করোনার ওমিক্রোন ধরনের তরঙ্গের পরে ইউরোপে করোনা মহামারী শেষ

বর্তমান করোনার ওমিক্রোন ওয়েভের পর ইউরোপে করোনা মহামারীর অবসান সম্ভব বলে মনে করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা “হু”(WHO)

কবির আহমেদ, ইউরোপ ডেস্কঃ গতকাল রোববার ২৩ জানুয়ারি ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি -এর সাথে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ইউরোপের প্রধান ডা.হান্স ক্লুজে একথা বলেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ইউরোপের প্রধান হান্স ক্লুজের মতে, “এটি প্রশংসনীয় যে,আমাদের ইউরোপ মহাদেশ মহামারীর শেষ পর্যায়ের দিকে এগিয়ে চলেছে।”  তবে একই সঙ্গে তিনি করোনা ভাইরাসে আরও কিছু মিউটেশন সৃষ্টির সম্ভাবনার  কথাও বলেছেন। তবে ওমিক্রোন ইউরোপে হালকা উপসর্গ নিয়ে একসাথে অনেক মানুষকে সংক্রামিত করায় মানুষের মন থেকে করোনার আতঙ্ক অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে এসেছে।

ক্লুজে ব্যাখ্যা করে বলেন যে, ইউরোপে বর্তমানে যখন করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রোন তরঙ্গ প্রশমিত হবে, তখন “কয়েক সপ্তাহ এবং মাসের জন্য বিশ্বব্যাপী অনাক্রম্যতা থাকবে, হয় টিকা দেওয়ার জন্য  বা এক সাথে অধিক মানুষ সংক্রমণের কারণে মানুষের মধ্যে এন্টিবডি তৈরির জন্য।” তাছাড়াও শীতের প্রকোপ কিছুটা কম হওয়ার ফলে আসন্ন বসন্ত এবং গ্রীষ্মকালীন সময়ে এই নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রোনের প্রকোপ আর তেমন জোড়ালো বা শক্তিশালী অবস্থায় নাও থাকতে পারে।

সুতরাং আমরা কোভিড -১৯ বছরের শেষের দিকে ফিরে আসার আগে একটি শান্ত সময়ের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি, তবে মহামারীটি অগত্যা ফিরে আসবে না,” ক্লুজে তার প্রত্যাশার কথা জানিয়ে তার সাক্ষাৎকার শেষ করেন।

এএফপি আরও জানায়,WHO এর অনুমান অনুসারে, বৃহত্তর ইউরোপের সমস্ত লোকের শতকরা ৬০ শতাংশ মানুষ আগামী মার্চ মাসের মধ্যে ওমিক্রোন বৈকল্পিক বা ধরনের দ্বারা সংক্রামিত হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আরও জানায় শুধুমাত্র ইউরোপেই নয়,বিশ্বের শতাধিকের উপরে দেশে বর্তমানে এই ওমিক্রোনের প্রাদুর্ভাব চলছে।

ওমিক্রোন অত্যন্ত সংক্রামক, কিন্তু পূর্ববর্তী গবেষণা অনুসারে, এটি সাধারণত পূর্বের ভাইরাস বৈচিত্রের তুলনায় হালকা কোর্সের সাথে রোগ সৃষ্টি করে।  করোনা মহামারী শুরু হওয়ার দুই বছর পর, বর্তমান ওমিক্রোন ওয়েভ চলাকালীন, ক্রমবর্ধমান আশা করা হচ্ছে যে করোনা একটি মহামারী থেকে একটি স্থানীয় সংক্রমণে বিকশিত হবে, যা ফ্লুর মতো স্থায়ী এবং ঘন ঘন সীমিত অঞ্চলে বা বিশ্বের জনসংখ্যার কিছু অংশে ঘটবে বা থেকে যাবে।

ক্লুজে এএফপিকে আরও বলেছেন: “এন্ডেমিক সম্পর্কে অনেক কথা বলা হয়েছে, কিন্তু এন্ডেমিক মানে (…) যা ঘটবে তা ভবিষ্যদ্বাণী করা সম্ভব।”  Sars-CoV-2 করোনাভাইরাস “আমাদের একাধিকবার অবাক করেছে, তাই আমাদের খুব সতর্ক থাকতে হবে”।  করোনার বিরুদ্ধে বর্তমানে বুদ্ধিমান কৌশল সম্পর্কে, ক্লুজ বলেছিলেন যে সংক্রামক সীমাবদ্ধ করার দিকে মনোনিবেশ করার পরিবর্তে, বর্তমানে বিশেষভাবে দুর্বল লোকদের সুরক্ষার দিকে মনোনিবেশ করা উচিত।

এদিকে আজ অস্ট্রিয়ায় নতুন করে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন ২৫,৬১০ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ৯ জন। রাজধানী ভিয়েনায় আজ নতুন করে সংক্রামিত শনাক্ত হয়েছেন ৭,১২৭ জন। অস্ট্রিয়ায় বৈশ্বিক মহামারী শুরুর পর বর্তমানে রেকর্ড সংখ্যক মানুষ করোনায় আক্রান্ত হলেও তেমন কেহ হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন না ফলে অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সহ আইসিইউ বেড অত্যন্ত সুরক্ষিত আছে বলে অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন।

অন্যান্য ফেডারেল রাজ্যের মধ্যে OÖ রাজ্যে ৪,৩২৯ জন, NÖ রাজ্যে ৪,০০০ জন, Steiermark রাজ্যে ৩,৭২৯ জন, Tirol রাজ্যে। ২,১১৮ জন, Salzburg রাজ্যে ১,৫২৪ জন, Kärnten রাজ্যে ১,১৯২ জন, Vorarlberg রাজ্যে ৯৪৭ জন এবং Burgenland রাজ্যে ৬৪৪ জন।

অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী আজ সমগ্র অস্ট্রিয়াতে করোনার প্রতিষেধক টিকার প্রথম ডোজ গ্রহণ করেছেন ১,১১৫ জন এবং করোনার বুস্টার ডোজ গ্রহণ করেছেন ৬,২২৭ জন। করোনার দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণ করেছেন ৬৪,৪৪,৭৪২ জন,যা দেশের মোট জনসংখ্যার শতকরা ৭২,১৫ শতাংশ।

অস্ট্রিয়ায় এই পর্যন্ত করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১৬,২৫,৬৫১ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ১৪,০০০ জন। করোনার থেকে এই পর্যন্ত আরোগ্য লাভ করেছেন মোট ১৩,৯২,৫৩৩ জন। বর্তমানে করোনার সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ২,১৯,১১৮ জন। এর মধ্যে আইসিইউতে আছেন ১৮৭ জন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ১,২০০ জন। বাকীরা নিজ নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন।

 14,803 total views,  1 views today