অস্ট্রিয়া থেকে বৃটেন ভ্রমণে কিছুটা শিথিলতা করা হয়েছে

 অন লাইন ডেস্ক থেকে,কবির আহমেদঃ সতর্কতা সংকেত ৬ থেকে ৪ এ নামানো হয়েছে। আজ সোমবার ২৭ জুলাই যুক্তরাজ্যের জন্য ভ্রমণের সতর্কতা স্তর ছয় থেকে চারে নামিয়ে আনা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র অস্ট্রিয়ান সংবাদ সংস্থা এপিএ কে জানান যুক্তরাজ্যে করোনার সংক্রমণের সংখ্যা “তুলনামূলকভাবে নিম্নমুখী অর্থাৎ স্থিতিশীল অবস্থায় আছে।” অস্ট্রিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার নাগরিকদের বিদেশ ভ্রমণের সুরক্ষার জন্য যে ৬টি পর্যায় বা সতর্কতা জারি করে তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা নিম্নে বর্ণনা করা হল।         

সতর্কতা ১ এর অর্থ একটি সে দেশে “ভাল সুরক্ষা মান” বুঝায় তাই সে দেশে ভ্রমণে কোন বাধা নেই। ২ ও ৩ অনেকটা হলুদ সিগনালের মতো সতর্কতার সাথে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়। ৪ থেকে ৬ বিপদজনক হিসাবে ধরা হয়ে থাকে। সতর্কতা ৪ হলেই সে দেশে ভ্রমণ উচ্চ সুরক্ষার ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে দেখা হয়। একেবারে জরুরী প্রয়োজন ছাড়া ভ্রমণ করতে বারণ করা হয়। সতর্কতা সংকেত ৫ হলে উপদ্রুত দেশে যেতে নিষধ করা হয়। পররাষ্ট্র দফতরের মতে, এর কারণগুলির মধ্যে প্রাণহানীদের সহিংস সংঘর্ষ, সন্ত্রাসী হামলার উচ্চ ঝুঁকি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ (আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণ, ভূমিকম্প, বন্যা) এবং ব্যক্তিগত আঘাত এবং সম্পত্তির ক্ষতি বা মহামারীসহ শিল্প দুর্ঘটনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আর সতর্কতা সংকেত ৬ হল সর্বোচ্চ সতর্ক বার্তা। সতর্কতা ৬ হলে সেই দেশে ভ্রমণের উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় এবং উপদ্রুত দেশে অবস্থিত অস্ট্রিয়ান নাগরিকদের দ্রুত সে দেশ ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়ে থাকে।                               

সাধারণত যেসব কারনে সতর্কতা সংকেত ৬ জারি করা হয়, উদাহরণস্বরূপ, যুদ্ধের মতো পরিস্থিতি, সামরিক আইন জারি , যুদ্ধ, গৃহযুদ্ধ বা মহামারীর কারনে। যদি সে দেশে কোন অস্ট্রিয়ান দূতাবাস না থাকে তাহলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের যে কোনও দেশের দূতাবাসের সাহায্য নিতে পারবে। অস্ট্রিয়া বাংলাদেশের জন্য তার নাগরিকদের জন্য সতর্কার সর্বোচ্চ সংকেত ৬ জারি অব্যাহত রেখেছে। গত ২৪ ঘন্টায় অস্ট্রিয়ায় মোট ৮৬ জন নতুন করে করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন এবং একজন মৃত্যুবরণ করেছেন। অস্ট্রিয়ায় বর্তমানে করোনার হট স্পট হয়ে দাড়িয়েছে সালজবুর্গের অপরুপ নৈসর্গিক পর্যটন কেন্দ্র Wolfgang See বা লেক। সেখানে গত দুইদিনে প্রায় ৫৩ জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ সনাক্ত হয়েছে এবং এই সংখ্যা আরও বাড়ার আশংকা রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদ সংস্থা এপিএ জানান, যাহারা গত দুই সপ্তাহের মধ্যে Wolfgang See ড্রমণ করেছেন তারা যেন অতিসত্তর করোনার পরীক্ষা করান।                      

অস্ট্রিয়ায় এই পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২০,৫৫৮ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ৭১৩ জন। করোনার থেকে আরোগ্য লাভ করেছেন ১৮,২৪৬ জন। বর্তমানে করোনার সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ১,৫৯৯ জন। এর মধ্যে আইসিইউতে আছেন ১৫ জন এবং হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি আছেন ১০২ জন। অবশিষ্টরা নিজ বাসায় আইসোলেশনে আছেন।

 7,223 total views,  1 views today