থার পরিসংখ্যান অনুসারে গত বছরের শেষ সপ্তাহে অস্ট্রিয়ায় ওমিক্রোনে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪,৩৬০ জনে,আর ডেল্টা ২,৯১৫ জন।

আজ সোমবার অস্ট্রিয়ার এজেন্সি ফর হেলথ অ্যান্ড ফুড সেফটি (AGES) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের নতুন রূপান্তর ওমিক্রোন অস্ট্রিয়ায় চতুর্থ প্রাদুর্ভাবে চলমান করোনার ডেল্টা ভেরিয়েন্টকে ছাড়িয়ে গেছে।২০২১ সালের শেষ সপ্তাহ থেকে অস্ট্রিয়ায় ডেল্টার চেয়ে ওমিক্রোনে আক্রান্ত রোগীর চেয়ে বেশী।

সংস্থাটি আরও জানায় গত সপ্তাহের শেষ দিনে অস্ট্রিয়ায় ওমিক্রোনে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪,৩৬০ জনে। আর একই সময়ে ডেল্টায় আক্রান্তের সংখ্যা ২,৯১৫ জন। ফলে বর্তমানে অস্ট্রিয়ায় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের চেয়ে ওমিক্রোনের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণের কাছাকাছি।

অস্ট্রিয়ায় করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রোনে আক্রান্তের সংখ্যা ফেডারেল রাজধানী ভিয়েনায় সবচেয়ে বেশী। AGES এর হিসাব অনুযায়ী ভিয়েনায় ওমিক্রোন ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্তের সংখ্যা ৩,৭৬৬ জন।তবে আতঙ্কের কিছু নাই, কেননা গত সপ্তাহান্তে ভিয়েনার স্বাস্থ্য কাউন্সিলর পিটার হ্যাকার (SPÖ) এক সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছেন ভিয়েনায় ওমিক্রোনে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও এখনও কেহ হাসপাতালে ভর্তি হন নি আক্রান্তদের উপসর্গ একেবারেই হালকা সর্দি – জ্বরের মত।

অস্ট্রিয়ার অন্যান্য ফেডারেল রাজ্যে ওমিক্রোন ভাইরাসে আক্রান্তের মধ্যে Salzburg রাজ্যে ৮০১ জন, NÖ রাজ্যে ৬৬৭ জন, OÖ রাজ্যে ৬১৮ জন, Tirol রাজ্যে ২৩৫ জন, Vorarlberg রাজ্যে ২১৬ জন, Burgenland রাজ্যে ১৬১ জন, Kärnten রাজ্যে ১৬০ জন এবং Steiermark রাজ্যে ১৪৫ জন এই পর্যন্ত ওমিক্রোন ভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন।

উচ্চ সংখ্যক এস-জিন মিউটেশনের কারণে ওমিক্রোন বৈকল্পিকটিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) উদ্বেগের একটি বৈকল্পিক হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করেছে।  এটি সবচেয়ে বিচ্যুত রূপ যা এখন পর্যন্ত মহামারী চলাকালীন উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় সনাক্ত করা হয়েছে।  এখন পর্যন্ত পাওয়া বৈজ্ঞানিক তথ্য অনুসারে, এটি বর্ধিত স্থানান্তরযোগ্যতা, ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস এবং পুনরায় সংক্রমণের ঝুঁকির সাথে যুক্ত হতে পারে।

এদিকে আজ অস্ট্রিয়ার অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান বিষয়ক বেসরকারী সংস্থা Agenda অস্ট্রিয়া জানিয়েছেন যে,করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রোনের সংক্রমণের বিস্তারের জন্য যদি অস্ট্রিয়া পুনরায় পঞ্চম বারের মত লকডাউনে যায়,তাহলে প্রতি সপ্তাহে লকডাউনে লোকসানের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ৭৩০ মিলিয়ন ইউরো।অবশ্য সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, অতীতের লকডাউনে সরকারের লোকসানের পরিমাণ ছিল সপ্তাহে প্রায় এক বিলিয়ন ইউরো।

অন্যদিকে আজ অস্ট্রিয়ার জনপ্রিয় দৈনিক Kronen Zeitung জানিয়েছে আগামী বৃহস্পতিবার ৬ জানুয়ারি অস্ট্রিয়ান ফেডারেল সরকার ও রাজ্য গভর্নরদের সাথে এক জরুরী বৈঠকে বসছে অস্ট্রিয়ার করোনার টাস্ক ফোর্স GECKO। পত্রিকাটি বিশ্বস্ত সূত্রের মাধ্যমে জানিয়েছে ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় অস্ট্রিয়ায় করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রোনের সংক্রমণের বিস্তার ততোটা ভয়াবহ না হওয়ায় টাস্ক ফোর্স সম্ভবত লকডাউনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে পারে।তবে সর্বত্র FFP2 মাস্ক সহ আরও কিছু নতুন বিধিনিষেধের সুপারিশ করতে পারে সরকারকে। 

আজ অস্ট্রিয়ায় নতুন করে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন ৩,৪১৯ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ৭ জন।রাজধানী ভিয়েনায় আজ নতুন করে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন ৮৭১ জন।

অন্যান্য ফেডারেল রাজ্যের মধ্যে Tirol রাজ্যে ৭১৪ জন, NÖ রাজ্যে ৫১৬ জন, OÖ রাজ্যে ৩৫১ জন, Salzburg রাজ্যে ৩০৩ জন, Steiermark রাজ্যে ২৫৫ জন, Vorarlberg রাজ্যে ১৮০ জন, Kärnten রাজ্যে ৭৩ জন এবং Burgenland রাজ্যে ৫৬ জন নতুন করে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন।

অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী আজ সমগ্র অস্ট্রিয়াতে করোনার প্রতিষেধক টিকার প্রথম ডোজ দেয়া হয়েছে ১,৬৪০ ডোজ এবং আজ করোনার প্রতিষেধক টিকার তৃতীয় বা বুস্টার ডোজ নিয়েছেন ৮,৫৪১ জন।অস্ট্রিয়াতে এই পর্যন্ত করোনার প্রতিষেধক টিকার দুই ডোজ গ্রহণ করেছেন মোট ৬৩,২৮,২৯৩ জন,যা দেশের মোট জনসংখ্যার শতকরা ৭০,৯ শতাংশ।

অস্ট্রিয়ায় এই পর্যন্ত করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১২,৮৮,৮২৯ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ১৩,৭৫৯ জন। করোনার থেকে এই পর্যন্ত আরোগ্য লাভ করেছেন মোট ১২,৪০,৭৪০ জন। বর্তমানে করোনার সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ৩৪,৩৩০ জন। এর মধ্যে আইসিইউতে আছেন ৩২০ জন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ১,০১৭ জন।বাকীরা নিজ নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন।

 14,847 total views,  1 views today