বৃটিশ বাংলাদেশী সিলেটের যাত্রীদের ট্রান‌জিট ফ্লাইটের কোন ব্যবস্হা রাখা হয়নি,প্রবাসীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ

আলী বেবুল, লন্ডন থেকেঃ কোভিড-১৯ করোনাভাইরাসের পরিস্হিতিতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যে লকডাউনে আটকে পড়া বাংলাদেশী নাগরিকদের সুবিধার জন্য বাংলা‌দেশ সরকার বিমান বাহিনী ও‌য়েল‌ফেয়ার ট্রা‌ষ্ট্রের মাধ‌্যমে শুধ‌ুমাত্র ঢাকা থে‌কে একটি বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্হা করেছে। ফ্লাইটটি আগামী ১০ই মে হিথরো এয়ারপোর্টে আসবে এবং একই দিন ঢাকা ফিরে যাবে। বাংলা‌দেশ সরকার এ‌ক্ষেত্রে ভাড়া নির্ধারন ক‌রে‌ছে ই‌কোনমি ক্লা‌সেই নুন‌্যতম এক লাখ টাকা। অথচ ঢাকাস্হ ব্রিটিশ হাইকমিশন বাংলা‌দে‌শে আট‌কে পড়া যাত্রীদের ফি‌রি‌য়ে নিতে প্রায় একমাস ধ‌রে বৃটিশ এয়ারওয়েজের বোয়িং উড়োজাহাজ দিয়ে সি‌লেট ও ঢাকা থে‌কে ৯টি বিশেষ ফ্লাইট প‌রিচালনা কর‌ছে । তারা সি‌লেট থে‌কে ট্রান‌জিট ফ্লাইট সহ ভাড়া নি‌য়েছে ৬০০ পাউন্ড যা বাংলা‌দেশী টাকায় ৬৩ হাজার টাকা।

যেসকল বৃটিশ বাংলাদেশী বৃটিশ এয়ারওয়েজের শেষ ফ্লাইটের ( ৭মে) টিকিট পান নি তারা বাংলাদেশ বিমানের ১০ মে’র ফ্লাইটে দেশ থেকে লন্ডন আসার জন্য রেজিস্ট্রেশন করছেন। কিন্তু বৃটিশ এয়ারওয়েজের চেয়ে বাংলাদেশ বিমানের ভাড়া ৩৭ হাজার টাকা বেশী। তাও আবার সি‌লেট থে‌কে ট্রান‌জিট সু‌বিধা ছাড়াই। এ ক্ষেত্রে সিলেটের যাত্রীদের বিষয়টি কোন বিবেচনায় নেয়া হয়নি। বৃটিশ এয়ারওয়েজের চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়ায় বাংলাদেশ বিমানের এ ফ্লাইটে ভাড়া নেয়ায় যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাংলাদেশীরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। উল্লেখ্য,বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ১৯৯০ সালে অভিবাসীদের সেবা কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বিএমইটি’র অধীনে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড প্রতিষ্ঠা করে। উক্ত বোর্ডের মাধ্যমে প্রবাসীদের বিভিন্ন সাহায্য ও সহযোগিতার কথা বিশদ ভাবে বলা হয়েছে। করোনার কারণে বাংলাদেশের কমার্শিয়াল ফ্লাইট বন্ধের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশে আটকা পড়েন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রায় কয়েক হাজার বৃটিশ নাগরিক। এদের মধ্যে অধিকাংশই বাংলাদেশ বিমানে রিটার্ন টিকেট করে দেশে গিয়েছিলেন। এসকল যাত্রীরা রিটার্ন টিকিটের অর্থ ফেরত পাবেন কি না তা নিয়েও তাদের মধ্যে রয়েছে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ।

প্রবাসীরা দাবী করেছেন, বৃটিশ এয়ারওয়েজের মতো বাংলাদেশ বিমানের টিকেটের মূল্য নির্ধারণ করা অথবা ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড থেকে এসব টিকেটে ভর্তুকির ব্যবস্হা রাখা উচিত। এছাড়া করোনার আগে লন্ডন থেকে যারা নাড়ির টানে বেড়াতে কিংবা প্রয়োজনে বাংলাদেশে গিয়েছিলেন বাংলাদেশ বিমানের রিটার্ন টিকেট নিয়ে তাদেরকে লন্ডন ফেরত নিয়ে আসতে বিমানের আর কোন পরিকল্পনা ও উদ্যোগ গ্রহণের কথা শুনা যাচ্ছে না। বাংলাদেশে আটকেপড়া বৃটিশ বাংলাদেশীরা এ ব্যাপারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী, বিমানমন্ত্রী এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রীর সর্বাত্মক সাহায্য ও সহযোগিতা কামনা করেছেন।

 

 5,677 total views,  1 views today