ফুলচাষের মাধ্যমে গ্রাম বাংলার রঙবাহারী ফুলের সম্ভার টিকে থাকার পাশাপাশি হতে পারে বিকল্প কর্মসংস্থান

 সাব্বির আলম বাবু ,সমাচার প্রতিনিধিঃ অযত্ন, অবহেলা আর যান্ত্রিক জীবনযাত্রায় হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার রঙবাহারী ফুলের সম্ভার। অথচ পবিত্রতার প্রতীক এই দেশীয় নানাজাতের ফুল সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় চাষ ও সংরক্ষনের মাধ্যমে হতে পারে অন্যতম অর্থকরী ফসল। একটি প্রষ্ফুটিত ফুলের নানাবিধ ভূমিকা থাকে। আমরা হয়তো সাধারনভাবে ফুলের রুপ-সুগন্ধ থেকে মনোরঞ্জনের খোরাক পাই কিন্তু সুক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, ফুলের নার্সারী ব্যবসা বা ফুলের চাষ বেকারদের কর্মসংস্থান ও জীবিকা নির্বাহের পথ সৃষ্টি করে।                             

অন্যদিকে ফুল থেকে তৈরী হয় উৎকৃষ্ট সুগন্ধি আতর, বডি স্প্রে এবং বিভিন্ন রকমের হোমিওপ্যাথি ও এলোপ্যাথি ঔষধ। যেকোন অনুষ্ঠান, কোন জন্মদিন, বিয়ে, কোন বিশেষ দিবস পালন, কোন বিশেষ ব্যক্তির বরন বা বিদায়, তরুন-তরুনীর ভালবাসার প্রকাশ সহ সৌন্দর্য পিপাসু মানষের কাছে সমাদৃত ফুল। সৌন্দর্যে -সৌরভে ফুল শুধু মানুষকেই নয় বিহঙ্গ, প্রজাপতি, মৌমাছি সহ প্রকৃতির সকলকেই আকর্ষণ করে। চিরায়ত বাংলার পরমা প্রকৃতি এত বর্নালী ও সৌরভময় তো বাহারী ফুলের কারনেই। সর্বোপরি সকল ধর্মের অনুসারি এবং পবিত্র গ্রন্থ সমূহেও ফুলের একটা বিশেষ স্থান উল্লেখ আছে।

পাশাপাশি ফুলের কথা কবিতার উপমা, গানের ছন্দতেও নানাভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। ঋতু পরিক্রমায় প্রায় সারা বছরই বাংলাদেশের প্রত্যন্ত এলাকা, মেঠো পথের ধারে, মাঠে-ঘাটে, বন-পাহাড়ে অসংখ্য ফুল ফোটে। এসকল ফুলের বর্নবৈভব যেমন বিচিত্রতায় ভরা তেমনি সংখ্যার দিক থেকেও দীর্ঘ। উদ্ভদ বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক তথ্যমতে, দেশে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার প্রজাতির পুষ্পতরু রয়েছে। অবশ্য এক্ষেত্রে তারা সুন্দর-অসুন্দরকে আলাদা করে দেখেননি। বিশাল সংখ্যক এসব পুষ্পতরু প্রকৃতিকে বর্নাঢ্য করে তুলেছে। আপাতদৃষ্টিতে ফুল প্রকৃতির অলংকারীক অনুষঙ্গ হলেও পৃথিবীর প্রানীবৈচিত্র্যের সঙ্গে তার গভীর সংযোগ। বর্তমানে দেশে ফুল বিশেষ অর্থকরী পণ্য হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছ। বর্তমানে দেশের উপকূলীয় এলাকার বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় বানিজ্যিক ভাবে ফুলের চাষ হচ্ছে।

এগুলো বিক্রি হচ্ছে লাখ লাখ টাকায়। বাংলাদেশে মৃত্তিকার ধরন ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির কারনে অঞ্চল ভেদে বিশেষ কিছু পুষ্পতরুর আবাস গড়ে উঠেছে। পাহাড়, উপকূলীয় জেলা, নদী ও হাওরাঞ্চল, সমতলভূমি এবং শুষ্ক-রুক্ষ মাটির অঞ্চল গুলোতে এসব বিশেষ ধরনের ফুলগাছ চোখে পরে। প্রসঙ্গত ডুলিচাঁপার কথা বলা যায়। আশার বিষয় অনেকেই নার্সারীর মাধ্যমে সরাসরি জমিতে বিভিন্ন রকমের ফুলের চাষ করে সফল হয়েছেন এবং নিজে এই ফুল বিক্রি করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। বাজারে ফুলের ব্যাপক চাহিদাকে পুঁজি করে দেশের বিশাল সংখ্যক বেকার যুব সমাজ বানিজ্যিক ভাবে ফুল চাষকে যদি পেশা হিসাবে নিতে পারে তাহলে ব্যাপক কর্মসংস্থানের পাশাপাশি দেশের হারিয়ে যেতে বসা নানা প্রজাতির রঙবাহারী ফুল আমাদের মাঝে সুবাস ছড়িয়ে মনকে সতেজ করে টিকে থাকবে।

 6,072 total views,  1 views today