করোনা মোকাবেলায় একমাত্র উপায় আত্ম সচেতনতা

 মোঃ সোয়েব মেজবাহউদ্দিনঃ গত মার্চ মাস হতে করোনাভাইরাসের করাল গ্রাসে সারা বিশ্ব দিশেহারা। লক্ষ লক্ষ প্রান কেড়ে নিয়েছে এই করোনা নামক অদৃশ্য এক মহামারী। আপ্রান চেষ্টা চলছে এই করোনার হাত থেকে বাঁচার। জ্ঞানীগুনী চিকিৎসকরা ভেকসিন আবিস্কারের চেষ্টা করে যাচ্ছে। কবে এই মাহামারী শেষ হবে কেউ বলতে পারছে না। আতংকের মধ্যে চলছে জীবন যুদ্ধ। করোনা মহামারী স্থবির করে দিয়েছে মানুষের স্বাভাবিক জীবন যাত্রা। ধ্বংশ হয়ে গেছে সারা বিশ্বের অর্থনীতি। অনেকে বেঁচে থাকার জন্য ঘরে বসে আছে। আবার অনেক বেঁচে থাকার জন্য জীবিকার তাগিদে রাস্তায় নেমে পরেছে । ঘরে বসে থাকলে খাবার না পেয়ে না খেয়ে মরতে হবে। সরকারের একার পক্ষে বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের ঘরে ঘরে খাবার পৌছে দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। কর্মহীন হয়ে পরেছে বহু মানুষ। বেতন দিতে পারছে না বহু প্রতিষ্ঠান। আবার কর্মস্থানে গিয়েও আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে মানুষ। প্রতিদিন বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা, বাড়ছে মৃতের সংখ্যাও। অনেক মধ্যবিত্ত মানুষ কর্মহীন হয়ে কোন মতে খেয়ে না খেয়ে বেঁচে আছে।                    

সরকার কিছু অর্থলোভী মানুষের জন্য সঠিকভাবে ত্রান বিতরন করতে পারছে না। সরকার বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের কোটি কোটি টাকার প্রনোদান প্যাকেজ ঘোষনা করেছে। মানুষ জীবন বাচাঁনোর তাগিদে কর্মের জন্য রাস্তায় নেমে পেরেছে। সাধারন পরিবহন বন্ধ, পরিবহনের শ্রমিক কর্মচারীরা হাহাকার করছে। বিভিন্ন শপিং মল বন্ধ। কর্মচারীরা হাহাকার করছে। তাই সরকার বাধ্য হয়ে অফিস আদালত, শপিং মল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে দিয়েছে। গন পরিবহন সীমিত পরিসরে চালুর ব্যবস্থা করেছে। তবে সকল কিছু স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী না চললে সাধারন জনগন করোনা ভাইরাসে বেশী করে আক্রান্ত হবে। তাই জীবিকার তাগিদে অফিস আদালত, শপিং মল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যারা কাজ করবেন, তাদের জীবনের নিরাপত্তা নিজেকে নিতে হবে। সকল মানুষের জীবনের নিরাপত্তা সরকার দিতে পারবে না। যতক্ষন না পর্যন্ত আমরা নিজেরা নিজেদের জীবনে সম্পর্কে সচেতন না হব।                                                  

মানুষের প্রতিটা দিন কাটছে আতংকের মধ্যে। সর্বস্থরের মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পরেছে করোনা ভাইরাস। লক্ষন দেখা দিলে ফোন করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে। লাইনে দাড়াচ্ছে করোনা টেষ্ট করতে। কেউ জানে না এর শেষ কোথায়। কবে আমরা ফিরতে পারব সেই স্বাভাবিক জীবনে। একমাত্র আল্লাহই ভরসা। ক্যানসার, ডেঙ্গু, এইডসএর মত করোনা ভাইরাসও স্থায়ীভাবে আমাদের সমাজে জায়গা করে নিয়েছে। তাই এই করোনা ভাইরাস সহজে নির্মূল হবে না। কারন এখন পর্যন্ত কোন ভ্যাকসিন আবিস্কার হয়নি।                                               

তাই চিকিৎসকরা করোনা আক্রান্ত রোগীদের বিভিন্ন পদ্ধতিতে ঔষধ প্রযোগ করে সুস্থ্য করার চেষ্ঠা করছে। গরম পানির ভাপ নেওয়া, ভিটামিন এ জাতীয় ফলমুল খাওয়া, গরম পানিতে লবন দিয়ে গরগরা করা ইত্যাদি। যা করোনা ভাইরাস নির্মূল করা প্রচেষ্ঠা। সম্প্রতি করোনা হতে সুস্থ্য হওয়া রোগীর প্লাজমা থ্যাপারি দিয়েও করোনা আক্রান্ত রোগীদের সুস্থ্য করার চেষ্ঠা করা হচ্ছে। যেহেতু এই করোনা ভাইরাস সহজে নির্মূল হবে না তাই আমাদের সকলের উচিত আত্ম সচেতন হওয়া। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বাংলাদেশ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা মেনে চলা। প্রতিদিন নিয়মিত সাবান পানি দিয়ে হাত ধোয়া, নিরাপদ দুরত্ব বজায় রেখে চলাচল করা। কোলাকুলি বা হ্যান্ডসেক না করা, জরুরী প্রয়োজন ছাড়া এদিক সেদিক ঘোড়াঘুড়ি না করা। কোন প্রকার জনসমাগম না করা। মাক্স ব্যাবহার করা, হ্যান্ড গ্লোভস ব্যবহার করা। হান্ড সেনিটাইজার বা সাবান দিয়ে ঘনঘন হাত ধোয়া। সকলকে বলবো, জীবন আপনার, আপনার এই মুল্যবান জীবন বাচাঁনোর দায়িত্বও আপনার। আপনার একটু অচেতনতা আপনার মুল্যবান জীবন চলে গেলে কাহারো কিছ্ইু করার থাকবে না। তাই আসুন আমরা সকলে “বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বাংলাদেশ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্য বিষয়ক নির্দেশনা মেনে চলি, মুল্যবান জীবন বাচাঁই।

 6,212 total views,  1 views today