বিদেশী হাইব্রীড রসুনের দাপটে এক সময়ের বাংলার সাদাসোনা খ্যাত দেশী রসুনের রাজত্ব আজ বিলীনের পথে

 সাব্বির আলম বাবু, প্রতিনিধিঃ কৃষকের ন্যায্য মূল্য না পাওয়া, অতিমাত্রায় আমদানী নির্ভরতা ও বিদেশী হাইব্রীড রসুনের দাপটে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল ও এক সময়ের সাদাসোনা খ্যাত দেশী রসুনের রাজত্ব আজ বিলীনের পথে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, মানবদেহে সর্বরোগের মহৌষধ হচ্ছে রসুন। রন্ধন শিল্প থেকে শুরু করে বিভিন্ন ঔষধ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রী তৈরীতে অত্যাবশকীয় উপাদান রসুন। অথচ বীজ সংগ্রহ থেকে শুরু করে উৎপাদন খরচ না উঠায় নিরুৎসাহিত হচ্ছে কৃষক। বর্তমানে অতি মাত্রায় আমদানী নির্ভরতার কারনে বিদেশ থেকে বড় আকারের রসুন এসে দেশী ছোট আকারের রসুনের বাজার দখল করছে। ব্যবহারের সুবিধার কারনে ও তুলনামুলক কম দামে সহজে পাওয়া যায় বিধায় বিদেশী বড় রসুনের চাহিদা বাড়ছে।                                                     

অপর দিকে দাম বেশী, আকারে ছোট ও উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাজারে মার খাচ্ছে দেশী রসুন। এতে বেকায়দায় পড়ছে প্রান্তিক কৃষকরা। যার কারনে তারা রসুন আবাদে নিরুৎসাহিত হচ্ছে। রসুন চাষী নবকুমার জানান, রসুন রান্নার স্বাদ, গন্ধ ও রুচি বৃদ্ধিতে অনেক ভূমিকা রাখে। সাধারনত আমাদের দেশে বারি রসুন-১ও ২, বাউ রসুন- ১ও ২, ইতালী, আউশীর দেশী জাতের রসুনের চাষ হয়। কৃষি তথ্যমতে, বাংলাদেশের ৬৬ হাজার একর জমিতে রসুন চাষ হয়। বছরে প্রায় ১০২ হাজার টন রসুন উৎপাদন হয় যা দেশের চাহিদার শতকরা ৪ ভাগ পুরন হয়।                                             

কৃষক ভবেশ জানান, জমিতে রসুনের বীজ বোনার পর তা পরিপক্ক হয়ে রসুন গাছের পাতা শুকিয়ে যখন বাদামী রং ধারন করে তখন রসুন তোলার উপযোগী হয়। গাছ সহ রসুন তুলতে হয়। ঐ অবস্থায় কিছুদিন রোদে রেখে দিলে শুকিয়ে যাওয়া মরা পাতা কেটে রসুন সংরক্ষণ করা হয়। ঠিক মতো পরিচর্যা করলে প্রতি হেক্টর জমিতে ১০/১২ টন ফসল পাওয়া যায়। সরেজমিনে দেখা যায়, মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশে রসুনের বাজার চিত্র পাল্টে গেছে। চীন ও ভারত থেকে আমদানীকৃত রসুনে বাজার সয়লাব। যেখানে বিদেশী রসুনের দাম প্রতি কেজি ১০০/১১০ টাকা সেখানে দেশী রসুনের দাম প্রতি কেজি ১৪০/১৪৫ টাকা। পুষ্টিবিদদের মতে, দেশী রসুনের পুষ্টি ও ঔষধিগুণ বিদেশী রসুনের থেকে অনেক উন্নত মানের।                          

এছাড়া রসুনে আমিষ, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন সি পাওয়া যায়। নিয়মিত রসুন ব্যবহারে অর্জীনতা, পেট ফাপা, শুলবেদনা, ফুসফুসের রোগ, হৃদরোগ, বদহজম, সর্দি, কাশি, অর্শ, কৃমি, বাতরোগ, চর্মরোগ ইত্যাদি রোগে উপকার পাওয়া যায়। পাশাপাশি এটি বলবর্ধক ও শুক্রবর্ধক বলেও পরিচিত। স্থানীয় রসুন চাষীদের দাবী, অতি মাত্রায় আমদানী নির্ভরতা কমিয়ে সরকারী ও বেসরকারী ভাবে যেন তাদের রসুন আবাদে উন্নত প্রশিক্ষন ও সহজ শর্তে ঋন প্রদান করা হয় যাতে তারা এটি চাষে আরো উৎসাহিত হয়। তাহলে দেশের অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল এক সময়ের সাদাসোনা খ্যাত দেশী রসুন তার হারানো রাজত্ব ফিরে পাবে।

 5,111 total views,  1 views today