শান্তির প্রতীক কবুতর পালন হতে পারে অনেক বেকারের স্বাবলম্বী হওয়ার মাধ্যম

 সাব্বির আলম বাবু,সমাচার প্রতিনিধিঃ কবুতর  শান্তির প্রতীক। এই শান্তির প্রতীককে গৃহে পালন করে অনেকে যেমন নিজের শখ পূরণ করছেন তেমনি একে বানিজ্যিক ভাবে ব্যবহার করে স্বাবলম্বীও হচ্ছেন। ইতিহাস বলে, এক সময় বিশেষ ধরনের কবুতর আভিজাত্য শ্রেণীর মানুষের বার্তা আদানপ্রদান বা যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ছিল। ৫ থেকে ৭শ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েও বার্তা লিখিত কাগজ বা কাপড়, গলায় বা পায়ে বাঁধা অবস্থায় কবুতর ঠিকই পৌঁছে যেত নির্দিষ্ট গন্তব্যে। উঁচুতে দীর্ঘক্ষন উড়তে পারদর্শী এই জাতের কবুতরের নাম ব্লু রেসার বা সুনীল ধাবক। তবে এখন ডিজিটাল যুগে সেই দৃশ্য দেখা না গেলেও কবুতর পালন করছেন এরকম লোকের সংখ্যা অনেক রয়েছে।                                                             

মানুষ স্বভাবতই শখের দাস। একেক ব্যাক্তির একেক রকম আলাদা বৈচিত্রময় শখ থাকে। কেউ পাখি প্রেমী, কেউ পশু প্রেমী, কেউ বিভিন্ন দেশের পুরাতন-নতুন মুদ্রা সংগ্রহ করে তৃপ্তি পায়, কেউ দেশ-বিদেশের নতুন-পুরাতন ডাকটিকেট সংগ্রহ করে আনন্দ পায় ইত্যাদি বিষয়ে সবারই কম বেশী শখ থাকে। আর এই যদি সফলতা বা অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতার মাধ্যম হয় তাহলেতো কথাই নেই। বিভিন্ন জাতের কবুতর পালন করে নিজের ভাগ্য বদলে ফেলেছেন এমন অনেকেই রয়েছেন। এক সময়কার শখের কবুতর পালন এখন ধীরে ধীরে বানিজ্যিক শিল্পে রুপ নিচ্ছে। কবুতরের ব্যবসা করে অনেক বেকার নিজে যেমন স্বাবলম্বী হচ্ছেন তেমনি হচ্ছে বাড়তি আয়ের বিকল্প। কবুতর পালনকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যেতে কাজ করছেন অনেকেই।

বাংলাদেশের আবহাওয়া কবুতর পালনের জন্য খুবই উপযোগী। সরেজমিনে দেখা যায়, জাত বা প্রকার ভেদে বিভিন্ন রকমের কবুতরের রয়েছে আলাদা স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য। কোনটা দেখতে সুন্দর, কোনটা আকারে বড়, কোনটা উঁচুতে উড়তে পারে, কোনটা ডিগবাজি খায় ইত্যাদি। কবুতরপ্রেমী লাভলু জানান, তার কাছে ২৬-২৬ প্রজাতির কবুতর আছে। তিনি এর প্রসার আরো বৃদ্ধি করতে চেয়েছিলেন কিন্তু আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে তা সম্ভব হয়নি। ঠিক মতো যত্ন নিয়ে কবুতর পালন করলে যেকোন যুবক-যুবতী সাফল্য পেতে পারে।                                   

আরেক কবুতর প্রেমী সামসুদ্দিন জানান, দেশের হাটবাজারে বর্তমানে ৩০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চো ১০ হাজার টাকা দামের জোড়া কবুতর পাওয়া যায়। এ সকল কবুতর বানিজ্যিক উদ্দেশ্য প্রশিক্ষন নিয়ে পালন করলে প্রতি মাসে এক জোড়া বাচ্চা উৎপাদন করা সম্ভব। এভাবে নিয়মিত কবুতরের যত্ন নিয়ে পালন করলে অল্প দিনেই যে কোন বেকার যুবকই কবুতর ফার্মের মালিক হয়ে নিজেই সাবলম্বী হতে পারে। তাছাড়া কবুতর পালনে অল্প জায়গা ও স্বল্প পূঁজিই যথেস্ট। কবুতরের মাংশ ও ডিম খুবই পুস্টিকর খাদ্য।                                                   

কবুতর হাঁস-মুরগীর মতো সব খাবারই খায়। বাজারে বিভিন্ন প্রজাতির কবুতর পাওয়া যায়। যেমন- জেকোবিন, ময়ূরাক্ষী, চিয়াচুল্লী, কাচকোরা, সবুজ ডানা, কৃষ্ণ, কোকো, লোটন, ব্লু রেসার, মুক্ষি, সিরাজী, জালালী, ম্যাগপাই পটার, বোম্বাই, কালপোরা, কালধুম, বোখারা, ফিলব্যাক, বিউটি হোমার, লাক্ষ্যা, গ্রীবাজ প্রভৃতি।                         

এ সকল বিভিন্ন জাতের কবুতরের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যও বিভিন্ন হয়ে থাকে। যেমন- গ্রীবাজ খোলা আকাশে ডিগবাজি খায়, লোটনের মাথায় হাত দিলে মাটিতে লুটোপুটি খায়, সিরাজী আকারে বড়, বোম্বাই আগুন রঙা, বিখ্যাত সুফি সাধক হযরত শাহজালাল (রাঃ) সিলেটে আসার সময় সঙ্গে করে এক জোড়া কবুতর এনেছিলেন তাই সেই প্রজাতির কবুতরকে জালালী বলা হয়। কবুতর প্রেমী ও বেকার যুবক-যুবতীদের দাবী, সরকার যদি কবুতর ফার্মকে পোল্ট্রি ব্যবসার অন্তর্ভুক্ত করে ব্যাংক ঋন সহ অন্যান্য পৃষ্ঠপোষকতা দেয় তাহলে দেশের অনেক বেকার যুবক-যুবতিদের স্বাবলম্বিতার এর পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও ভূমিকা রাখতে পারবে।

 6,471 total views,  1 views today