অষ্ট্রিয়ায় আনন্দ ও ভারাক্রান্ত পরিবেশে ঘরে ঘরে পবিত্র ঈদ উদযাপন অনুষ্ঠিত

 মাহবুবুর রহমান,সম্পাদকঃ দীর্ঘ ৩৬ বছর এই প্রবাস জীবনে অষ্ট্রিয়ায় প্রথম বারেরমত করোনাভাইরাসের কারনে এবার প্রথম ঘরে ঈদের নামাজ পড়তে হল , এ যে কত বেদনার তা বুঝাতে পারবোনা । ঈদ মানে আনন্দ । কিন্তু এবার ? উত্তর নাই । নিরবে শুধু অশ্রু বিসর্জন ।

অষ্ট্রিয়ান সরকারের আইন মেনে সবাই ঘরেই ঈদের নামাজ পড়তে হল । যদিও ছোট ছোট মসজিদ্ গুলি  সীমিত আকারে ঈদের জামাত করেছে । যা মোটেও আনন্দের ছিল না । মহান রাব্বুল আলামিনের নিকট এই প্রার্থনা আমদের এই আত্মত্যাগের মাধ্যমে যেন পৃথিবী থেকে এই করোনা তুলে নিয়ে আমাদিগকে মুক্তি দান করেন, আমিন ।

দুনিয়ার প্রত্যেক জাতির মধ্যে আনন্দ মাধ্যম হিসেবে বিভিন্ন উৎসব প্রাচীন যুগ থেকেই বিদ্যমান। তাদের ন্যায় মুসলমানদের জন্যও দু’টি উৎসব দিবস ধার্য করা হয়েছে। রসূলুল্লাহ (সা.) মক্কা থেকে মদীনায় হিজরত করলে সেখানে দেখতে পান যে, মদীনাবাসীরা দু’দিন আনন্দ উৎসব পালন করছে। তখন রসূলুল্লাহ (সা.) তাদের জন্য দু’টি ঈদের দিন ধার্য করেছেন, একটি ঈদ-উল ফিতর এবং অপরটি ঈদ-উল আজহা। অন্যান্য জাতির উৎসব অপেক্ষা ইসলামের এই দুইটি দিন সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও অতি উত্তম। হিজরী দ্বিতীয় সালে রসূলুল্লাহ (সা.) এ মহান ঈদের কথা ঘোষণা করেন।

ঈদের বৈশিষ্ট্য শাশ্বত, এর আদর্শ শিক্ষা চিরন্তন এবং এর আবেদনও অনাবিল। অন্য কোনো ধর্মে ঈদের এই তাৎপর্য, বৈশিষ্ট্য ও মাহাত্ম্য পরিলক্ষিত হবে না। ঈদের এই গৌরব কেবল মাত্র মুসলিম জাতির জন্য নির্ধারিত, মুসলমানগণই ঈদের তাৎপর্য অনুধাবন করতে পারে এবং তারাই এর মৌলিক আদর্শ মূল্যায়ন করতে সক্ষম। এর শিক্ষা অনুসরণ করে তারা নিজেদের জীবনকেও সার্থক এবং সাফল্যমন্ডিত করতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, বর্তমান বিশ্বে ঈদের যথার্থ আদর্শ কতটুকু গ্রহণ করা হচ্ছে? কেবল আনুষ্ঠানিকতা ও লৌকিকতা ব্যতীত মুসলিম উম্মাহ ঈদের আদর্শ হতে বহুদূরে সরে গিয়েছে। আমাদের দেশেও দেখা যায়, আনুষ্ঠানিকতা প্রদর্শন ও অর্থব্যয়ের তীব্র প্রতিযোগিতার সাথে ঈদের আদর্শের কোনো মিল নেই। বরং ঈদের সাথে যোগ হয় ইসলামে নিষিদ্ধ অপচয় ও অন্যান্য শয়তানী কার্যকলাপের প্রতিযোগিতা। তাই সকলের উচিত, সত্যিকারের ঈদ আদর্শের অনুসরণ করা এবং অপচয় পরিহার করা।

বিশ্ববাসী করোনা মহামারীর শিকার। এ মহা বিপর্যয় থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য মহান আল্লাহর শরানাপন্ন হওয়া ব্যতীত গত্যন্তরনেই। বিশেষভাবে দুনিয়ার সকল মুসলিম সমাজকে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে না পারায় মাতম না করে সর্বশক্তিমান আল্লাহর দরবারে এ বিপদ মুক্তির জন্য দোয়া-মোনাজাত করতে হবে। 

 7,195 total views,  1 views today